Party Congress Bengal

বাংলায় বামপন্থীদের লড়াইয়ের ঝাঁজ বাড়ছে

জাতীয়

বৃহস্পতিবার পার্টি কংগ্রেসে বক্তব্য রাখছেন দেবাশিস চক্রবর্তী।

তৃণমূল  সরকারের জমানায় বাংলার বুকে সাম্প্রদায়িক শক্তির রমরমা বাড়লেও গত কয়েক বছরে বামপন্থীদের গণআন্দোলনও তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। বৃহস্পতিবার মাদুরাইতে সিপিআই(এম)’র ২৪তম কংগ্রেসের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কংগ্রেসে অংশ নেওয়া সিপিআই(এম) প্রতিনিধিরা সারা দেশের প্রতিনিধিদের সামনে একথা জানিয়ে বলেছেন, এতটুকুও ছাড় না দিয়ে শেষপর্যন্ত আমরা এই লড়াই জারি রাখব। 
বুধবারই মাদুরাইয়ের তমুক্কম গ্রাউন্ড হলে শুরু হয়েছে সিপিআই(এম)’র ২৪তম কংগ্রেস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির কো-অর্ডিনেটর প্রকাশ কারাত যে রাজনৈতিক সাংগঠনিক ও পর্যালোচনা রিপোর্ট পেশ করেছেন বৃহস্পতিবার তার ওপরেই প্রতিনিধিদের আলোচনা শুরু হয়েছে। সব রাজ্যের প্রতিনিধিদের মধ্যেই বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বাম আন্দোলনের সম্পর্কে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। এদিন পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেন দেবাশিস চক্রবর্তী ও সমন পাঠক। তাঁরা পার্টি কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের সামনে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেছেন, প্রয়াত কমরেড সীতারাম ইয়েচুরি বারবার মনে করিয়ে দিতেন, বাংলায় বাম আন্দোলনের পুনর্জাগরণ ছাড়া সারা দেশে বামপন্থী আন্দোলনের পুনর্জাগরণ সম্ভব নয়। বাস্তবতা হলো, গত তিনটে নির্বাচনে বাংলায় বামপন্থীরা কোনও আসনে জয় পায়নি, পার্টির স্বাধীন শক্তিরও খুব বড় মাপের বৃদ্ধি হয়নি। বরং তীব্র আক্রমণ চলছে বামপন্থীদের ওপর, প্রতিবাদীদের ওপর। আন্দোলনকারী, প্রতিবাদীদের নানাভাবে হয়রান করা হচ্ছে। ১১ জন শহীদ হয়েছেন এই সময়ে। 
কিন্তু এর মধ্যেও বামআন্দোলনের নাছোড় লড়াই সম্পর্কে বাংলার প্রতিনিধিরা বলেছেন, আন্দোলন সংগ্রামে জোয়ার এসেছে। শ্রমিক শ্রেণির আন্দোলন হচ্ছে ইস্পাত, কয়লা, চটশিল্পে, চা বাগানে ইত্যাদি সংগঠিত ক্ষেত্রে। যদিও অসংগঠিত ক্ষেত্রে দুর্বলতা আছে, কিন্তু গিগ শ্রমিক, গৃহপরিচারিকা সব ক্ষেত্রেই আন্দোলন প্রসারিত হচ্ছে। বিশেষ করে ছাত্র-যুব আন্দোলনে তীব্রতা এসেছে। রাজ্যজুড়ে তাঁরা ইনসাফ যাত্রা করে বিরাট ব্রিগেড সমাবেশ করেছিলেন। এখনও প্রায় প্রতিদিন কাজের দাবিতে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই আন্দোলনে পুলিশি হামলার মুখোমুখি হচ্ছে তারা। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে ছাত্ররাও লড়াই করছে। এর মধ্যে গত আগস্ট মাস থেকে আর জি কর আন্দোলন অভিনব রূপে সংগঠিত হয়েছে। জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত পথে নামা দেখা গেছে, এবং পার্টি জনগণের এই প্রতিবাদের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আন্দোলন চালিয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল ব্রিগেড সমাবেশ হবে শ্রমজীবী মানুষের ডাকে, এখন তার নিবিড় প্রচার চলছে। 
পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিরা বিজেপি’র বিপদ বৃদ্ধির কথাও বলেছেন। তাঁরা বলেছেন, দেশভাগ ও তার হাত ধরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থী গণআন্দোলনের কারণে সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথা তুলতে পারেনি। কিন্তু এখন তৃণমূল সরকারের আমলে সাম্প্রদায়িক শক্তির সক্রিয়তা ও প্রভাব বাড়ছে। তৃণমূল সরকারে আসার পরে পশ্চিমবঙ্গে আরএসএস’র শাখার সংখ্যা দশ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীও জগন্নাথ মন্দির করছেন। তৃণমূল এবং বিজেপি একে অপরের সঙ্গে শুধু প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতাই করছে না, পরস্পরকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিও জোগাচ্ছে। 
রাজ্যের উত্তরেও আরএসএস বিজেপি’র সক্রিয়তায় মানুষের মধ্যে বিভাজনের অপচেষ্টা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রচার বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে কংগ্রেসের অধিবেশনে বলেছেন বাংলার প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলেছেন, চা বাগানে শ্রমিক আন্দোলনে তীব্রতা বাড়ছে। কিন্তু একই সঙ্গে শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহার করা হচ্ছে, জাতিসত্ত্বার আবেগ উসকে দেওয়া হচ্ছে। এই জাতিসত্ত্বার রাজনীতিতেই উত্তরবঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রবণতাকে জাগিয়ে তোলা হচ্ছে।
 

Comments :0

Login to leave a comment