অলকেশ দাস
বামফ্রন্ট সরকার পতনের পর আরএসএস’র সদস্য, বিজেপি’র তৎকালীন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং সদ্য হওয়া মুখ্যমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছিলেন-মমতা বহিনজি প্রথম রাতেই বিড়াল মেরে দিন। এবারে সদ্য হওয়া মুখ্যমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কি পরামর্শ দিয়েছেন তা শোনা যায়নি। তবে কাজ শুরু হয়েছে।
এদিকে তৃণমূল অভিযোগ করেই যাচ্ছে। কিন্তু তার আগে তৃণমূলকে বলতে হবে তাদের জামানায় রাজ্য নিয়ন্ত্রিত কাঠামোয় নির্বাচন করে রাজ্যবাসী গত দেড় দশকে কি প্রত্যক্ষ করেছে? ভোট লুট, ভয় সন্ত্রাস, দরজা বন্ধ করে রাখা, গলিতে গলিতে পাহারা দেওয়া, মৃত মানুষদের নামে ভোট দিতে পাঠানো, বোমা আগুন, অস্ত্র ঝনঝনানি। ভোটের আগে ভয়ে, ভোটের দিন ভয়, গোনার দিনের ভয়, জেতার শংসাপত্র নিতে ভয়। রাস্তা জুড়ে খড়গ হাতে গণতন্ত্র দাঁড়িয়ে ছিল না? বিজেপি'র 'ভরসা ইন' অনেকটা কাকের ময়ূরপুচ্ছ পরে ময়ূর হয়েছি দেখানোর মতো। কিন্তু 'ভয় আউট' -এটাতো মানুষ চেয়েছিল। সেই জন্য এত কেন্দ্রীয় বাহিনী ,কেন্দ্রীয় আধিকারিক কেন— এইটা সাধারণ মানুষ অন্তত ভোটের দিনের জন্য গ্রহণ করছে না। মানুষ ভোট দিয়েছে। অবাধে। ভোট প্রদানের হারের শতাংশ অভুতপূর্ব, সর্বাধিক। ৯১ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার পরেও এবারে বাড়তি ৩২ লক্ষ মানুষ ভোট দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে ভোট হওয়া ২৯৩ টি আসনে মোট ভোট পড়েছে ৯৩.৭১ শতাংশ। মহিলা ভোটারদের ভোট প্রদান ছিল ৯৩.৮ শতাংশ। পুরুষ ভোটারদের ভোট প্রদান ছিল ৯২.০৬ শতাংশ। কিন্তু এত বেশি শতাংশ ভোট কি করে? কেউ বলছেন এসআইআর’র গুঁতোয় ভোট না দিলে যদি নাম বাদ চলে যায়? হুড়মুড়িয়ে ভোট দিয়েছে মানুষ। কেউ বলছেন এটা প্রমাণ করে মানুষের উদগ্র সরকার পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা। যে লোক বেশ কয়েকবার ভোট দিতে পারেনি সে যখন দেখেছে বাইরে শান্তির পরিবেশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সুরক্ষা, তৃণমূলের ভোট লুটেরা বাহিনী কার্যত বাধ্য হয়ে হাত গুটিয়ে, স্থানীয় পুলিশ চাপের মধ্যে— তখন সে ভোট দেওয়ার জন্য বেরিয়ে এসেছে। এ রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনে বিযুক্ত ৯১ লক্ষের মধ্যে ৬২ লক্ষ মহিলা। ৬৮ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি নাম কাটা অথচ সবচেয়ে বেশি ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছে এবার মহিলারা।
