মুক্তধারা
উৎসব ১৪৩৩
ধূসরবেলা
পাষণ্ড বাঙালির — শারদ উৎসব
মনীষ দেব
২০ অক্টোবর ২০২৬
৪র্থ বর্ষ
পাষণ্ড বাঙালির — শারদ উৎসব।
বাঙালি পাষণ্ড কিনা জানা নেই। তবে অধুনা সনাতনীদের মদতে — বাঙালি পাষন্ড এবং তা উৎসবের আঙিনায় সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত কারণ বাঙালি আমিষ খায় এবং আমিষ পুজোয় ভোগ দেয়। অতএব বাঙালি সনাতনী অবাঙলাভাষীদের হিন্দুসমাজের চোখে পাষণ্ড।
কিন্তু, অভিধানিক পাষণ্ড কি?
প্রাচীন ভারতে সম্রাট অশোকের শিলালিপিতে পাসণ্ড বা পাষণ্ড কোনো অশালীন নেতিবাচক শব্দ ছিল না। পাষণ্ড মানে মতবাদ বা ধর্মীয় সম্প্রদায়কে বোঝানো হত।
পরবর্তী সময়ে বৈদিক সনাতন ধর্মাবলম্বীর বেদবিরোধী বা ভিন্নমতের বৌদ্ধ-জৈনদের পাষণ্ড বলে চিহ্নিত করেন। অর্থাৎ যারা বেদে বিশ্বাস করেনা তারা ধর্মবিদ্বেষী-ধর্মদ্রোহী-ধর্ম অবিশ্বাসী পাপিষ্ট পাষন্ড।
বাঙালি চিরদিনই — ভিন্ন মত পোষন করে, ভিন্নধারায় যাপন করে। তাই বাঙালি সতীদাহ-র বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। বাল্য-বিবাহ রদ করে। মুন্ডিত মস্তক বৈধব্য অস্বীকার করে — বিধবা বিবাহের প্রচলন করে। মানুষ তৈরীর জন্য — ইস্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-মিশন খোলে যে বাঙালি তারা বই পড়বে এটাই স্বাভাবিক। তাই বইয়ের উপর আক্রমণ বাঙালিকে আক্রমণের শ্রেষ্ঠ উপায়। তাই শারদ উৎসবে সনাতনী ফ্যাসিস্টরা বইকে আক্রমণের মূল লক্ষ করেছে। মানুষ উৎসবে বলি হচ্ছে সনাতনী শাসককুল বইয়ের স্টল ভাঙতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
তবুও বাঙালি স্বাতন্ত্র নিয়েই বাঁচবে, কারণ এটি তার চিরায়ত ধারা, যে ধারায় বিখ্যাত বটতলায় বই ছাপা হত। যে ধারায় কলেজ স্ট্রীট বইপাড়া গড়েছে বাঙালি। সেই ধারা হনুমান সেনারা ভেঙে দিতে পারবে না।
বাঙালি হনুমান মন্দিরে নয় চন্ডীমণ্ডপেই যাবে।
রামমন্দির নয় রামকৃষ্ণ মিশনেই যাবে।
কুম্ভমেলায় নয় বইমেলায় যাবে বাঙালি। সনাতনীরা জেনে রাখুন —
বই ছেঁড়া নয় — বইপড়া বাঙালির ঐতিহ্য।
পূজো নয় – উৎসবই বাঙালির ঐতিহ্য।
Comments :0