চিন্ময় কর
বাংলা বাঁচানোর লড়াই শক্তিশালী হলেই গোটা ভারতকে বাঁচানোর লড়াই আরও শক্তিশালী হবে। তাই বাংলায় বিকল্প সরকার মানেই আবার বামপন্থাকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এই নির্বাচনে তৃণমূলকে পরাস্ত করে বিজেপি-কে হটাতে হবে। সোমবার ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম কেন্দ্রের খড়িকামাথানীতে নির্বাচনী রোড শো ও মিছিল এবং প্রচার সভায় একথা বলেন, সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরোর সদস্য এবং ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরি। নয়াগ্রাম কেন্দ্রে সিপিআই(এম) প্রার্থী ডাঃ পুলিন বিহারী বাস্কে সমর্থনে ভসরাঘাট থেকে দিগন্ত মোড় পর্যন্ত রোড শো হয়। তারপর ওখান থেকে খড়িকা মাথানী পর্যন্ত নির্বচনী প্রচার মিছিল ও সভা হয়। সেই সভায় জিতেন্দ্র চৌধুরী সহ প্রার্থী এবং জেলা সম্পাদক প্রদীপ সরকার বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন লক্ষ্মণ সরেন।
তিনি বলেন, "এখন তৃণমূল বলছে বাংলা জিতবে। তাহলে বাংলাকে হারালো কে? এর উত্তর দিতে হবে। কেন এরাজ্যে কাজের আকাল, বেহাল শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামীন রাস্তা এবং কৃষকের দূর্দশা চেপে বসলো। কেন পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ভেঙে পড়লো। এর দায় তৃণমূলকেই নিতে হবে। আর বিজেপি বলছে পাল্টানো দরকার। যে বিজেপি তৃণমূলকে জন্ম দিয়ে লালন পালন করলো। তৃণমূলের দুর্নীতি, রাহাজানি, পাচার কারবার, লুঠকে আড়াল করলো, বিনিময়ে তৃণমূলের মদতে একের পর এক কালা আইন লাগু করে কৃষক-শ্রমিককে সর্বশান্ত করলো তারা এখন কী পাল্টাবেন? শুধু মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার। দুটো দলই একই নীতিতে চলছে। আমরা বামপন্থীরাই এই ব্যবস্থাপনা পাল্টানোর লড়াইয়ের পাশাপাশি বিকল্প কর্মসূচী ঘোষনা করেছি। কৃষকের ফসলের দাম, শ্রমিকের মজুরী, জবকার্ড হোল্ডার ও ক্ষেতমজুরদের বছরে কাজের গ্যারান্টি ও ৭০০ টাকা মজুরী, বয়স্কদের পেনশন, বেতন কমিশন সহ শূন্যপদে নিয়োগ ও ন্যূনতম ২১ হাজার বেতন চালুর গ্যারান্টি।"
তিনি আরও বলেন, "এই নয়াগ্রাম কেন্দ্রের পাশেই ওডিশা, ঝাড়খণ্ড ও বিহার তিন রাজ্য ১৫-২০ কিমির মধ্যে। সেখানেও বিজেপির ডবল ইঞ্জিনের সরকার। বিজেপি বাংলা এসে যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে সেগুলির একটি কার্যকর করেছে ওই রাজ্য গুলিতে? উত্তর না। পুরোটাই ভাঁওতা। এই তৃণমূল ত্রিপুরায় কংগ্রেসকে ভেঙে তারপর বিজেপির হাতে তুলে দিয়েছে। এখানেও বিজেপিকে বাড়তে দিয়েছে। বামপন্থীদের এই ভাবে খতম করার এজেন্ডা তৃণমূল ও বিজেপি একসঙ্গে করেছে। বিহার, ওডিশা মতো তৃণমূল বিজেপিকে বাংলার দায়িত্ব তুলে দিয়ে তাদের চুরি, দুর্নীতি, লুঠের শাস্তি থেকে বাঁচতে চাইছে।"
ত্রিপুরা রাজ্যে গত ৮ বছরের বিজেপি সরকারের জঙ্গলরাজের উল্লেখ করে তিনি বলেন, "ত্রিপুরার অর্থনীতির উপর আক্রমণ চলছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার, মত প্রকাশের উপর আক্রমণ চলছে। ক্ষমতায় আসার পর নির্বাচিত পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছিল। ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা দখল করতে বিরোধীদের মনোনয়নে বাধা দিয়েছে প্রতিনিয়ত। ৮ বছর কোনও নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন হয়নি। আর সেই বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করবে? বাংলাকে বাঁচানোর জন্য দুর্বার ঢেউ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীও আওয়াজ তুলছেন পালটানো দরকার। কিন্তু কী পালটাবেন? পালটাতে হবে ব্যবস্থাকে। গত ১৫ বছর ধরে এই পশ্চিমবঙ্গে ও গত ১২ বছর ধরে সারা দেশে যে রাজনীতি চলছে, তা ধর্মের নামে মানুষকে ভাগ করে দিয়ে কালো টাকার খেলা চলছে। এই ব্যবস্থাকে বদলাতে হবে।"
বিজেপি'র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে ত্রিপুরা রাজ্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ ত্রিপুরায় ডবল ইঞ্জিন সরকার চলছে। ৮ বছরেও সপ্তম বেতন কমিশন চালু হয়নি। ৮ বছরে ৬০ হাজার সরকারি কর্মচারী অবসর গ্রহণ করেন। নতুন কোনও নিয়োগ হয়নি। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ১ বছরে ৫০ হাজার নিয়োগ হবে। প্রথম বছর ২৩ হাজার নিয়োগ হয়েছে। বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন প্রাপ্ত কর্মচারী ছিল ১ লক্ষ ৫৬ হাজার। আর এখন ১ লক্ষ ২ হাজার। বিজেপি-র অসত্য প্রতিশ্রুতি। ত্রিপুরায় অভাব অনটনের মধ্যে রয়েছে মানুষ। ত্রিপুরার গ্রামীণ অর্থনীতি ব্যবস্থা চাঙ্গা করেছিল বামফ্রন্ট। ১৫ বছরে এ রাজ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান তলানিতে। বিজেপি আসলে আরও রসাতলে যাবে। বাংলাকে বাঁচাতে পারে একমাত্র বামপন্থীরাই।”
Comments :0