ভ্রমণ
মুক্তধারা
ষোলোআনা নিজমিয়ানা
অভীক চ্যাটার্জী
১৪ মার্চ ২০২৬, বর্ষ ৩
এক টুকরো মক্কা
আজ গল্প হোক এক অদ্ভুত মসজিদ নিয়ে। হ্যাঁ, এই পুরোনো মসজিদেও মুর্শিদ গান গায়। অন্ধ ভিখারী দুহাতে এগিয়ে দেয় ভিক্ষার ঝুলি। আর অদ্ভুত ভাবে উপলব্ধি হয়, এখানে আমরা সবাই ভিখারী, শুধু ভিক্ষার রকম ফেরে কেউ ধনী আর কেউ গরীব।
হায়দরাবাদের চারমিনার থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে রয়েছে আরও এক ঐতিহাসিক নিদর্শন। মক্কা মসজিদ। দাক্ষিণাত্যের ইসলামী স্থাপত্যের এক অসম্ভব সুন্দর নিদর্শন হলো এই মসজিদটি। ১৬১৪ খ্রিস্টাব্দে মোঃ কুলী কুতুব শাহ এই মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন যা পরবর্তীতে দাক্ষিণাত্যের ইসলামীয় ধর্মীয় সংস্কৃতির কেন্দ্র হয়ে ওঠে। কথিত আছে, মসজিদের প্রধান খিলানের জন্য যে ইট ব্যবহার করা হয়েছিল তার মাটি আনা হয়েছিল
মক্কা থেকে। সেই মাটি দিয়ে তৈরি ইট ব্যবহার করার কারণেই এর নাম হয় মক্কা মসজিদ। এটি মূলতঃ একটি জুম্মা মসজিদ এবং আশাফ জাহি বংশের অনেকের সমাধি রয়েছে এই মসজিদেই। এই মসজিদের নির্মাণকাল খুব দীর্ঘ। প্রায় ৮০ বছর ধরে এই মসজিদ নির্মাণ হয়। এরই মাঝে মসনদে ক্ষমতার বদল হয়। কুতুব শাহ সালতানাতের পতন হয়ে হায়দরাবাদ তখন দিল্লির অধীনে। দিল্লির শান - এ - তাক্থ তখন আওরঙ্গজেব। তিনি এই মসজিদ সম্পূর্ণ করেন।
গ্রানাইট পাথরের এই প্রশস্ত ইমারতে এক সাথে ১০০০০ মুসল্লী নামাজ আদাহ করতে পারেন। ইতিহাসবিদেরা বলেন, এই পাথরের অনেকগুলোই প্রায় ১০ টনের ও বেশি ওজনের। এই মূল নামাজ কক্ষটি লম্বায় ৬৭ মিটার এবং প্রস্থ তে ৫৪ মিটার।এর সামনে রয়েছে এক বিশাল আজুখানা। আর এই মসজিদের খিলনে ও মিনারে দেখা যায় পারস্য আর দাক্ষিণাত্যের অদ্ভুত নয়নাভিরাম মেলবন্ধন।
লোককথা অনুযায়ী, মসজিদটি তৈরি হওয়ার সময় নাকি জিনেরা শ্রমিকদের সাহায্য করত। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই মসজিদ নির্মাণের জন্য ৮০০০ শ্রমিক কাজ করেছিলেন ৮০ বছর।
অনেকে বলেন, রাতের বেলা কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও নাকি ভোরে এসে দেখা যেত কিছু পাথরের কাজ এগিয়ে গেছে। তাই মানুষ বিশ্বাস করত অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে। তো এটা শুনে আমার মনে প্রশ্ন জাগে, ভূতে বেগার খেটে দেওয়ার পরও এই মসজিদ তৈরি হতে প্রায় ৮০ বছর লেগেছিল, যদি শুধু মানুষ কাজ করত, নাজানি আরও কত সময় লাগত।
মসজিদের আঙিনায় একটি বিখ্যাত পাথরের বেঞ্চ আছে। প্রচলিত বিশ্বাস—যে ব্যক্তি এখানে বসে আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করবে, সে আবার একদিন হায়দ্রাবাদে ফিরে আসবে।
অনেক পর্যটক এখনও এই বিশ্বাসে সেখানে বসে ছবি তোলে।
১৮ মে ২০০৭ সালে এখানে একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে, যা ইতিহাসে পরিচিত
2007 Mecca Masjid bombing নামে।
আপনি যখন চারমিনার দেখতে আসবেন, সেই সঙ্গেই দেখে নিতে পারেন এই শতাব্দী প্রাচীন ভারতের অন্যতম বিরাট মসজিদটিকে। তবে জুম্মার দিনগুলোয় না যাওয়াই ভালো, বড্ড ভিড় হয়।
Comments :0