নতুনপাতা
জানা অজানা
আমি শহীদ প্রফুল্ল চাকীর মা
তপন কুমার বৈরাগ্য
১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ
প্রফুল্ল চাকীর মা স্বর্ণময়ী দেবী ছিলেন একজন মহীয়সী নারী।
প্রফুল্ল চাকীর বয়েস যখন দুই বছর তখন ১৮৯০খ্রিস্টাব্দে
তার পিতা রাজনারায়ণ চাকী মারা যান।দীর্ঘদিন তিনি অসুস্থ
ছিলেন।স্বামীকে ভালো করার অনেক চেষ্টা করেছেন স্বর্ণময়ী
দেবী।এজন্য যা কিছু জমিজমা ছিল সব বিক্রি করেও স্বামীর
চিকিৎসা করেছেন।কোনো সময় স্বামীর জন্য মুখ বেজাড়
করেন নি।কিন্তু শত চেষ্টা করেও স্বামীকে তিনি বাঁচাতে পারেন নি।
চারভাই ও দুই বোনের মধ্যে কনিষ্ঠতম ছিলেন প্রফুল্ল চাকী।ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সর্বকনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা।প্রফুল্ল চাকী ১৮৮৮খ্রিস্টাব্দের ১০ডিসেম্বর বাংলাদেশের বগুড়া জেলার
বিহার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।স্বামী মারা যাবার পর সকল
ছেলেমেয়ের দায়িত্ব স্বর্ণময়ী দেবী তুলে নেন নিজের কাঁধে।বিশেষ করে প্রফুল্ল চন্দ্র খুব ছোট বলে তার প্রতি কর্তব্য বোধটা মায়ের
বেশি ছিল।তিনি সেই সময়ের একজন শিক্ষিত নারী ছিলেন।
নিজের হাতে ছোট ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন।দেশপ্রেমের
শিখা তার ললাটে জ্বেলে দিয়েছেন।এর সাথে সাথে শিখিয়েছেন
আদর্শবোধ,দেশপ্রেম।ছেলেমেয়েদের মানুষ করার জন্য স্বর্ণময়ী
দেবীকে দিনরাত অমানুষিক পরিশ্রম করতে হয়েছে। তবু তিনি
কোন সময় ভেঙে পড়েন নি।যিনি সব দিয়ে গেলেন।প্রতিদানে
কিছুই চাইলেন না ,তেমন মহিলার সংখ্যা ইতিহাসের পাতায়
খুবই কম আছে। দেখতে দেখতে প্রফুল্ল চাকী আঠারো বছরে
পা দিয়েছেন।বিপ্লবী বারীন ঘোষের নাম এবং যুগান্তর দলের
নাম শুনেছেন।তার একান্ত ইচ্ছে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বিপ্লবী দলে যোগ দেবেন।মা হাসিমুখে অনুমতি দিলেও দাদা বোনেরা কেউ দিতে চাইলেন না।কিন্তু একান্ত জেদি ছেলেটা শেষ পর্যন্ত দাদা বোনেদের অনুমতিও আদায় করেছিলেন।১৯০৬খ্রিস্টাব্দে তিনি বারীন ঘোষের কাছে এসে যুগান্তর দলে যোগ দিলেন।
তার উপর এবং ক্ষুদিরামের উপর দায়িত্ব পড়ল অত্যাচারী কিংসফোর্ডকে হত্যা করার।১৯০৮খ্রিস্টাব্দের ৩০শে এপ্রিল
কিংসফোর্ডকে হত্যা করার জন্য মুজাফফরপুরে এলেন।
কিন্তু সেদিন সেই গাড়িতে অত্যাচারী কিংসফোর্ড ছিলেন না।
কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে কেনেডির স্ত্রী ও তার কন্যার উপর বোমা
বর্ষণ করা হল।তারা মারা গেলেন।দুজনা পালিয়ে গেলেন।
প্রফুল্ল চাকী ট্রেনে আত্মগোপন করে রইলেন। মোকাম্মাঘাট
স্টেশনে এক বাঙালী পুলিশ অফিসার নন্দলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
তাকে চিনতে পারলেন।তাকে গ্রেপ্তার করতে যাবার সময় প্রফুল্ল
চাকী তাকে ধিক্কার দিয়ে বলেছিলেন-আপনাদের মতন
দেশদ্রোহী পুলিশ অফিসেরা আছেন বলেই ভারতের স্বাধীনতার
সূর্য উঠতে এতো দেরী হচ্ছে।তারপর তার হাতে গ্রেপ্তার না হয়ে
নিজের সার্ভিস রিভালভার দিয়ে নিজের বুকে গুলি চালিয়ে
মৃত্যু বরণ করেন।তারিখটা ছিল ২রা মে ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ।
এরপর বাঙালী পুলিশ অফিসারকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন
বিপ্লবী রণেন গাঙ্গুলী ও শ্রীশচন্দ্র পাল।
প্রফুল্লচন্দ্র চাকীর মৃত্যু সংবাদ শুনে তার মা গর্বে বুক ফুলিয়ে
বলে উঠেছিলেন--আমি এখন থেকে শহিদের মা।
Comments :0