Bengal Education

বাংলা বাঁচাতে শিক্ষায় নৈরাজ্যের অবসান জরুরি

উত্তর সম্পাদকীয়​

শ্রুতিনাথ প্রহরাজ

অনেক দিনের পুরানো এক ছাত্রীর সঙ্গে দেখা। কথা বলতে গিয়ে শুরুতেই হোঁচট খেলাম। মেয়েটি অকালে তার সঙ্গীকে হারিয়েছে। তার দুই সন্তান। একটি ক্লাস থ্রিতে পড়ে, বড়টি ক্লাস সেভেনে। একমাত্র রোজগেরে স্বামীকে হারিয়ে  অথৈ জলে পড়েছে মেয়েটি। কিভাবে সান্ত্বনা জানাবো ভাবছি এমন সময় মেয়েটি বলল, "স্যার একটা কথা বলব? আপনাকেই বলা যায় কথাটা। দেখুন না বছরে তিনবার যাতে কোনও না কোনও ভোটের বন্দোবস্ত করা যায়।" আমি অবাক চোখে তাকিয়ে আছি ওর দিকে। মেয়েটি বলল, "আসলে ভোট এলেই তো মিড ডে মিলে ডিম আপেল সোয়াবিন ইত্যাদি কত কি খেতে পায় বাচ্চা দুটো। এমনি সময় তো সব দিন অর্ধেক ডিমও জোটে না। আমার বাচ্চা দুটোর মতো ছেলে মেয়েগুলো  কিছু ভালো-মন্দ খেয়ে তো বাঁচবে। তাই বললাম স্যার।" আমি কোনও উত্তর দিতে পারিনি।

সত্যিই তো, ভোট এলে মিড ডে মিলের বরাদ্দ বাড়তে থাকে। বাকি সময় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের দড়ি টানাটানির ঠেলায়  স্কুলগুলিতে মিড ডে মিলের বন্দোবস্ত শিকেয় ওঠার জোগাড় হয়। এদেশে এবং আমাদের রাজ্যে, সরকারি ব্যয়ে বুনিয়াদি শিক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রশ্নে মিড ডে মিলের গুরুত্ব কতখানি তা তৃণমূল-বিজেপি দুই সরকারই বোঝে। কিন্তু ভান করে না বোঝার। যাতে বোঝার দায় কাঁধে নিতে না হয়। তাই বাজারদরের তুলনায় বরাদ্দ বাড়ে না। এই মুহূর্তে প্রাথমিকে পড়ুয়া পিছু বরাদ্দ ৬ টাকা ৭৮ পয়সা আর উচ্চ প্রাথমিকে অর্থাৎ ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়ুয়া পিছু বরাদ্দ ১০ টাকা ১৭ পয়সা। যেখানে শুধু ডিমের দামই প্রায় ৮ টাকা। চাল ডাল মশলা পাতি জ্বালানি সহ বাকি খরচ জুটবে কোথা থেকে? মিড-ডে মিল কর্মী ও সহায়িকাদের অবস্থাও তথৈবচ। সরকারি অনুগ্রহে ন্যূনতম  সাধন পেয়ে মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার খরচ জোটে না। অথচ দেখুন, হাজার হাজার কোটি টাকার সরকারি খরচে রাম মন্দির, মহাকাল মন্দির, দুর্গা মণ্ডপ ইত্যাদি তৈরি হয়। ক্লাবগুলির জন্য দুর্গাপূজার বরাদ্দ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে ১ লাখ ১০ হাজার হয়। খেলা-মেলায়, ভোট এলে নগদ অর্থ বিলি প্রকল্পগুলিতে আরও কত সরকারি অর্থ বরাদ্দ হয়। শুধু নজর থেকে হারিয়ে যায় স্কুলের এই বাচ্চাগুলো, যাদের স্কুল ক্যাম্পাসে ধরে রাখাটাই সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হওয়ার দরকার ছিল। সরকার চোখ বন্ধ করে থাকায় ক্যাম্পাস থেকে অকালে হারিয়ে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় এইসব ছেলেমেয়েরা। পড়া বন্ধ রেখে কম বয়সেই এদের কেউ বাপ কাকার হাত ধরে গতর খাটতে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে। আর মেয়েরা নাবালক অবস্থায় বসছে বিয়ের পিঁড়িতে। শুধু ভোট এলে মিড ডে মিল খেতে থাকা পড়ুয়াদের ডিম আপেল সহ ভরা পাতের ছবি বের হয় কাগজে। এটাই নির্মম বাস্তব, যা ওই ছাত্রীটি অনেক যন্ত্রণা বুকে চেপে পরিহাসের ছলে আমায় বলবার চেষ্টা করেছে।

