অরিজিৎ মণ্ডল
পা রাখার জায়গাও নেই কামরাটায়। ব্যাগ রাখবেন না, নিজেকে- সেটুকুও বুঝছেন না যাত্রীরা। যাঁরা সবাই চলেছেন ভোট দিতে।
এই ভিড়ের মধ্যেই কথা বলা গেল নাজির শেখের সঙ্গে। ফিরছেন মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় তাঁর বাড়িতে। রাজারহাট-নিউটাউনে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন।
তিনি বললেন, ‘‘যেভাবে হোক ভোট দিতে হবে। এসআইআর ভয় ধরিয়ে দিয়েছে। ভোট না দিলে নাম বাদ যেতে পারে। ভয়ের জন্য এমন হুড়োহুড়ি।’’
ট্রেনের নাম সাইরঙ এক্সপ্রেস। কলকাতা স্টেশন থেকে এই ট্রেন মুর্শিদাবাদ, মালদহ হয়ে যাবে নিউ জলপাইগুড়ি। উত্তরবঙ্গের বহু মানুষও ফিরছেন এই ট্রেনেই। আসন তো ভরে রয়েইছে। তার মাঝে যাত্রীরা। দরজার দিকে যাতায়াতের জায়গাতেও ঠাসাঠাসি ভিড়।
এই স্টেশন থেকেই সকালের হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেসে পা রাখা যায়নি কামরায়। সংরক্ষিত কামরাতেও ঠাসাঠাসি ভিড়। কোনোক্রমে পৌঁছানোর তাড়া। প্ল্যাটফর্মে ট্রেন ছাড়ার আগে যেন জনসমাবেশ, হাজার মানুষ কোনও রকমে পা রাখতে চাইছেন ট্রেনের কামারায়।
নির্বাচন কমিশন বলে চলেছে ভোট উৎসবে কী কী আয়োজন করা হয়েছে। রেলও বলছে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে তৃণমূল চিঠি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনে। সুরাট থেকে বিজেপি ভোট দিতে নিয়ে আসছে মানুষকে।
এমন নানাবিধ ভাষণ আর চিঠি চালাচালির মাঝে আমজনতার দিকে তাকানোর সময় নেই কারও। কিন্তু ট্রেনের যা অবস্থা কেউ অসুস্থ, বয়স্করা কিভাবে ফিরবেন? এমনকি সুস্থ হলেও ফেরার উপায় না থাকলে ভোট দিতে যাবেন কিভাবে? নাজির বললেন, ‘‘ কেন্দ্রীয় সরকারের কথাতেই কমিশন নাম কেটে দিয়েছে। ভয় আছে। যদি আবার নাম কেটে দেয়। কেন্দ্রীয় সরকারের যে ট্রেন দেওয়ার কথা ছিল তা দেয়নি। লোকাল ট্রেন কমে গেছে। ভিড়ের মধ্যে, কষ্টের মধ্যে আমাদের যেতে হচ্ছে।’’
তিনি বলছেন, ‘‘আগেও ভোট দিতে গিয়েছি। এমন আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়নি কখনও।’’ কেন আতঙ্ক? কেন বাড়ি ফেরার আনন্দ উবে যাচ্ছে? তা কি কেবল ঠাসাঠাসি ভিড়ের জন্য?
নাজির বললেন, ‘‘আমাদের বুথে ১০২৬ ভোটারের মধ্যে ৪৭৬ জনের নাম বাদ আছে। তারা প্রকৃত, বৈধ ভোটার। কেউ বাংলাদেশী না। তাদের নাম বাদ গিয়েছে। আমরাও টেনশনে আছি। কমিশন বলছে এক করছে আরেক।
অ্যাডজুডিকেশনে নাম উঠবে বলেছিল। মাত্র কয়েকজনের উঠেছে।‘‘
তারপরই বললেন, ‘‘ যেমন কেন্দ্র সরকার, তেমন রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারেরও কোনও হেলদোল নেই। দুই সরকারই ফল ভুগবে।’’
ফরাক্কাতেই যাবেন আবদুল করিম। রাজারহাট নিউটাউনে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন তিনিও।
বললেন, ‘‘একেকটা বুথে চারশোর বেশি নাম বাদ। যত কষ্টই হোক ভোট দেওয়ার জন্য যেতেই হবে। আগে কখনই এই পরিস্থিতি হয়নি। এমন ভয় ছিল না। এসআইআর আতঙ্কে এই অবস্থা।’’
কেবল কর্মরতরাই ফিরছেন এমন নয়। দেখা মিলেছে ছাত্রছাত্রীদেরও। ছুটিছাটায়, এমনকি অন্য ভোটেও এই সমস্যা হয়নি, জানাচ্ছেন তাঁরাও।
Comments :0