Dinhata Municipality

দিনহাটায় গ্রেপ্তার উদয়ন ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন তৃণমূলী পৌরপ্রধান

রাজ্য জেলা

অমিত কুমার দেব : দিনহাটা 

বিল্ডিং প্ল্যান পাশ জালিয়াতি মামলায় গ্রেপ্তার হলেন দিনহাটা পৌরসভার প্রাক্তন তৃণমূলী পৌরপ্রধান গৌরীশঙ্কর মাহেশ্বরী। রবিবার রাতে তাঁকে তাঁর নিজের বাড়ির কাছ থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। এর আগে দিনহাটা পৌরসভার ভুয়ো বিল্ডিং প্ল্যান পাশ কান্ডে শনিবারই গ্রেপ্তার করা হয় পৌরকর্মী তথা তৃণমূল নেত্রী মৌমিতা ভট্টাচার্যকে। যদিও সেদিন পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান গৌরীশঙ্কর মাহেশ্বরীর বাড়িতে গেলেও, তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ায় পুলিশ তাঁকে ধরতে পারেনি। 
রবিবারও দিনহাটা থানার পুলিশ দিনহাটা ও আশেপাশের জেলাগুলিতে তল্লাশি চালায়। অবশেষে দিনহাটা থানা সূত্রে জানা যায় যে, রবিবার রাতে তার বাড়ির কাছ থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  সোমবার তাকে কোর্টে তোলা হবে। 
প্রসঙ্গত ২০২৪ সালে দিনহাটা পৌরসভায় জাল বিল্ডিং প্ল্যান পাশ কাণ্ড  প্রকাশ্যে আসে। এরপর তদন্ত নেমে পুলিশ সেই সময় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করলেও পরবর্তী সময়ে ৯০ দিনের মাথায় চার্জশিট জমা দিতে না পারায় এই ৩ জন জামিনে মুক্ত হন। এরপর মামলাটি ধামাচাপা পড়ে যায়। কিন্তু সরকার বদল হতেই দেখা গেল আবারও নতুন করে এই মামলাটির তদন্ত শুরু হয়। এই মামলায় ইতিমধ্যেই দুজনকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ। 
২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর দিনহাটা শহরে ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুজয় সাহা এই দিনহাটা পৌরসভার লিখিত অভিযোগ করেন, তাঁর থেকে বাড়ির বিল্ডিং প্লান পাশ করানো বাবদ ৭৭ হাজার ৫০০টাকা নেওয়া হয়েছে। ২০২১সালের ৩১ডিসেম্বর পাশ করানো এই প্ল্যান এবং ৬৫ হাজার ২৩০ টাকার রসিদ দেওয়া হয়। সম্প্রতি তার এই প্ল্যান পুনর্নবীকরণ করানোর জন্য পৌরসভায় যাওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন তার প্ল্যান আদৌ পাশ হয়নি, তাকে জাল সই করা প্ল্যান ও রসিদ দেওয়া হয়েছে। তার এই লিখিত অভিযোগ জমা পড়তেই পৌরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার দিনহাটা থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই অভিযোগপত্রে স্পষ্ট লেখা রয়েছে, যে জাল রসিদে ৬৫ হাজার ২৩০ টাকা নেওয়া হয়েছে এই ৩৩২৪/৩১/১২/২১ নম্বর রসিদে পৌরসভার জন্ম মৃত্যু নিবন্ধীকরণের জন্য বিনোদ রজক নামে অন্য ব্যক্তি ১ হাজার ৪৯৫ টাকা জমা দিয়েছেন। যে প্ল্যান পাশ করিয়ে অভিযোগকারীকে দেওয়া হয়েছে, সেটি জাল। 
এরপর দিনহাটা থানা অভিযুক্ত পৌর কর্মী এই উত্তম চক্রবর্তীকে গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে বারবার থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু তাকে বারবার ছেড়েও দেওয়া হয়। এদিকে গত ২৭ ডিসেম্বর আরও ৩টি প্ল্যান পাশ করানোর লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে দিনহাটা পৌরসভায়। সব মিলিয়ে ৬টি অভিযোগ জমা পড়ে।    জানা গেছে জালিয়াতির জন্য পৌরসভার বিভিন্ন সীলমোহর বানিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পৌরসভা এলাকায় এভাবেই প্রচুর পরিমাণ জাল বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করিয়ে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে ইতিমধ্যেই উঠেছে অভিযোগ।
 এই অভিযোগ প্রকাশে আসার পরই ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর পৌর প্রধানের পথ থেকে পদত্যাগ করেন গৌরী শঙ্কর মাহেশ্বরী। অবশেষে তার এই গ্রেপ্তারিতে উঠল অনেক প্রশ্ন। এই জালিয়াতি কান্ডে অধুনা শাসক দলের আরও কোন বড় মাথা যুক্ত রয়েছে কিনা? এই প্রশ্নই তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

Comments :0

Login to leave a comment