বাংলার মানুষ কি সরকারের কাছ থেকে মন্দির মসজিদ নির্মাণের কাজ প্রত্যাশা করে? কাজ আর রোজগারের এই সঙ্কটে, শিক্ষা স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর বেহাল দশায় বাংলার মানুষের প্রকৃত সঙ্কটের চিত্র এবং তার থেকে উত্তরণের জন্য প্রকৃত প্রত্যাশাগুলি মূলধারার মিডিয়াতে প্রতিফলিত হয়নি। কিন্তু গণআন্দোলনের রাস্তায় জোরের সঙ্গে উচ্চারিত হয়েছে। গত নভেম্বর মাস ডিসেম্বর মাসে রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণতম প্রান্তে বাংলা বাঁচাও যাত্রায় এবং তারপর পাড়ায় পাড়ায় বুথে বুথে বামপন্থী কর্মীদের ছোট ছোট বৈঠকে মানুষের মতামত উঠে এসেছে। একেবারে তলার স্তর থেকে মানুষের সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে আনার পাশাপাশি বামপন্থীরা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের মতামত সংগ্রহ করেছে সঙ্কট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে। রাজ্যের নতুন সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা এবং বামপন্থীরা এই প্রত্যাশা পূরণে কী করবে সেগুলির ঘোষণার মধ্যেই রয়েছে বাংলাকে বাঁচানোর স্বপ্ন ও সম্ভাবনা। ঘোর অন্ধকারের মধ্যে একমাত্র রূপালি রেখা।
১) ভাঁওতা নয় কাজ চাই,
চাই জীবিকার নিরাপত্তা
আজকের বাংলায় সঙ্কটের পয়লা নম্বরে রয়েছে কাজের হাহাকার। নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে বিজেপি’র প্রতিশ্রুতি ছিল বছরে ২কোটি বেকারের চাকরি দেবে তাদের সরকার। ১১ বছরে হওয়ার কথা ২২ কোটি মানুষের চাকরি। অর্থাৎ দেশে বুথ পিছু কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে চাকরি হওয়ার কথা ছিল ২০৯ জনের। দেখা গেছে কি কোনও রাজ্যে? সাম্প্রতিক ‘স্টেট অব ওয়ার্কিং ইন্ডিয়া, ২০২৬’ রিপোর্ট বলছে, দেশের উচ্চ শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের সমস্যা চরম সঙ্কটের রূপ নিয়েছে। ২৫ বছরের কম বয়সি স্নাতকদের প্রায় ৪০ শতাংশ বেকার। আর যাঁরা কাজ করছেন তাঁদের সিংহভাগেরই কাজের ক্ষেত্রে কোনও নিরাপত্তা নেই, বেতনের নিরাপত্তা নেই, আজ কাজ আছে, তো কাল নেই।
এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও বলেছেন, আমরা ২ কোটি চাকরি দিয়েছি। প্রতি বছর ১৯ থেকে ৩৫ বছর বয়সিদের মধ্যে প্রায় ৪ লক্ষ বেকার যুবক যুবতী কাজের বাজারে আসেন। তাহলে পনেরো বছরে রাজ্যে ৬০ লক্ষ কাজের খোঁজে থাকা যুবক, যুবতীর সবার কাজ হয়ে গেছে? তাহলে মমতা ব্যানার্জির এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্কে লক্ষ লক্ষ যুবক, যুবতী এল কোথা থেকে? মমতা ব্যানার্জির হিসাব সঠিক ধরলে বুথ পিছু ২৪৮জনের চাকরি হয়েছে। তাঁরা কোথায়? রাজ্য থেকে ৫০ লক্ষের বেশি যুব কর্মসংস্থানের জন্য পরিযায়ী হয়ে ভিনরাজ্যে গিয়েছেন। লকডাউনে কাজ হারানো শ্রমিকদের হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল তৃণমূলের। পেয়েছেন মাত্র ১৮হাজার জন। রাজ্যে শিল্প নেই, তার উদ্যোগও নেই, কর্মসংস্থান তলানিতে এসে দাঁড়িয়েছে। সিঙ্গুরে কর্মসংস্থানমুখী শিল্প সম্ভাবনা ধ্বংস করে তৃণমূল সরকার এখন জল জমি জঙ্গল পাহাড় বেচে দিচ্ছে কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে। অধিকার হারাচ্ছেন মানুষ। কৃষির উন্নয়নের ভিতের ওপরে দাঁড়িয়ে বাংলা যে শিল্পোন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছিল তা গত দেড় দশকে তলিয়ে গেছে। যুবদের মধ্যে চড়া বেকারি ও আধা বেকারি শুধু অর্থনৈতিক নয়, ভয়াবহ সামাজিক সঙ্কটও সৃষ্টি করছে, অপরাধের ঘটনা বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মতো চা বিক্রি করে কিংবা মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ মতো তেলেভাজা বিক্রি করে বাংলার সঙ্কট মিটবে না তা এখন স্পষ্ট বাংলার মানুষের কাছে।
তাহলে উপায়? ‘ভাঙা বুকের পাঁজর দিয়ে নয়া বাংলা গড়তে’ কী বলছে বামপন্থীরা?
