সামনে এলো তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের চিঠি। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ, অসিত মাল, প্রসুন ব্যানার্জি, ইউসুফ পাঠানের মতো সাংসদের সই রয়েছে চিঠিতে।
গত ১৮ মে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে বিদ্রোহীরা জানিয়েছেন, তারা দল থেকে দূরত্ব বজায় রেখে শাসক গোষ্ঠী এনডিএ’র সঙ্গে হাত মেলাতে চায়। এর ঠিক দু'দিন পর, ২০ মে দলের পক্ষ থেকে স্পিকারকে একটি পাল্টা চিঠি দিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পরিবর্তে কল্যাণ ব্যানার্জিকে চিফ হুইপ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
এর আগেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তৃণমূলের একটি বিদ্রোহী অংশ লোকসভায় আলাদা বসার জায়গা দাবি করেছে এবং তারা বিজেপিকে সমর্থন করতে পারে। ইতিমধ্যে তিন জন রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ পদত্যাগও করেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছেন প্রকাশ বরাইক। এছাড়া ১০ জুন সুস্মিতা দেব এবং ৮ জুন সুখেন্দু শেখর রায় পদত্যাগ করেছেন। তবে এরা তিন জন বিদ্রোহীদের চিঠিতে সই করেছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, বিদ্রোহী নেতা কাকলি এবং শতাব্দীর দাবি, তাদের সঙ্গে অন্তত ২০ জন সাংসদের সমর্থন রয়েছে। লোকসভায় তৃণমূলের মোট ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন। ফলে দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে এবং মূল দল হিসেবে স্বীকৃতি পেতে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অন্তত ১৯ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন, যা তাদের কাছে রয়েছে বলেই জল্পনা।
কীর্তি আজাদের মতো সাংসদ রয়েছে মমতার পাশেই। বিজেপির বিরুদ্ধে 'অপারেশন লোটাস'-এর অভিযোগ তুলে তিনি বলেছেন, ‘চিঠিতে প্রথম আট জন সাংসদ যে কালিতে সই করেছেন, বাকিদের সই অন্য কালিতে। অনেকেই বিজেপির কাছ থেকে নিজেদের শর্তে সুবিধা পেয়ে সই করেছেন, আবার অনেককে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি জানি ওই দলের অন্তত তিন জনকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘মিতালি বাগ বা মালা রায়ের মতো অনেকের নাম পরে জোর করে যোগ করা হয়েছে।’ বিদ্রোহীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে আজাদ বলেন, ‘বিশ্বাসঘাতকরা চলে যেতে চাইলে যাক।’
১৫ বছর পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ৮০টি আসন পাওয়া তৃণমূলের অন্দরে এখন মমতার নেতৃত্ব এবং দলের পরিচালনা নিয়ে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।
বিদ্রোহীদের প্রধান অভিযোগ, মমতা ব্যানার্জি বাস্তবের মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এবং রাজ্য ও দল উভয় ক্ষেত্রেই দুর্নীতি শেকড় গেড়েছে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা তুলে দেওয়া নিয়েও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা।
২০০৯ সাল থেকে মমতার সঙ্গী, চারবারের সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, ‘আমি দল ছাড়ছি কারণ আমাদের কথা শোনা হচ্ছিল না। আমি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে চাই কিন্তু কেউ আমাদের কথা শোনেনি। মমতা ব্যানার্জির কাছে কেবল বাছাই করা কিছু মানুষেরই প্রবেশাধিকার ছিল।’ দুর্নীতি নিয়েও সরব হন এই সাংসদ।
তৃণমূলের অন্দরের এই ফাটল বৃহস্পতিবার আরও প্রকট হয় যখন কল্যাণ সরাসরি অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন।
মমতার এই অন্যতম আস্থাভাজন বলেন, ‘ওর (অভিষেকের) অহংকারী মনোভাব দলটাকে শেষ করে দিল ও নিজেকে 'রাজা' মনে করে। দলের এই দুর্দিনে যখন আমি মমতা ব্যানার্জির পিছনে দাঁড়িয়ে দলের হয়ে লড়াই করছি, তখন অভিষেকের এই আচরণের জন্য আমার পক্ষে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।’
কল্যাণ বলেন, ‘মমতাদিকেই এবার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি অভিষেককে ছাড়া তিনি দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে না পারেন, তবে আমি আর এই দলে থাকব না।’
TMC
২০ মে, আলাদা হতে চেয়ে অধ্যক্ষকে চিঠি দিয়েছিল তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা
×
Comments :0