নির্বাচন কমিশন সাচ্চা ছিল না। তাদের মাথার নিয়োগ হয়েছে পিছন পথে। সাধে তাকে রাজনৈতিক মহল ' সঙ্ঘী জ্ঞানেশ বলে ডাকে না। মহারাষ্ট্রে বিধানসভা ভোটের দিন শেষ বেলায় নিজেদের ঘোষিত ভোট প্রদানের হার হঠাৎ করে ৭.৬ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। মানে নতুন করে ৭৬ লক্ষ ভোটার যুক্ত হয়ে যায়। ফর্ম ১৭সি যাতে প্রদত্ত ভোটের পরিমাণ লেখা থাকে তা গোপন করার অভিযোগ ওঠে। মহারাষ্ট্রে ড্যাং ড্যাং করে বিজেপি জিতে যায়। বিহারে ৮৭টি আসনে বিগত বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থীরা জিতেছিল ৫০০০-এর কম ব্যবধানে। হিসাব পরিষ্কার হয়ে যায়। সবাই বলতে থাকে নির্বাচন কমিশনের এত কিছুর আয়োজন আসলে বিজেপি/এনডিএকে জেতানোর জন্য। এনডিএ জিতেও যায়।
প্রথমে এনুমারেশন ফর্ম, তারপর ম্যাপিং/আন ম্যাপিং, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি আর শেষে আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন। কোনোটাই সংবিধান সম্মত নয়। এই সবগুলো আর অন্য কোনও রাজ্যে হয়েছে— জিজ্ঞাসা করলে নির্বাচন কমিশনের কোনও উত্তর নেই। কে কবে দেখেছে যে অন্য অফিসারদের সরিয়ে সাতশো বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা ঠিক করছে কে ভোটার হবে বা হবে না ? প্রথমে যে ৫৮ লাখের নাম বাদ গেছে সেখানে মৃত, একাধিক নাম আছে বিভিন্ন জায়গায় অথবা স্থানান্তরিত নাম। বিগত বেশ কিছু নির্বাচনে এদের ভোট নির্বাচনী মেশিনারিকে ব্যবহার করে তৃণমূল তাদের পক্ষে করিয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে এই নামগুলির বিযুক্তিতে তৃণমূলের মাথায় পাহাড় ভেঙে পড়েছে। অনেকে মনে করে তৃণমূলের নির্বাচনে ভরাডুবির এটাও একটা কারণ। আন্ডার এডজুডিকেশনের পর্ব ছিল পুরোপুরি পরিকল্পিত এবং সাম্প্রদায়িক। মূলত এখানে লক্ষ্যবস্তু হয়েছে মুসলিম ভোট, আদিবাসী ভোট, প্রান্তিক মানুষের ভোট।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এখানে নাম বাদ দেওয়ার কৌশলগত লক্ষ্য ছিল সংখ্যালঘুরা- যারা সাধারণভাবে বিজেপি-কে ভোট দেবে না। যেমন মুর্শিদাবাদ জেলা। তৃণমূলের আসন ২০ থেকে নেমে এসেছে ৯-এ। মালদায় ৮ থেকে ৬। এইরকম উত্তর দিনাজপুর, নদীয়া, পূর্ব বর্ধমান, দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। নদীয়ার নাকাশিপাড়ায় গতবার তৃণমূল জিতেছিল ২১০০০ ভোটের ব্যবধানে। এবার বিজেপি জিতেছে ১৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেছে ৩৮,০০০। ১৮৮ বিধানসভা কেন্দ্রে আন্ডার এডজুডিকেশন পরবর্তীতে ন্যূনতম ৫০০০ ভোট বিযুক্ত হয়। এই কেন্দ্রগুলিতে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে জয় পরাজয়ের ব্যবধান ছিল ৫ শতাংশের নিচে। ২০২৬ নির্বাচনে এইরকম ৪৪টি আসন তৃণমূল থেকে ছিনিয়ে নেয় বিজেপি। বিজেপি’র থেকে ২টি আসন যায় তৃণমূলে। বিজেপি’র জয় বেশ চওড়া এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু এই জয়ে সঙ্কীর্ণ ব্যবধানের