শিল্পায়ন, নিয়োগ ও কাজের নিরাপত্তা
• আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পাট, চা, চর্ম এবং ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা এবং চা বাগান খোলার জন্য কার্যকর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
• শুধু কলকাতা-হাওড়া নয়, প্রতিটি জেলায় নতুন শিল্পপার্ক তৈরি করে স্থানীয় স্তরে কাজের সুযোগ তৈরি করা হবে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে আবার দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ ঋণদান প্রকল্প, পণ্য বিপণনের জন্য নানাবিধ উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিল্প স্থাপনের জন্য জমির বন্দোবস্ত করা হবে।
• রাজ্যে শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার এবং ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে হলদিয়া বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকীকরণের পাশাপাশি একটি গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ে তোলা হবে।
• অস্থায়ী কর্মীদের যোগ্যতা এবং কাজের অভিজ্ঞতা বা সিনিয়রিটির ভিত্তিতে ধাপে ধাপে স্থায়ী করা হবে। নিয়োগ কমিশনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে সব সরকারি শূন্যপদ পূরণ করা হবে। কোনও দুর্নীতিকে বরদাস্ত করা হবে না।
• বেকার ভাতা প্রাপ্ত সকলের জন্য ভাতা অক্ষুণ্ণ রেখে তাদের সকলকে স্বনির্ভর করার জন্য সমবায় গঠন করে অথবা নিজ উদ্যোগে ব্যবসা করার 'সহজ ঋণদান প্রকল্প' তৈরি করা হবে। সংখ্যালঘু এবং তফসিলি জাতি ও আদিবাসীদের জন্য বিশেষ আর্থিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। তাঁদের উৎপাদিত পণ্য ও পরিষেবা বিপণনের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
• গিগ শ্রমিক অর্থাৎ পণ্য সরবরাহকারী, অ্যাপ ভিত্তিক ক্যাব-বাইক চালক এবং সমস্ত অসংগঠিত শ্রমিকের জন্য বিমা সহ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধাকে নিশ্চিত করা হবে।
• নারী-পুরুষ নির্বিশেষে একই কাজের জন্য সমান বেতন আইন কার্যকর হবে এবং মুদ্রাস্ফীতির সাথে মিলিয়ে মজুরি বৃদ্ধি করা হবে। শ্রমিক-কর্মচারীদের নিজেদের অধিকার রক্ষায় ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার রক্ষা করা হবে।
• সস্তায় ঋণ এবং সরকারি বিপণন সহায়তার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করে আবার দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে নিয়ে যাওয়া হবে।
• গত ১৫ বছরে রাজ্য ছেড়ে যাওয়া তথ্যপ্রযুক্তি সহ অন্যান্য শিল্পগোষ্ঠীকে ফিরিয়ে আনার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
• শ্রমিক অধিকার অটুট রেখে স্বচ্ছ পরিবেশে ভারী ও মাঝারি শিল্প ফেরানো হবে। রুগ্ন শিল্পের জমি শিল্পেই ব্যবহার হবে এবং কৃষিভিত্তিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
২) দারিদ্রের অন্ধকার থেকে গ্রামের মুক্তি
কেরালা পারলে বাংলা নয় কেন?