ইতিমধ্যে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কম—  এই অজুহাতে প্রায় সাড়ে আট হাজার প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্কুল বন্ধ করেছে এ রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। আরও বেশ কিছু স্কুল আগামী দিনে বন্ধ হওয়ার তালিকাভুক্ত হয়ে আছে। এ ব্যাপারে বিজেপি-ও যে খুব একটা পিছিয়ে আছে তা নয়। শিক্ষা ব্যবসায় বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষা সুনিশ্চিত করতে গত দশ বছরে সারা দেশে মোদী সরকার প্রায় দেড় লক্ষাধিক এ ধরনের স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে। দেশ জুড়ে এবং আমাদের রাজ্যে শিক্ষার বল্গাহীন বেসরকারিকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণ চলছে। একই সাথে এই ব্যবস্থা জারি রাখতে সরকারি ব্যয়ে পরিচালিত সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে যাতে আমজনতার সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা সৃষ্টি হয়। এই সময়ে শুধু বেড়েছে হিন্দুত্ব ও হিন্দু রাষ্ট্র প্রকল্পের কোচিং সেন্টার হিসাবে পরিচালিত আরএসএস নিয়ন্ত্রিত সরস্বতী শিশু মন্দির, বিদ্যা ভারতীর মতো আরও নানা নামের স্কুলগুলি। নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি চালু হওয়ার পর এগুলি এখন প্রায় সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমমর্যাদাভুক্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও তৃণমূল কংগ্রেসের সৌজন্যে গত দেড় দশকে আরএসএস পরিচালিত এই স্কুলগুলির সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। একটা বড় অংশের ছাত্র-ছাত্রীকে যুক্তিবোধ ও কুসংস্কার মুক্ত বিজ্ঞানমনস্ক পাঠ্যসূচি থেকে সরিয়ে হিন্দুত্বের পাঠশালায় অন্তর্ভুক্ত করার একনিষ্ঠ প্রয়াস চলছে। একই সাথে বাড়ছে কেজি টু পিজি এডুকেশন শপিং মল। শহরে তো ছিলই, এখন গ্রাম-গঞ্জ জুড়ে গড়ে উঠছে একের পর এক বেসরকারি স্কুল।  সরকারি স্কুলগুলোর এমন প্রাণান্তকর দশা। 
রাস্তায় রাস্তায় এখন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের উন্নয়নের পাঁচালি শোনানো হচ্ছে। অন্যান্য ক্ষেত্রের সঙ্গে শিক্ষাও ওই পাঁচালির অন্তর্ভুক্ত। শুনলে মনে হবে মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণার ঠ্যালায় রাজ্যের সার্বিক শিক্ষাঙ্গন এখন বসরাই গোলাপের বাগানে পরিণত হয়েছে! সত্যি কি তাই? প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়স্তর পর্যন্ত সর্বত্র প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও সীমাহীন নৈরাজ্য বস্তুত রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনকে পঙ্গু করে তুলেছে। প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে ৩২ হাজার শিক্ষকের ভবিষ্যৎ এখন সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন। প্রধান অভিযুক্ত মানিকবাবু জেল থেকে জামিনে মুক্ত হলেও এই দুর্নীতির কারণে বঞ্চিত লক্ষাধিক যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীরা তাদের জীবন যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাননি। ২০১১ সালে বামফ্রন্ট সরকার বিদায় নেওয়ার সময় প্রাথমিকের শিক্ষক পদ ছিল ১৯২৫৪৭। গত ১৫ বছরে সেই সংখ্যা আর বাড়েনি বরং কমছে কারণ বেশ কিছু স্কুল ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে প্রাথমিকে প্রায় ৬২ হাজার শিক্ষক পদ খালি পড়ে আছে। দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত 'জেলফেরত বিশিষ্ট সমাজসেবীরা' আবার বিধানসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কিনা তা নিয়ে বিস্তার ভাবনা চিন্তা শুরু হয়ে গেছে। শুধু, প্রাথমিক শিক্ষার এই পঙ্গুদশার কারণে শিশুদের ভবিষ্যৎ কি হবে তা নিয়ে ভাববার অবকাশ সরকার বা শাসকদলের নেই। 