আসনগুলিতে এসআইআর পরিচালিত ভোটার তালিকা সংশোধনে নাম বিযুক্তি বড় প্রভাব রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে আরেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ সংখ্যালঘু মুসলিম ভোট। বিজেপি এদের সম্পর্কে আক্রমণ করেছে বাংলাদেশি বলে, তুলেছে মুসলিম অনুপ্রবেশের তত্ত্ব। সাম্প্রদায়িক লাইনে পালটা আরএসএস-বিজেপি হিন্দু লাইনে এককাট্টা করার চেষ্টা করেছে। রাজ্যে ৪৯ টি বিধানসভা কেন্দ্র আছে যেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ হিন্দু ভোটার। এবারের নির্বাচনে এই সব কটি কেন্দ্রেই বিজেপি জয়লাভ করেছে। ২০২৪ এ লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভা কেন্দ্রগুলির ২৯ টি তে তৃণমূল,২০টিতে বিজেপি এগিয়েছিল। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল পেয়েছিল ২৭ টি, বিজেপি পেয়েছিল ২২টিতে। ধর্মীয় মেরুকরণের কি উদগ্র প্রয়াস ছিল এতেই তা বোঝা যায়।
২০১১-এর জনগণনা অনুযায়ী ২৫ শতাংশ সংখ্যালঘু রয়েছে এমন বিধানসভার সংখ্যা ১৪৬। তৃণমূলের জয় ১৩১ কেন্দ্র থেকে নেমে এসেছে ৭৩ টিতে। বিজেপি তার আসন বাড়িয়েছে ১৪ থেকে ৬৬ তে। একটি করে আসন পেয়েছে সিপিআই(এম), কংগ্রেস,আই এস এফ। যে আসনগুলিতে ৩০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু মুসলিম জনসংখ্যা সেখানে তৃণমূল ৫৬ টি আসন পেলেও বিজেপি পেয়েছে ১৮ টি। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই এলাকায় বিজেপি’র জয় বড় সাফল্য। যে আসনগুলিতে মুসলিম জনসংখ্যা ৫০ শতাংশের উপরে তার সংখ্যা ৩২। এই কেন্দ্রগুলিতে গতবারের তুলনায় তৃণমূল ৯টি আসন হারিয়েছে। তৃণমূলের ১৬ শতাংশ ভোট কমেছে। কিন্তু অদ্ভুতভাবে গত বিধানসভা নির্বাচনে তুলনায় এখানে ৭.৬ শতাংশ ভোট প্রদানের হার বেড়েছে। এই ক'টি ফলাফল থেকে তৃণমূলের প্রতি সংখ্যালঘুদের বীতশ্রদ্ধতা অনুমান করা যায়।
রাজ্য রাজনীতিতে তফসিলি অংশেও বিজেপি ভেদ্যতা বাড়িয়েছে। ৩০ শতাংশের বেশি তফসিলি জনসংখ্যা এমন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি জিতেছে ৭২টি তে, তৃণমূল ১৫টি তে। নিজেকে ৩০ শতাংশ তফসিলি জনসংখ্যা যে বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে তার ৬৯ শতাংশ আসন বিজেপি’র পক্ষে গেছে। যে আসনগুলোকে তফসিলি জনসংখ্যা ১০%-এর নিচে সেখানে বিজেপি ৫৬ শতাংশ আসন পেয়েছে। তফসিলি জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি’র ভিত্তি বেড়েছে, তৃণমূলের কমেছে। ৬৮ টি তফসিলিদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ৫১টিতে বিজেপি জয়লাভ করেছে। মতুয়া অধ্যুষিত ২১ টি আসনে বিজেপি ১৮ টি জয়লাভ করেছে। উত্তরবঙ্গের ৩০টি রাজবংশী অধ্যুষিত আসনের কেবলমাত্র একটি পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। গ্রামীণ, আধা গ্রামীণ যেখানে জাতের বিন্যাস আছে সেখানেও তৃণমূলের বিচ্ছিন্নতা কাজ করেছে।