দেশের মধ্যে প্রথম রাজ্য কেরালা যেখানে চরম দারিদ্রসীমার নিচে আর কেউ নেই। সেখানকার বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সরকার যদি এই সাফল্য অর্জন করতে পারে, তাহলে বাংলা কেন পারবে না? এ রাজ্যের বামফ্রন্ট সরকার তো সেই পথেই এগোচ্ছিল। কিন্তু বাংলার গ্রামে এখন অন্ধকার নেমে এসেছে। রাজ্য থেকে ৫০ লক্ষের বেশি যুব কর্মসংস্থানের জন্য পরিযায়ী হয়ে ভিনরাজ্যে গিয়েছেন, এর সিংহভাগই গ্রামবাংলা থেকে। এর মূল কারণ কৃষিতে সঙ্কট এবং গ্রামে কৃষি ছাড়া লাভজনক কাজের অভাব। ভিন রাজ্যে গিয়ে তাঁরা সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদীদের হাতে আক্রান্ত হচ্ছেন, মালিকের শোষণের শিকার হচ্ছেন, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে দুর্ঘটনায় পড়ছেন, কিন্তু বাংলায় গ্রামে ফিরে আসতে পারছেন না। কারণ এখানে রোজগারের সুযোগ নেই।
২০০৪ সালে বামপন্থীদের সমর্থনে কেন্দ্রে ইউপিএ সরকার তৈরি হওয়ার পরে বামপন্থীদের দাবি মতো কেন্দ্রীয় সরকার মহাত্মা গান্ধীর নামে গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প চালু করেছিল। গরিবের বছরে একশো দিনের কাজের আইনি নিশ্চয়তার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামোন্নয়নের পথ খুলে গিয়েছিল। কিন্তু ২০২২ সালের মার্চ থেকে এ রাজ্যে বন্ধ হয়ে পড়ে আছে একশো দিনের কাজের প্রকল্প। জবকার্ড নিয়ে দুর্নীতি এবং কাজ ছাড়াই টাকা তছরুপের অভিযোগে কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এরাজ্যের শাসকদলের যে নেতারা প্রশাসনিক অফিসারদের কাজে লাগিয়ে দুর্নীতি করেছে, টাকা বেহাত করেছে তাঁদের কোনও শাস্তি হলো না, কেন্দ্রীয় সরকার শাস্তি দিল গ্রামবাংলার মানুষকে। তৃণমূল সরকার বহু অপরাধ ধামাচাপা দিতে আদালতে সরকারি কোষাগারের অর্থে মামলা করেছে, কিন্তু গ্রামবাংলায় কাজ চালু করতে কোনও মামলা লড়েনি। কাজ চালু করার দাবি নিয়ে আদালতে মামলা করেছিলেন খেতমজুররা, সেই মামলার সুপ্রিম কোর্টের রায় খেতমজুরদের পক্ষে গেছে। কিন্তু সুরাহা মেলেনি। কারণ কেন্দ্রীয় সরকার এখন একশো দিনের কাজের প্রকল্পের মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ দিয়ে আইন পরিবর্তন করে দিয়েছে। নয়া আইনে আর কোনও আইনি গ্যারান্টি নেই একশো দিনের কাজের কিংবা কাজ দিতে না পারলে কাজ চাওয়া গ্রামবাসীকে ক্ষতিপূরণ দানের।
হয় সেচের জলের অভাব, নয় বন্যায় ক্ষতি, চাষের কাজেও লাভ হচ্ছে না কৃষকদের। একদিকে ফসলের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে, সার, বীজ, কীটনাশকের খরচ বাড়ছে। অন্যদিকে কৃষক উৎপাদিত ফসলের লাভজনক দাম পাচ্ছেন না, কারণ সরকার উৎপাদিত ফসল কিনে বাজারজাত করার দায়িত্ব নিচ্ছে না। কৃষকদের ঠেলে দিয়েছে ফড়েদের হাতে। নির্বাচনের মুখেই রাজ্য আলুচাষিরা ভয়াবহ বিপদে পড়েছেন আলুর দাম না পেয়ে। আত্মহত্যা করতেও বাধ্য হচ্ছেন অনেকে।
এই অবস্থার পরিবর্তনে, গ্রাম বাংলাকে বাঁচাতে কী বলছে বামপন্থীরা?
