Naihati slum dwellers

উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছে রেল, বস্তিবাসীদের হাতে স্থগিতাদেশের কপি তুলে দিল সিপিআই(এম)

রাজ্য জেলা

নৈহাটিতে রেলওয়ে সাইডিং এলাকায় হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ এর কপি নিয়ে গার্গী চ্যাটার্জী সহ নেতৃবৃন্দ।

বিশ্বজিৎ রায়

বস্তি আমাদের বাঁচার জায়গা, পুনর্বাসন ছাড়া রেলের বস্তি উচ্ছেদ করা যাবেনা। নৈহাটি কারিগরপাড়া রেলওয়ে সাইডিং এলাকায় রেল বস্তির উচ্ছেদের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়েছে। আগামী ১৭ জুন অবধি এই রেল বস্তির মানুষকে উচ্ছেদ করা যাবে না। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ এর কপি নিয়ে বুধবার রাত দশটা নাগাদ কারিগরপাড়ায় যান সিপিআই (এম) রাজ্য কমিটির সদস্য গার্গী চ্যাটার্জি,  উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা কমিটির সদস্য দেবজিত ব্যানার্জি সহ নেতৃবৃন্দ। মানুষের কাছে উপস্থিত হয়ে তাদের কাছে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ এর কপি তুলে দেন। অত রাতেও রেল বস্তির মানুষ রাস্তায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দের কথা শুনে আশ্বস্ত হন তাঁরা।
আশি বছর ধরে এই রেলওয়ে সাইডিং-এ বসবাস করছেন আব্দুল গফুর। একটা মেয়ে আছে। তার বিয়ে হয়ে গেছে। স্ত্রী মারা গেছে। রেলের থেকে উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছে। গন কনভেনশনে উপস্থিত হয়ে বলেন এই বয়সে কোথায় যাবো। আর কতদিন বাঁচবো। এইখানে শেষ দিনটা কাটাতে চাই। জানি না পারবো কিনা? আমাদের জন্য লাল ঝান্ডা লড়ছে। আর কেউ আমাদের পাশে নেই।
পঁয়ষট্টি বছর ধরে শেখ আখতার বসবাস করছেন এই রেল বস্তিতে। যোগারের কাজ করে। স্ত্রী ও দুটো ছেলে আছে। রেলের উচ্ছেদের নোটিশ পাওয়ার পর মাথায় হাত পড়েছে তাঁর। এইভাবে আমাদের উচ্ছেদ করে দিলে এখন আমরা কোথায় যাবো। বলেন একমাত্র বামপন্থীরাই  আমাদের জন্য লড়ছে। 
আটষট্টি বছর ধরে এখানে শেখ খালেক বসবাস করছে। ছেলে মেয়ে স্ত্রী সবাই আছে। বন্ধ গৌরীপুর মিলের শ্রমিক। একরাশ হতাশার মধ্যে বলেন শেষ বয়সে একটু শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। রিক্সা চালক শেখ নাসিরউদ্দিন। চল্লিশ বছর ধরে রেলওয়ে সাইডিং এলাকায় থাকেন। উচ্ছেদের নোটিশ পাওয়ার পর চিন্তার ভাঁজ পড়েছে তাঁর কপালেও। 
 সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য গার্গী চ্যাটার্জী বলেন, 'রেল অমানবিক আচরণ করছে। জীবনের বেশিরভাগ সময় এই মানুষগুলো বস্তিতে দিন কাটিয়েছে। এরা এখন যাবেন কোথায়? পুনর্বাসন ছাড়া বস্তি উচ্ছেদ করা যাবে না। আমরা আইনের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়েছে। সেই কপি নিয়ে আমরা এখানে এসেছি। আমরা ওদের আশ্বস্ত করেছি। আমরা ওদের পাশে আছি। কিন্তু ব্যারাকপুর লোকসভার সাংসদ কোথায়? এই মানুষগুলোর বিপদে তিনি নেই। আর এখানকার বিধায়ক কোথায়? তারও দেখা নেই। এই মানুষগুলোর এখন বিপদ। এদের জীবন জীবিকার ওপর ভয়াবহ আঘাত নামিয়ে আনা হয়েছে। আমরা এই অমানবিকতার বিরুদ্ধে শেষ অবধি লড়াই করে যাবো।' 
 

 

Comments :0

Login to leave a comment