বিজেপি আদিবাসী সংরক্ষিত সকল আসনে জয়লাভ করেছে। জঙ্গলমহল এলাকায় চল্লিশটি আসনের মধ্যে দুটি কেবলমাত্র তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করেছে। কুর্মিরা গতবার স্লোগান দিয়েছিল— নো ভোট টু তৃণমূল। এবার প্রত্যক্ষভাবে স্লোগান দিয়েছে— ভোট টু বিজেপি। যে বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে আদিবাসী জনসংখ্যা ২০ শতাংশের উপরে সেখানে বিজেপি আসন পেয়েছে ৯৬ শতাংশ , সংখ্যায় ২৫। তৃণমূল পেয়েছে ৪ শতাংশ আসন, সংখ্যায় ১। ১০ থেকে ২০ শতাংশ জনসংখ্যা যে বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে সেগুলির ৮৫ শতাংশ আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি।
সীমান্ত ঘেঁষা আসনগুলিতে বিজেপি’র জয়ের প্রভাব কমে দাঁড়িয়েছে ৫৩.৫ শতাংশে। তৃণমূলের আসন শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯.৫ শতাংশ। বাইরে থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা যেখানে বেশি সেই অঞ্চলগুলিতে বিজেপি ৭৭.৬ আসন পেয়েছে, তৃণমূল পেয়েছে ২২.৪ শতাংশ। যে অঞ্চলগুলি থেকে পরিযায়ী শ্রমিকেরা বাইরে কাজ করতে গেছে সেই কেন্দ্রগুলিতে বিজেপি’র জয় কমে দাঁড়িয়েছে ৬৫.৩ শতাংশে। তৃণমূল ৩১.৩ শতাংশে।
বিজেপি’র বিজয় মূলত যে চারটি বিষয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত তা হচ্ছে তফসিলিদের সংহতকরণ, আদিবাসীদের মধ্যে প্রাধান্য, শহুরে এবং মিশ্র অঞ্চলে প্রভাব সম্প্রসারণ, কয়েকটি জেলার সমস্ত আসন দখল করা। জঙ্গলমহল, উত্তরবঙ্গ, শিল্পাঞ্চল এবং দক্ষিণবঙ্গের একাংশে বিজেপি তার প্রভাব বাড়িয়েছে। তৃণমূল তার প্রভাবকে বেশ খানিকটা ধরে রাখতে পেরেছে হাওড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদ জেলায়।
২৯৩ টি আসনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে ২৩৪টি আসনে জয়ী প্রার্থীর জয়ের ব্যবধান ২০২১ এর চেয়ে বেড়েছে। অন্ততপক্ষে ১৮টি কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধান হয়েছে ৫০০০ ভোটের নিচে। এর মধ্যে ১১ টি জিতেছে বিজেপি, তৃণমূল ৬ এবং কংগ্রেস ১টিতে। ২০টি কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধান হয়েছে ৫০০০ থেকে ১০,০০০ এর মধ্যে। ১০০০ ভোটের নিচে যে চারটি কেন্দ্রে ফলাফল হয়েছে তার সব ক'টি বিজেপি পেয়েছে।
তৃণমূলের আসন সংখ্যা ২১৫ থেকে ৮০তে নেমে এসেছে। উল্কার মত বিজেপি’র উত্থান হয়েছে ৭৭ থেকে ২০৭ এ। ২০১৯-এর পর বৃহৎ নির্বাচনে সিপিআই(এম) আসন পেয়েছে। বাম সহযোগী আইএসএফ তার আসন ধরে রেখেছে।