কৃষি ও গ্রামীণ রূপান্তর
• পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোতে ১২০ দিনের কাজের গ্যারান্টি এবং শহরের গরিব মানুষের জন্য বিশেষ কর্মসংস্থান প্রকল্প চালু হবে।
• খরাপ্রবণ জেলায় ক্ষুদ্রসেচ বাড়ানো হবে এবং জল সঞ্চয় প্রকল্পে কৃষকদের বিশেষ 'উৎসাহ ভাতা' দেওয়া হবে।
• ধান সহ ১৬টি কৃষিজাত পণ্যের লাভজনক সহায়ক মূল্য (MSP) নিশ্চিত করা হবে। ফড়ে-দালালদের দৌরাত্ম্য রুখতে প্রতি পঞ্চায়েতে একাধিক 'কৃষক সমবায়' গড়ে কৃষকদের থেকে সরাসরি ফসল কেনা হবে।
• সস্তায় কৃষি যন্ত্রপাতি যেমন ট্র্যাক্টর, পাওয়ার টিলার, পাম্পসেট, হারভেস্টার ইত্যাদি ভাড়ার কেন্দ্র, সস্তায় বীজ ও সার সরবরাহ কেন্দ্র এবং পঞ্চায়েত বা ব্লক ভিত্তিক হিমঘর ও গোডাউন তৈরি হবে কৃষি সমবায় গড়ে তুলে।
• কৃষক উৎপাদক সংগঠন (FPO)-কে শক্তিশালী করা হবে যাতে কৃষকরা নিজেরাই নিজেদের ব্যবসার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
৩) দখলদারির গ্রাসে শিক্ষা স্বাস্থ্য লাটে
দক্ষিণ কলকাতার ল কলেজে ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা কিংবা আর জি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা আসলে কেবল নারী নির্যাতনের ঘটনা নয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর সর্বক্ষেত্রে শাসকদলের দখলদারির চরম পরিণতি। তৃণমূল সরকারের নীতিতে সরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ভেঙে পড়ছে, মানুষকে বাধ্য করা হচ্ছে মোটা টাকার বিনিময়ে বেসরকারি পরিষেবাদায়ী কোম্পানিগুলির দ্বারস্থ হতে। ফলাফল? স্কুলছুটের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। পশ্চিমবঙ্গে স্কুলছুটের শতকরা হার ১৮.৭৫ শতাংশ। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের হিসাব অনুযায়ী গত শিক্ষাবর্ষে ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৩২৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেনি। এবারও বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেনি। অথচ বামফ্রন্ট সরকার থাকাকালীন প্রতিবছর মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছিল। চাহিদা পূরণে নতুন নতুন কলেজ ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছিল। ২০০৮ সালে এরাজ্যে সরকারি স্কুলে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ছিল ৩৫:১। বর্তমানে ক্ষেত্রে বিশেষে এই অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৭০:১। প্রাথমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুল মিলিয়ে মোট ৩ লক্ষ ৯৮ হাজারেরও বেশি শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী পদ শূন্য।
স্বাস্থ্যক্ষেত্রের অবস্থাও বেহাল এবং তা প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। নীল সাদা রঙে বিল্ডিং ছাড়া হাসপাতালে পরিষেবাদানের প্রকৃত কোনও পরিকাঠামো নেই, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, টেকনিসিয়ানের পদ শূন্য। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে লিফট ভেঙে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, আবার দুর্নীতির কারণে জাল স্যালাইন ও ওষুধে প্রাণহানি ঘটছে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রের দুর্নীতি শাসকদলের হাত ধরে এতদূর বাসা বেঁধেছে যে চিকিৎসকরাও প্রতিবাদ করলে বদলি ও শাস্তির মুখে পড়ছেন।
জনমুখী স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বামপন্থীরা কী বলছে?
