প্রবন্ধ
মুক্তধারা
স্বনামধন্য ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খান
আকাশ বিশ্বাস
২০২৬ মার্চ ২৬ | বর্ষ ৩
ওস্তাদ বিসমিল্লাহ ফলছিলেন খান ছিলেন একজন স্বনামধন্য ভারতীয় সানাই বাদক। তাঁর জন্ম ২১শে মার্চ ১৯১৬, বিহারের বক্সার জেলার ডুমরাও গ্রামে বিসমিল্লাহ খান জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম পয়গম্বর খান এবং তাঁর মাতার নাম মিঠানবাই। এই মহান সংগীত শিল্পীর সংগীত গুরু ছিলেন প্রয়াত আলী বকশ বিলায়াতু যিনি ছিলেন কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের বিখ্যাত সানাই বাদক। বিসমিল্লাহ খান মাত্র ৬ বছর বয়স থেকে সংগীত শিক্ষা শুরু করেন তাঁর গুরুর কাছে।
সানাইকে সংগীত জগতের মধ্যে যন্ত্র হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পিছনে একমাত্র কৃতিত্ব ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের। তিনি ১৯৩৭ সালে কলকাতায় অল ইন্ডিয়া মিউজিক কনফারেন্সে সানাই বাজিয়ে সানাইকে ভারতীয় সঙ্গীতের মূল দ্ধারে নিয়ে আসেন। ১৯৫০ সালের ২৬ শে জানুয়ারি ভারতের প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির লালকেল্লার অনুষ্ঠানে তিনি সাহেব তাঁর অন্তরের মাধুরী ঢেলে রাগ কাফি বাজিয়ে মুগ্ধ করেছিলেন সারা ভারতবর্ষকে।
তিনি সত্যজিৎ রায়ের জলসাঘর চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এবং গুঞ্জে উঠে সানাইয়ের অংশে সানাই বাজিয়েছিলেন। চলচ্চিত্র সানাদি আপ্পান্না'তে সানাইবাদক আপ্পান্নার জীবনের চলচ্চিত্রায়নের নেপথ্যে সানাই বাজিয়েছিলেন বিসমিল্লা খান। ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খান সানাইকে ভারতের সংগীত দ্ধরবারে বাদ্যযন্ত্র হিসেবে প্রকৃত করার জন্য ২০০১ সালে ভারতরত্ন,১৯৮০ সালে পদ্মবিভূষণ,১৯৬৮ সালে পদ্মভূষণ,১৯৬১ সালে পদ্মশ্রী,১৯৫৬ সালে সঙ্গীত নাটক একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন।
স্বনামধন্য সানাইবাদক ২১ অগাষ্ট ২০০৬ তারিখে বারাণসীর হেরিটেজ হসপিটালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৯০ বছর। আজ তাঁর জন্মদিনে আমরা সকলেই তার চরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করি।
দশম শ্রেণী
কল্যাণ নগর বিদ্যাপীঠ খড়দহ উত্তর ২৪ পরগনা
Comments :0