Assembly Election 2026

নিরাপত্তার অভাব বোধ করলে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোটারকে বুথে আনা হবে

রাজ্য

ভোটকেন্দ্রে আসার পথে নিরাপত্তার অভাব বোধ করলে ভোটারদের কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে বুথে আনার ব্যবস্থা করবে কমিশন। দ্বিতীয় দফার ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে অবাধ ভোটের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। 
বুথের নিরাপত্তার পূর্ণ দায়িত্ব এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর। প্রথম দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় বুথ সুরক্ষায় সফল হয়েছে কমিশন। কিন্তু দ্বিতীয় দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বুথের নিরাপত্তার সঙ্গে বাড়তি দায়িত্ব দিতে চলেছে কমিশন। কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, ‘‘কোনও ভোটার যদি ভোটকেন্দ্রে আসার পথে নিরাপত্তার অভাব বোধ করলে তাঁকে সাহায্য করার ব্যবস্থা করা হবে। ভোটাররা সাহায্য চাইলে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরাপত্তায় তাঁকে ভোটকেন্দ্রে আনার ব্যবস্থা হবে।’’ 
বাড়ি থেকে নির্ভয়ে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসার পথকে মসৃণ করাই দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। বাড়ি থেকে ভোটারদের বেরিয়ে বুথে আসার পথে বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কা আগাম ছিল কমিশনের। তাই ভোটারদের জন্য দ্বিতীয় দফায় ভোটের আগে কমিশন বুথ সুরক্ষার পাশাপাশি ভোটারদের বুথে আসাকে নিশ্চিত করতেই সক্রিয় ভূমিকা নিতে চলেছে কমিশন।
কমিশনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কমিশনের সিইও মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ‘‘ভোটারদের কাছে অনুরোধ করছি, আপনারা আপনাদের নিজের ভোট দিতে আসুন। আপনাকে কেউ আটকাবে, কেউ ধমকাবে, কেউ চমকাবে আপনারা এলাকার থানায় যোগাযোগ করতে পারেন, আমাদের (কমিশন) কন্ট্রোল রুম নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (জেলাশাসক) নম্বর, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। সাহায্য করার জন্য অনেক ব্যবস্থা আছে। আমরা বলছি, নির্ভয়ে এসে ভোট দিন।’’ কমিশনের ১৯৫০ নাম্বার আছে। ভোটপর্বে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়লে ভোটারদের জন্য ২৪ ঘণ্টার ‘১৮০০-৩৪৫-০০০৮’ নম্বর চালু করেছে।
ইতিমধ্যেই কমিশন ভোটারদের পথে বাধা তৈরি করতে পারে এমন চিহ্নিত প্রায় দেড় হাজারের ওপর দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু দ্বিতীয় পর্বের ভোটে কমিশন কর্তারা মনে করছে, বুথ সুরক্ষিত থাকলেও ভোটারদের আসার পথে বিঘ্ন হতে পারে। তাই দেড় দুষ্কৃতীকে দ্বিতীয় পর্বের ভোটের আগে গ্রেপ্তার করার পরই কমিশন নিশ্চিন্ত হতে পারছে না। কমিশনের এক শীর্ষকর্তার কথায়, ‘‘এ যেন জাদুকর পিসি সরকারের ‘ওয়াটার অব ইন্ডিয়া’র ম্যাজিকের মতো। সেই জাদুতে গ্লাস ভর্তি জল উলটে দেওয়ার পরও আবার গ্লাস জলে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। এখানেও চিহ্নিত দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের পরও নতুন করে গজিয়ে উঠছে ভোটারদের বাধা সৃষ্টিকারী দুষ্কৃতী বাহিনী। দ্বিতীয় দফার ভোটকেও অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে কমিশন আরও কঠোর হতে চলেছে।’’
প্রথম দফার ভোটের দিন ৪৪ হাজারের বুথ সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত ছিল। ফলে ১৬ জেলার ১৫২ আসনের কোথাও পুনর্নিবাচনের নির্দেশ দিতে হয়নি। ভোট পড়েছিল রেকর্ড ৯৩ শতাংশ। কিন্তু ভোটের দিন রাজ্যের বেশ কিছু জেলায় ছোটখাট হিংসার ঘটনা ঘটে যায়। কিন্তু এদিন ছিল দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচারের শেষদিন। এদিনই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গোলমালের ঘটনা ঘটেছে। তারমধ্যে আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতা বাগের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আহত সাংসদ হাসপাতালে ভর্তি। এই ঘটনার পর কমিশনের কাছে জেলা পুলিশের তরফ থেকে কমিশনের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। তাতে ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি সক্রিয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী। 
এদিন সকালে গোঘাটে বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, গ্রেপ্তার হওয়া দলীয় কর্মীদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের ওপর চাপ তৈরি করতে থাকেন তৃণমূল নেতারা। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার কিছু পরেই তৃণমূলের সাংসদ মিতা বাগের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তৃণমূলের করা এফআইআর’র ভিত্তিতে পুলিশ যাকে গ্রেপ্তার করে সেই দলেরই কর্মী। ফলে সাংসদের ওপর আক্রমণের ঘটনা সাজানো কিনা তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে এদিন আরামবাগে দলের সভা থেকে অভিষেক ব্যানার্জি সাংসদের ওপর হামলার দায় সিপিআই(এম)’র ঘাড়ে চাপিয়ে দেন। হুমকি দিয়ে বলেন, ‘‘আরামবাগে তৃণমূল জিতুক বা হারুক। ৪ মে বেলা ১২টার পর কোন জল্লাদের কত ক্ষমতা, কোন দিল্লির বাবা কাকে বাঁচাতে আসে দেখবো। আমি নিজে দায়িত্ব নিচ্ছি।’’ 
দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য বুথের মধ্যে ও বাইরে ক্যামেরা লাগানো থাকছে। একইসঙ্গে বুথে আসার পথেও বাড়তি ক্যামেরার ব্যবস্থা করছে নির্বাচন কমিশন। যাতে ক্যামেরার ওপর নজরদারি চালিয়ে কমিশনের ভাষায় ‘ট্রাবল মঙ্গার’দের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। 
এদিন সন্ধ্যার পর থেকেই রাজনৈতিক প্রচার বন্ধ। কমিশনের ভাষায় ‘সাইলেন্স পিরিওড’কে সামনে রেখে প্রথম দফার ভোটে যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল তা অব্যাহতো থাকছে। বাড়তি বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে কমিশন জানিয়েছে। তবে সেটা প্রকাশ্যে আনতে চাইছে না কমিশন। তারমধ্যে এলাকাভিত্তিতে ভোটরাদের হুমকি দিতে পারে এমন দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারির সংখ্যা বাড়বে তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

Comments :0

Login to leave a comment