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলগুলিতে চিত্রটা আরও ভয়ঙ্কর। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ১৯৯৭ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশন গড়ে ওঠে। এর মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে ১৩৪৮১৮ জন শিক্ষক নিযুক্ত হয়েছেন যেখানে মেধাই ছিল প্রধান মাপকাঠি। ৯৮৩৯ জন প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত হয়েছেন। কোথাও কোনও সমস্যা হয়নি। তখনও নিয়োগ নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে, কিন্তু সে মামলা ধোপে টেকেনি। কারণ নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিল স্বচ্ছ। এখনকার মতো রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী থেকে শুরু করে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি, স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান সহ তৃণমূল কংগ্রেসের এক ডজন নেতা মন্ত্রী বিধায়কদের বছরের পর বছর জেল খাটতে হয়নি। আর এখন, রাজ্যের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলগুলিতে প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষক পদ শূন্য পড়ে আছে। প্রায় ৬০০০ স্কুলে কোনও প্রধান শিক্ষক নেই। শিক্ষক শিক্ষাকর্মী  নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেরবার হয়ে আদালতের টানাপোড়েনের মধ্যে পড়ে স্কুল গুলিতে নতুন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। হালে সেই প্রক্রিয়া আবার শুরু হয়েছে। তবে মাত্র ৪৬ হাজার শিক্ষক পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। বাকি ৫৪ হাজার শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে তার সদুত্তর সরকার দেয়নি। গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি পদে যথাক্রমে ৪০০০ ও ৫০০০ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি হালে জারি হয়েছে। শূন্য পদের সংখ্যা এর প্রায় দ্বিগুণ। ফলে বহু স্কুলে শিক্ষাকর্মীর অভাবে খাতায় নাম লেখা থেকে শুরু করে ক্লাসের ঘণ্টা বাজানোর কাজ শিক্ষকদেরই করতে হয়। এভাবেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে রাজ্যের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। 
মাদ্রাসা শিক্ষারও একই রকম বেহাল দশা। আন-অ্যা ডেড মাদ্রাসা শিক্ষকরা স্থায়ী চাকরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দাবি নিয়ে দিনের পর দিন ধর্নায়  সামিল। মুখ্যমন্ত্রীর ১০ হাজার নতুন মাদ্রাসা তৈরির ঘোষণার ফানুস চুপসে গেছে। অথচ বাম আমলে ৩৪ বছরে  সিনিয়র জুনিয়র ও হাই মাদ্রাসা— সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০ টি নতুন মাদ্রাসা স্থাপিত হয়েছিল। ১৯৭৭ সালে মাদ্রাসা শিক্ষার বাজেট ছিল ৬ লক্ষ টাকারও কম। ২০১০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬১০ কোটি টাকায়। মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকীকরণে সার্বিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল সেসময়। এখন সবটাই তালগোল পাকিয়ে বসে আছে।