সর্বজনীন শিক্ষা ও উন্নত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো
• সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈরাজ্য, গুন্ডামি, তোলাবাজি কঠোরভাবে দমন করে, শান্তিপূর্ণ পড়াশুনার আদর্শ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার সমস্ত শূন্যপদ স্বচ্ছভাবে পূরণ হবে। উন্নত আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
• দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত টিউশন ফি মকুব এবং উচ্চশিক্ষায় ও কারিগরি শিক্ষায় (পলিটেকনিক ও ইঞ্জিনিয়ারিং) নামমাত্র খরচে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও সকলের জন্য স্বল্পমূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।
• প্রতিটি জেলায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষায় (STEM) বিশেষ জোর দেওয়া হবে।
• প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আধুনিকীকরণ এবং স্বচ্ছভাবে নিয়োগ করা হবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী। সরকারি হাসপাতাল এবং মেডিক্যা ল কলেজে সব শূন্যপদ স্বচ্ছভাবে ক্রমান্বয়ে পূরণ করা হবে।
• জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা হবে, যাতে সব মানুষ উন্নত চিকিৎসা পায়। সরকারি ও যৌথ উদ্যোগে নতুন মেডিক্যাল কলেজ ও স্বল্পমূল্যের বহুমুখী হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।
৪) নাগরিক পরিষেবা চাপা পড়েছে শাসকের বিজ্ঞাপনে
শুরু হয়েছিল ত্রিফলা আলো লাগিয়ে। তারপর রাস্তার পোস্টে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজানো, চারিদিকে নীল সাদা রঙ করা ইত্যাদি কসমেটিক কারবার। কিন্তু কলকাতা শহর সহ সারা রাজ্যে নাগরিক পরিষেবাগুলি ধংস হয়ে গেছে। ট্রাম প্রায় উঠে গেছে, ট্রামের জমিতে রিয়েল এস্টেট হচ্ছে। বিদ্যুতের মাশুল বাড়ছে, জোর করে স্মার্ট মিটার চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে, কিন্তু নিরাপদ পরিষেবা নেই। শহরে জলমগ্ন রাস্তায় বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা, কিংবা ম্যানহোলে মৃত্যুর ঘটনা এই আধুনিক যুগেও এরাজ্যে অহরহ। গ্রামে ‘নল আছে জল নেই’ অভিযোগ করতে করতে মানুষ ক্লান্ত। উন্নয়ন মানে এরাজ্যে কেবল সরকারি টাকায় মুখ্যমন্ত্রী আর নেতানেত্রীদের বড় বড় ছবি লাগিয়ে বিজ্ঞাপন।
সুরাহা দিতে কী বলছে বামপন্থীরা?
বিদ্যুৎ, রাস্তা ও পানীয় জলের বন্দোবস্ত
• সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য বিদ্যুতের মাশুল কমানো হবে এবং ইলেকট্রিক সাপ্লাই ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা হবে। রাজ্য পরিবহণ নিগমগুলোকে আধুনিক বাস ও পরিষেবার মাধ্যমে লাভজনক ও জনমুখী করা হবে।
• রাস্তা তৈরির ক্ষেত্রে 'মান নিয়ন্ত্রণ বোর্ড' গঠন করা হবে, ঠিকাদারি প্রথায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যালিং, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সিসিটিভি নজরদারি এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় দ্রুত চিকিৎসার জন্য 'হাইওয়ে ট্রমা কেয়ার সেন্টার' স্থাপন করা হবে। হকারদের জন্য বিজ্ঞানসম্মত 'ভেন্ডিং জোন' ও পুনর্বাসন নীতি কার্যকর করা হবে।
• ১০০ শতাংশ পাইপলাইনের সংযোগ এবং প্রতিটি ব্লক ও পৌরসভায় আর্সেনিক ও ফ্লোরাইড মুক্ত জল সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে আগামী ৫ বছরে।
• শহরে ৭০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ নিকাশি এবং ১০০ শতাংশ বাড়ি-বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহ করা হবে। গ্রাম ও শহরে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে বাড়ি-বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহ এবং প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
৫) বাউন্সারের ভয়ে পালাতে হবে না মহিলাদের
রাজ্যে দেড় দশক আগে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই মহিলাদের ওপরে নির্যাতনের ঘটনা লাইন দিয়ে ঘটতে শুরু করেছিল। কামদুনি, পার্ক স্ট্রিট, মধ্যমগ্রাম, ধূপগুড়ি থেকে আর জি কর কোথাও শিশু থেকে বৃদ্ধা কোনও মহিলাই বাংলায় নিরাপদে নেই, কারণ দুষ্কৃতীরা শাসকদলের ছত্রছায়ায় আছে। পুলিশ মহিলাদের অভিযোগ নিতে চায় না, উলটে মহিলাদের দোষারোপ করে। মনুবাদী রাজনীতির দাপট বাড়ায় পশ্চাৎপদ ধারণার মুখোমুখি হতে হচ্ছে মহিলাদের। শুধু সামাজিক নিরাপত্তার অভাবই নয়, অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও নেই মহিলাদের। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমে উপার্জনের পথ সঙ্কুচিত হওয়ায় গ্রামের মহিলারা মাইক্রোফিনান্সের ঋণ নিয়ে বিপদে পড়েছেন। চড়া সুদ মেটাতে না পারায় মাইক্রোফিনান্সের বাউন্সাররা বাড়িতে বাড়িতে এসে হানা দিচ্ছে, অশালীন আচরণ করছে।
বাংলার মা বোনেদের মর্যাদা রক্ষা করে বাঁচাতে কী বলছে বামপন্থীরা?
মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষা
• প্রতিটি জেলায় পুলিশের নিজস্ব কিন্তু 'স্বশাসিত অভয়া বাহিনী' তৈরি হবে, যারা বিশেষ ক্ষমতা নিয়ে নারী নির্যাতন দমন করবে।
• প্রত্যেক ভাতাপ্রাপ্ত মহিলাদের ভাতা দান সুনিশ্চিত করে, তাঁদের উৎপাদনমুখী প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। মহিলাদের নিয়ে স্ব-নির্ভর গোষ্ঠী তৈরি করে, বিভিন্ন উৎপাদন ও পরিষেবার কাজে যুক্ত করা হবে, যাতে তাঁদের আয় বৃদ্ধি হয়। স্ব-নির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে সমবায়-গ্রামীন-রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির থেকে স্বল্প সুদে ঋণদানের ব্যবস্থা করা হবে। মাইক্রো ফিনান্সের নামে উচ্চহারে সুদ আদায়কারী সব সংস্থার বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিল্পাঞ্চলে শিশুসেবা কেন্দ্র স্থাপন এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা ও সমান মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।
৬) কর্পোরেট থাবায় জল জমি জঙ্গল
প্রকৃতি ও পরিবেশ এখন কর্পোরেটের মুনাফার গ্রাসে। আরাবল্লীর পাহাড় লুট হয়ে যাচ্ছে তাদের মুনাফার চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের পরামর্শ না শুনে পাহাড়ে টানেল কাটতে গিয়ে বিপর্যয় ডেকে আনছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এরাজ্যেও এই বিপদ ডেকে এনেছে তৃণমূল। গত দেড় দশকে পরিবেশ বিধি না মেনে বেসরকারি কর্পোরেট পুঁজির মুনাফার বন্দোবস্ত করতে জলাভূমি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে বেআইনি নির্মাণের কারণে বারবার ধস নামছে, প্রাণহানিও ঘটছে। জঙ্গল সাফ করে কাঠ পাচার হচ্ছে। নদীর গতিপথ পালটে যাচ্ছে বেআইনি বালি ও পাথর পাচারের কারণে। হড়পা বানে বিপর্যয় ঘটছে। কয়লা অঞ্চলে দেদার বেআইনি খনন চলছে শাসকদলের মাফিয়া ও প্রশাসনের সংযোগে। দেউচা পাচামীতে কয়লা খননের নাম করে ব্যাসল্ট পাথর তোলার প্রকল্প চালু করতে পরিবেশ বিধি এড়িয়ে প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য সরকার। আদিবাসীদের উৎখাত করে জঙ্গল তুলে দেওয়া হচ্ছে আদানিদের হাতে। পরিবেশ প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের জীবিকা ও বসবাসের পরিপূরক চিরায়ত ভাবনা লুট হয়ে যাচ্ছে শাসক ও কর্পোরেট যোগে।
পরিবেশ রক্ষা করে কোন পথে হবে উন্নয়ন? বামপন্থীরা কী বলছে?
