মীর আফরোজ জামান: ঢাকা
গার্মেন্টস শিল্প ক্ষেত্রের শ্রমিকদের মজুরি পুননির্ধারণ করার লক্ষ্যে অবিলম্বে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও শ্রমমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশও করেছে এই শ্রমিক সংগঠন। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা-১৩৯ (৬) অনুযায়ী তিন বছর অন্তর মজুরি পুননির্ধারণ করার বিধান রয়েছে। এর আগে মজুরি নির্ধারণ হয়েছিল ২০২৩ সালে। আইন এবং শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করতে গত এপ্রিলে 'গার্মেন্ট শিল্প সেক্টর'-এ মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করা উচিত ছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, সরকার তা না করে অতীতের মতোই মালিকপক্ষের কথা মতো চলছে।’’
শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন যে চলতি আগষ্টের মধ্যে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন না করলে শ্রমিক কর্মচারীরা বড় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি ছিলেন ইদ্রিস আলি। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের অন্যতম শীর্ষ নেতা মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন, জাহানারা বেগম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, পোশাক শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো সস্তা শ্রমে দেশের জাতীয় উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বৃদ্ধি হচ্ছে। নারীরা কর্মসংস্থান ও সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছেন। শ্রমিকদের শ্রমে ঘামে এদেশের গার্মেন্টস মালিকরা সম্পদের পাহাড় গড়ে নব্য ধনী অংশে পরিণত হয়েছে। অথচ উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি শ্রমিকরা এখনও চরম শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার। শ্রমিক আন্দোলনের বক্তব্য, বাংলাদেশের সংবিধান, শ্রম আইন এবং আন্তর্জাতিক শ্রম মাপকাঠির নিরিখে বেতনমান বদলানো জরুরি। জীবনযাত্রার ব্যয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নতুন করে মজুরি ঠিক না করে উপায় নেই।
নেতৃবৃন্দ বলেন যে মালিকপক্ষ সংকটের বোঝা শ্রমিকদের ঘাড়ে চালান করতে চাইছে। সংকট মোকাবিলার নামে শিল্প-কারখানা বন্ধ, শ্রমিক ছাঁটাই, মজুরি বন্ধ কিংবা শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
Comments :0