Bangladesh Fire

ঢাকার বঙ্গবাজারে বিধ্বংসী আগুন, পুড়ে ছাই পাঁচ হাজার দোকান

আন্তর্জাতিক

Bangladesh Fire


আগুন লাগাল ঢাকায় বঙ্গবাজারে। মঙ্গলবার সকালে এই আগুন লাগে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে দমকলের পঞ্চাশটি ইঞ্জিন। বাংলাদেশে কাপড়ের অন্যতম প্রধান মার্কেট বঙ্গবাজারে ভয়াবহ আগুন লাগার প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা পর দমকলের ৫০টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে। দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের আধিকারীক মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১০ মিনিট নাগাদ আগুন লাগে। দুপুর সাড়ে ১২ টা নাগাদ তা নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডে মার্কেটের আড়াই হাজারসহ আশপাশের মার্কেট সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার দোকান পুড়ে ভস্মিভূত হয়েছে বলে দাবি করেছে দোকান মালিক সমিতি। যদিও আগুন লাগার কারণ এখনো কিছু জানা যায়নি। তবে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানা গেছে। তদন্তের পরই আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানা যাবে। আগুন নেভাতে গিয়ে ৮ দমকলকর্মী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। 


ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ক্ষতির পরিমাণ দুই হাজার কোটি টাকার মত হতে পারে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ১০ মিনিট নাগাদ বাংলাদেশের অন্যতম বড় এই মার্কেট বঙ্গবাজারে আগুন লাগে। দমকলের  ৫০ টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রনের কাজ শুরু করে। দমকল কর্মীদের প্রায় সাড়ে ছয় ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণ আসে। যদিও ততক্ষণে বঙ্গবাজারের কয়েকটি মার্কেট পুরোপুরি ভষ্মীভূত হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাশের এনেক্সকো টাওয়ার এবং আরও কিছু বাড়ি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন বঙ্গবাজার চারটি ইউনিটে বিভক্ত। বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স, গুলিস্তান ইউনিট, মহানগর ইউনিট ও আদর্শ ইউনিট মিলিয়ে মোট দোকানের সংখ্যা ২ হাজার ৩৭০টি। সামনে ঈদ তাই প্রতিটি দোকানেই লক্ষ লক্ষ টাকার জিনিসপত্র মজুত রাখা হয়েছিল। তা সরানোর সুযোগ পাননি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান আশ্বাস দেন ক্ষতিগ্রস্তদের সরকার পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবে। দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, বঙ্গবাজার মার্কেট থেকে লাগা আগুন একে একে পাশের গুলিস্তান মার্কেট, আদর্শ মার্কেট, এনেক্সকো টাওয়ার ও মহানগর মার্কেটে ছড়িয়ে পড়ে। রমজানের ঈদ কেন্দ্রিক ব্যবসায় ক্ষতি পুষিয়ে দিতে প্রাথমিকভাবে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানান তিনি।


দমকলের আধিকারীক মাইন উদ্দিন জানান, ২০১৯ সালের ২ এপ্রিল বঙ্গবাজারের এই ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে। তখন ভবনে একটি ব্যানারও টাঙিয়ে দেয়া হয়েছিল। এর পর ১০ বার নোটিশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা উপেক্ষা করেই ব্যবসা চলছিল বলে জানান তিনি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দেরি হওয়ার জন্য উৎসুক জনতার ভীড়, জলের সঙ্কট এবং আবহাওয়া দায়ী করেছেন তিনি। 
দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের আধিকারীকের অভিযোগ বঙ্গবাজারের ঠিক বিপরীতে থাকা দমকলের সদরদপ্তরে হামলা চালানো হয়েছে। গাড়ি ও ভবনে ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি ক্ষোভের সুরে বলেন, গত এক বছরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ করতে দমকলের ১৩ জন কর্মী নিহত হয়েছেন এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন। তারপরেও কেন দমকলের উপর হামলা। 
 

Comments :0

Login to leave a comment