assembly 2026 MURARAI

প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকার খরচ, মেটেনি জলসংকট মুরারই-র আদিবাসী গ্রামে

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

রাজগ্রামের মোহনপুরে আদিবাসীদের সঙ্গে কথা বলছেন মুরারই বিধানসভার সিপিআই(এম) প্রার্থী আলিরেজা মন্ডল।

 রুহুল আমিন

জলের অপর নাম জীবন। বিশুদ্ধ পানীয় জল দুর্লভ হলে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠে। মুরারই বিধানসভা এলাকার রাজগ্রাম পঞ্চায়েতের ঝাড়খণ্ড লাগোয়া মোহনপুর আদিবাসী গ্রামে চরম জল সঙ্কট চলেছে। খরাপ্রবণ এই এলাকায় গরমে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। গ্রীষ্মের সময় জলের স্তর নেমে যায়। সরকারি গভীর নলকুপগুলি তখন পাতালে জল খুঁজে পায়না। ফলে সেগুলি অকেজো হয়ে পড়ে। চারিদিকে জলের জন্য মানুষের হাহাকার। প্রচারে গিয়ে নিজেই চক্ষে দেখলেন মুরারই বিধানসভার সিপিআই(এম) প্রার্থী আলিরেজা মন্ডল। তিনি গ্রামবাসীদের বলেন, যে সরকার জল দিতে পারেনা তাদের পাল্টান।
রবিবার তিনি প্রচারে যান রাজগ্রাম অঞ্চলে। ওই অঞ্চলটি পাথুরে এলাকা। একদম ঝাড়খন্ড সীমান্ত এলাকার আদিবাসী গ্রামগুলির করুন দশা। সেখানে ওই এলাকার আদিবাসীরা প্রার্থীকে কাছে পেয়ে অভিযোগ করে জানান, এই মোহনপুর গ্রামে রিগবোর আছে জল নেই। জল মিশন প্রকল্লের পাইপ লাইন বসানো আছে ট্যাপ আছে জল নেই। ফলে এই এলাকার মহিলারা খুব কষ্ট করে দুরদুরান্ত থেকে খাবার জল বয়ে নিয়ে আসেন। বার বার বিডিও অফিসে জানালেও এর স্থায়ী সমাধান হয়নি। একই ঘটনা রাজগ্রাম অঞ্চলের ও।
জলকষ্টের কথা অনুধাবন করে এই এলাকায় জল - জীবন - মিশনের কাজ শুরু হয়েছিল বছর তিনেক আগে। পাকা রাস্তা খুঁড়ে ঢাক ঢোল পিটিয়ে জলের পাইপ বসানো হয়েছিল প্রশাসন থেকে। এমনকি বাড়ি বাড়ি জল সরবরাহের জন্য হালকা জলের ট্যাপও সংযুক্ত করা হয়েছিল। প্রশাসনের দৃষ্টি সীমানার বাইরে এই জল প্রকল্প শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে বসেছে। কথা ছিল, ওভারহেড জলের ট্যাঙ্ক বসিয়ে সেখান থেকে গ্রামে পাইপবাহিত জল সরবরাহ করা হবে। নিচে থেকে জল তুলতে গিয়ে নাকি জলের স্তর খুঁজে পাওয়া যায় নি।
রাজগ্রাম পঞ্চায়েতের আম্ভুয়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, পানীয় জলের সমস্য সমাধানে পাইপে করে কলিতোড়া নদী থেকে জল এনে ট্যাঙ্ক ভর্তি করে সরবরাহ করা হবে। পরে শোনা গেল, সেই পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা আসগার আলি জানান, রাজগ্রাম রেলগেটে পিএইচই যে জল সরবরাহের ব্যবস্থা আছে, সেখান থেকেই নাকি আশেপাশের গ্রামে জল বণ্টন করা হবে। ওই প্রকল্পটি বেশ কয়েক বছর আগে চালু হলেও রাজগ্রাম বাজারে ছিটেফোঁটা জল দান করলেও আশেপাশের গ্রামে সেই জল পৌঁছায়না। আট কিমি দূর বাঁশলোই নদী থেকে এখানে পাইপ বাহিত হয়ে জল আসে। পথেই অর্ধেক জল নষ্ট হয়ে যায়। কাজেই নতুন প্রকল্পটি ওই ব্যর্থ প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত করে যে জল সমস্যা মিটবে না, একথা সাধারণ মানুষ বুঝলেও প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ার বুঝলেন না। ফলে যা হবার তাই হল। জল জীবন মিশনের জল গৃহস্তের ঘরে এক ফোঁটা পৌঁছুলেও সরকারি কোটি কোটি টাকার শ্রাদ্ধ হল। বিধায়ক তাকিয়ে দেখেনি।
  এলাকার বাসিন্দারা প্রার্থী আলিরেজা মন্ডল কে জানান, মুরারই এলাকায় শিক্ষার ভীত পুরোপুরি ধ্বংসে পরিনত হয়েছে। শিক্ষকদের চাকরি বাতিল তো ছিলই, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উৎসশ্রী পোর্টালের মাধ্যমে শিক্ষকদের পছন্দের জায়গায় বিশেষত শহর এলাকায় বদলির ফলে জুনিয়র, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো শিক্ষক স্বল্পতায় ভুগছে। কোন স্কুলে একজন,কোথাও দুজন শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মী দিয়ে স্কুল গুলিতে বাতি জ্বলছে। না, সরকারী ব্যবস্থাপনায় কোন হেলদোল নেই। ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষায় বঞ্চিত হয়ে আঁধার জগতে হারিয়ে যাচ্ছে। সেদিকে কারো ভ্রূক্ষেপ নেই। খুব দুঃখ লাগে, নব গঠিত কোন কোন আপার প্রাইমারী স্কুলে এখনও শিক্ষক নেই। প্রাথমিক শিক্ষক বা অতিথি শিক্ষক দিয়ে সেই স্কুল চলছে।
এই সমস্ত কথাগুলি শুনে প্রার্থী আলিরেজা মন্ডল জানান, ওই জন্য তো আপনাদের বলছি এই লুটেরা দূর্নীতিগ্রস্থ সরকার টাকে পাল্টাতে হবে। এর যোগ্য জবাব দেওয়ার সময় এসেছে। আগামী ২৩ এপ্রিল গ্রামের মানুষ জোট বেঁধে নিজের ভোট নিজে দিন। তৃণমূলের বিকল্প বিজেপি নয়। একমাত্র বামপন্থীরাই পারে এই সমস্যার সমাধান করতে। তৃণমূল তো ১৫ বছর ধরে লুটে গেছে। ওরা মানুষের কথা ভাবেনি। সময় এসেছে একবার সরকার বদলান।                                                  

Comments :0

Login to leave a comment