টালিগঞ্জ বিধানসভা এলাকার নয়টি ওয়ার্ডে মোট ৩১৫টি বুথ রয়েছে। সবকটি বুথেই মানুষের ভোট দেওয়ার প্রবণতা সকাল থেকেই যথেষ্ট বেশি তা লক্ষ্য করা গেছে, এমনকি সকালে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেও মানুষ মাথায় ছাতা নিয়েও লাইন দিয়ে ভোট দিয়েছেন।
দুর্নীতি এই নির্বাচনে বিষয় হয়েছে বলে মনে করছেন ভোটদাতাদের একাংশ। আবার এসআইআর হেনস্তার বিরুদ্ধে ভোট হয়েছে বলে মত দিয়েছেন অনেকেই।
টালিগঞ্জ কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী পার্থ প্রতিম বিশ্বাস বলছেন, ‘‘সংখ্যার বিচারেও বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন। স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা গিয়েছে। নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছেন অনেকটাই। তার প্রভাব ভোটদানের হারে পড়েছে।’’
এই কেন্দ্রে মূলত উদ্বাস্তু এলাকার মানুষ, যারা বর্তমানে মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত, তাঁদের মধ্যে ভোটদানের হার বেশি থেকেছে। সেই সঙ্গে , জেন-জি তথা নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যেও ভোটদানের প্রবণতা যথেষ্ট পরিমাণে লক্ষ্য করা গিয়েছে।
পার্থ বিশ্বাস বলছেন, ‘‘ভোট প্রচারের সময় লক্ষ্য করছিলাম প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার চোরাস্রোত রয়েছে। সম্ভবত সেটিও ভোট দেওয়ার আগ্রহ বাড়ানোর একটি কারণ। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে পনের বছর যারা রাজ্যের সরকারের তাঁদের দুর্ভাবনার কারণ রয়েছে।’’
অনেকে মনে করছেন, ভোট না দিলে পরবর্তী কালে নাগরিকত্বের সমস্যায় পড়ার আশঙ্কাও ভোটদানের হারে প্রভাব ফেলেছে।
পার্থ বিশ্বাস বলছেন, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনী বা নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার বাইরেও মানুষের সচেতনতা বড় বিষয় হয়েছে। রাজ্যে তৃণমূল সরকারকে ঘিরে অধৈর্য হয়ে পড়ার মনোভাব প্রচারে দেখা গিয়েছে।’’ তিনি বলেছেন, ‘‘মানুষ গণাতন্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে চাইছিলেনই। কেন্দ্রীয় বাহিনী বা সুরক্ষা বন্দোবস্ত অনুঘটকের কাজ করেছে।’’
তিনি বলছেন, ‘‘ভোটের দিন কমিশন যে ভূমিকা নিয়েছে ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে কিন্তু সেই ভূমিকা ছিল না। সেক্ষেত্রে আরও অনেক বেশি মানুষ গণাতন্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পেতেন।’’
Comments :0