পরিবেশ রক্ষা
• রাজ্যের পরিবেশ রক্ষা হবে সরকারের অগ্রাধিকার। খাল, বিল, পুকুর, জলাভুমি নির্বিচারে ভরাট রুখতে এই প্রশ্নে বামফ্রন্টের অবস্থান হবে কঠোর। নির্বিচারে গাছ কাটা এবং জঙ্গল সাফ রুখতে অভিযান চালানো হবে।
• পরিবেশ রক্ষায় সরকার রাজ্যজুড়েই বিশেষ 'সবুজ বাহিনী' গড়ে তুলবে। বন দপ্তর ছাড়াও বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসা-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরিবেশ আন্দোলনে যুক্ত সামাজিক সংগঠনগুলিকে নিয়ে বিশেষ ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার কাজ করা হবে।
• সুন্দরবন, উত্তরবঙ্গের পাহাড়-তরাই-ডুয়ার্স, পশ্চিমাঞ্চলের জঙ্গলমহল সহ রাজ্যের বনভূমি এবং জলাশয় যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাকে পুরানো অবস্থায় ফিরিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
• পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্স ও জঙ্গলমহলের উন্নয়নের জন্য সরকার গঠনের ৬ মাসের মধ্যে বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে।
৭) সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক অধিকার
রক্ষা করতে হবে উন্নয়নের জন্য
বাংলার মাটিতে যে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ বিভাজনের বিপদ ছিল না এখন তাও এসে গিয়েছে আরএসএস’র হাত ধরে। ডেকে এনেছে তৃণমূলই। কলকাতার বুকে চিকেন প্যাটিস বিক্রেতা মার খাচ্ছে, উত্তরবঙ্গে গোরুর মাংস বহনের নামে মারধর করা হচ্ছে। ধর্ম, ভাষা, খাদ্য, পোশাকের নামে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করা হচ্ছে। কাজ, মজুরি, শিক্ষা স্বাস্থ্যের অভাব ভুলিয়ে মানুষকে চালিত করার চেষ্টা হচ্ছে অপর জাতি ধর্ম ভাষার মানুষের বিরুদ্ধে। ফ্যাসিবাদের এই কর্মপদ্ধতি অবাধ হলে কী বাংলায় কোনও উন্নয়ন সম্ভব হবে?
এ রাজ্যে পঞ্চায়েত পৌরসভা সমবায়ে ভোট লুটের মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে তৃণমূল। এখন ভোটাধিকারই কেড়ে নিতে হামলা চলছে ভোটার তালিকায় এসআইআর’র নামে। বামফ্রন্ট সরকার গ্রামে পঞ্চায়েতের মাধ্যমে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করেছিল, শহরে পৌরসভার মাধ্যমে। ১৮ বছরে ভোটাধিকার দিয়েছিল। উন্নয়নের সব কাজে সমাজের সব অংশের মানুষের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এমনকি স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা ব্যবস্থাও গণতান্ত্রিকীকরণ করা হয়েছিল। মানুষের অবাধ মতপ্রকাশ এবং মানুষকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের শরিক করে তোলার এই প্রক্রিয়া এখন অতীত। এখন দখলদারির রাজ চলছে রাজ্য জুড়ে। গণতন্ত্রের অবক্ষয়ের মাধ্যমে, শাসকের হাতে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের মাধ্যমেই দুর্নীতির কেন্দ্রীকরণ ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গে।
বাংলার বুকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে কী বলছে বামপন্থীরা?
গণতন্ত্র, সম্প্রীতি, উন্নয়ন
• রাজ্যে শান্তি, শৃঙ্খলা, সম্প্রীতি বজায় রাখতে আপসহীন প্রহরীর কাজ করবে সরকার। বিভেদকামী, বিদ্বেষ-ঘৃণা ছড়ানো যে কোনও শক্তিকে কঠোরভাবে দমন করা হবে, মানুষকে সঙ্গে নিয়েই।
• সরকার চলবে - সাধারণ মানুষের জন্য, সাধারণ মানুষের দ্বারা, সর্বস্তরে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে।
• প্রশাসনের সর্বস্তরকে দুর্নীতিমুক্ত, জনমুখী এবং আমলাতান্ত্রিকতা মুক্ত করার জন্য সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়া হবে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতেই। পুলিশের দপ্তরগুলিকে দুর্বৃত্ত মুক্ত করা হবে।
• সরকারি পরিষেবা যাতে সাধারণ মানুষ পায় কোনোরকম হয়রানি ছাড়া, সেই বিষয়ে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। দুর্নীতির আখড়া পঞ্চায়েত ও পৌরসভাগুলিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, সরকার গঠনের ১ বছরের মধ্যেই।
• স্কুল-মাদ্রাসা-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরে গণতান্ত্রিক কাঠামো ফিরিয়ে আনা হবে। মানুষের মতামত নিয়েই চলবে সরকার। শ্রমিক কর্মচারী সহ সমাজের সব অংশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে নিশ্চিত করা হবে।
Comments :0