আরও একটি বিষয় এখানে উল্লেখ করা দরকার। বামফ্রন্ট সরকার পথচলার শুরুতেই শিক্ষার সর্বজনীন বিকাশের লক্ষ্যে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিল। এখন সরকারি বা সরকার পোষিত স্কুলগুলিতেও পড়তে গেলে ভালো অঙ্কের বেতন দিতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্কুলগুলিতে কেন্দ্রীয় অনুদান প্রায় বন্ধ। রাজ্যের দেয় অনুদান স্কুলগুলি পায় অর্ধেক বা তারও কম। স্কুলগুলি সেই অজুহাতে চক ডাস্টার কেনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ল্যাবরেটরি, বিদ্যুতের খরচ ও অন্যান্য পরিচালনার খরচ জোগাড় করতে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে বেতন খাতে যে যার ইচ্ছেমতো টাকা নিতে শুরু করেছে। 
উচ্চশিক্ষায় সীমাহীন নৈরাজ্য রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে প্রায় লিকুইডেশনে পাঠিয়ে দিয়েছে বলা যেতে পারে। কেন যাদবপুর বাদে রাজ্যের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলি সর্বভারতীয় স্তরে ক্রমতালিকায় পিছিয়ে পড়ছে তা বিচ্ছিন্নভাবে দেখে লাভ নেই। এক নজরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির হাল দেখলে তা বোঝা যায়। গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কেন্দ্রীয় বরাদ্দ কমছে। পাল্লা দিয়ে কমছে রাজ্যের অনুদানও। বাড়ছে শুধু রাজ্যের তথা শাসকদলের খবরদারি। একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয় আর সরকারি কলেজ খোলার ঘোষণা হয়েছে যেগুলির ন্যূনতম পরিকাঠামো নেই। চালু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কি অবস্থা? কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৩২টি শিক্ষক পদের মধ্যে ৩৫১টি পদ খালি। এর উপর আবার ফিন্যান্স অফিসার, কলেজ পরিদর্শক, লাইব্রেরিয়ান পদে লোক না থাকায় স্থায়ী পদে কর্মরত শিক্ষকদের তা সামলাতে হচ্ছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৯০ টি শিক্ষক পদে ৬৬৮ জন কর্মরত। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮৬টি শিক্ষক পদে ৯৭ জন কর্মরত। দীর্ঘদিন ধরে কন্ট্রোলারের কাজ চালাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ার, ভাবা যায়! পরীক্ষা ব্যবস্থার সবটাই চলছে আউটসোর্সিং -এর মাধ্যমে। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রায় অর্ধেক শিক্ষক পদ শূন্য পড়ে আছে। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শূন্যপদের সংখ্যা ৫০ আর শিক্ষাকর্মী শূন্যপদের সংখ্যা ৪৫০। এভাবে কখনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলতে পারে?
কলেজগুলিরও একই হাল। প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষক পদ এবং ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ শিক্ষাকর্মী পদ শূন্য পড়ে আছে। ১৩০০০ অস্থায়ী শিক্ষককে নামমাত্র পারিশ্রমিক দিয়ে শূন্য পদের শিক্ষকদের কাজ করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ১৩  জুলাই ২০১৯, এক সরকারি আদেশ নামায় নতুন করে শিক্ষক পদে অস্থায়ী নিয়োগ বন্ধ করা হয়েছে। অথচ নতুন নিয়োগ নেই। কলেজগুলি বাধ্য হয়ে কোথাও রিসোর্স পার্শন কোথাও ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি নাম দিয়ে অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করছে যারা সরকারের দেওয়া কোনও পারিশ্রমিক পান না।  কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এখন লেখাপড়ার বিষয়টা যত কম আলোচনা হয় ততই মঙ্গল। বাংলা বাঁচাতে শিক্ষায় এই সীমাহীন নৈরাজ্যের দ্রুত অবসান জরুরি।  
এ রাজ্যে, সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা যে রসাতলে গেছে এ কথা এখন আর মাইক ভাড়া করে বলতে হয় না। সবাই জানেন, সুযোগ পেলে বলেন ও তা। ২০১১-য় সরকার বদলের সাথে সাথে শিক্ষায় চরম নৈরাজ্যের চিত্রনাট্য তৈরি হয়। তারপর থেকে গত দেড় দশকে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সর্বত্র, অনেকটা টিভির মেগা সিরিয়ালের ধাঁচে এই নৈরাজ্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। কোথাও শিক্ষক আছেন ছাত্র-ছাত্রী নেই আবার কোথাও চিত্রটা ঠিক উল্টো। রাজ্যের নামকরা কলেজগুলিরও অনার্স বিভাগে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ আসন খালি পড়ে থাকছে। সব মিলিয়ে এক চরম হতাশার অন্ধকারে ডুবেছে এই প্রজন্মের সর্বস্তরের ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ। অসহায় অভিভাবককুল এখন পরিবর্তনের ঠ্যালা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। ওঁদের একটাই কথা, ছেলেমেয়েগুলোর ভবিষ্যতের কথা ভেবে বর্তমান এই ব্যবস্থার দ্রুত বদল দরকার।

Comments :0

Login to leave a comment