ফলাফলের মধ্য দিয়ে বোঝা যায় নির্বাচকেরা তৃণমূল কংগ্রেস এবং তাদের পরিচালিত সরকারের অপশাসন, দুর্নীতি, অরাজকতা, স্বজনপোষণ ইত্যাদি বহুবিধ কারণে চূড়ান্তভাবে সরকারের অপসারণ চেয়ে ছিল। এই বিষয়ে সুদূরপ্রসারী কোনও ভাবনা ভাবতে চায়নি। বিজেপি-কে মনে রাখতে হবে এই পরিবর্তন হিন্দুত্বের পক্ষে রায় নয়, দুর্নীতি ও প্রশাসনের ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারকে যে কোনও মূল্যে অপসারণের রায়। ২০১৯ থেকে চলছে বাইনারি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে বিজেপিতে ভোট। বিজেপি’র সম্পর্কে উদ্বেগ থেকে তৃণমূলে ভোট। এগুলো সব সাময়িক। মতাদর্শ ভিত্তিক নয়। ভোটার ভোট দিয়েছেন তার অপছন্দের লোককে হারাতে পারবে বলে যাকে মনে করেছেন। তার পছন্দের লোককে নয়। যে লোকটা কাল বিজেপি-কে ভোট দিয়েছে সে মৌলবাদী, দুর্বৃত্ত, দুর্নীতিগ্রস্ত নাও হতে পারে। কেউ বলেছেন যে এগুলো সব অস্থির ভোট। খুব তাড়াতাড়ি সরে যায়। ইল্যুশন কেটে যায়। তখনই নতুন লড়াই শুরু হয়।
মমতা এবং তার রাজনীতিকে হারিয়েছি বামপন্থীরাই। মানুষ এই জগদ্দল পাথর সরাতে চেয়েছিল। আমরাই প্রকৃত লড়াইয়ে ছিলাম। আমরাই সংগঠন, আন্দোলন, রাজনৈতিক অবস্থানের উপর দাঁড়িয়ে মানুষকে সমর্থন করেছি। বিকল্পের সন্ধান দিয়েছি। যারা ক্ষমতার সাধ আহরণ করছে তারা মমতাকে হারাতে চায়নি। দিনের পর দিন বোঝাপড়া করেছে। এই বাংলায় বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস তৈরি করেছে। আমাদের আবেদন ছিল বিজেপি এবং তৃণমূল উভয়কেই হারাতে। একটা হেরেছে, একটা ক্ষমতায় রয়ে গেছে। অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে হবে। হারার পরেও বাইনারি চলছে। যারা ভাবছে মমতা ফিনিশ তারা ইতিহাসের লেখা পড়েনি। মমতা পরিণত আরএসএস’র হাতে। কংগ্রেস মুক্ত ভারত করার লক্ষ্যে তাকে দিয়ে ভাঙিয়েছিল কংগ্রেস। আরএসএস’র সঙ্গে তার স্বাভাবিক মৈত্রী। আরএসএস একফোঁটা জায়গা ছাড়বেনা বামপন্থীদের, সিপিআই(এম)কে। তাদের অপ্রাসঙ্গিক রাখার যাবতীয় প্রয়াস থাকবে। বিজেপি শাসক থাকবে আর তৃণমূল বিরোধী। আর দু'জনের পেছনেই থাকবে আরএসএস-ও কর্পোরেটের দক্ষিণ হস্ত। সব ধরনের কর্তৃত্ব, সব ধরনের সাম্প্রদায়িকতার পরীক্ষা হবে এই বাংলায়। শুরু হয়েছে। নয়া ফ্যাসিবাদী বৈশিষ্ট্য নিয়েই ভবিষ্যতে কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে আক্রমণের গাথা তৈরি হবে। সর্বাত্মক আদর্শগত, রাজনৈতিক, সাংগঠনিক মোকাবিলা হবে। পৃথিবীর ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় ফ্যাসিবাদ, ধর্মীয় মেরুকরণ, পরিচিতি সত্তার রাজনীতির বিরুদ্ধে শ্রেণি আন্দোলন গড়ে তুলে তাদের বিপর্যস্ত করতে পারে বামপন্থীরাই। এই সময়টা আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নেওয়ার মতো হিংস্র। কিন্তু আমাদের কথা বলতেই হবে।
Comments :0