FIFA WORLD CUP SEMI-FINAL

টানা দু'বার বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা: এক যুগের আধিপত্য, এক স্বপ্নের শেষ অধ্যায়

খেলা বিশ্বকাপ ২০২৬

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে বড় দল অনেক এসেছে, অনেক দলই সাফল্যের শিখরে উঠেছে। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখা সবসময়ই কঠিন। সেই কঠিন কাজটাই করে দেখাল আর্জেন্টিনা। ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এবার ২০২৬ বিশ্বকাপেও ফাইনালে উঠে ইতিহাসের পাতায় আরেকটি উজ্জ্বল অধ্যায় যোগ করলো। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে লিওনেল স্ক্যালোনির দল টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
সেমিফাইনালে একসময় পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের গোলের পর মনে হচ্ছিল স্বপ্নভঙ্গ হতে পারে। কিন্তু এই দলটিকে আলাদা করে তোলে তাদের লড়াই করার মানসিকতা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরান। অতিরিক্ত সময়ে লাউতারো মার্তিনেজের হেডে আসে জয়সূচক গোল। দুই গোলের নেপথ্যেই ছিলেন লিওনেল মেসি, যিনি গোল না করেও দুইটি অ্যাসিস্ট করে আবারও প্রমাণ করলেন ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে এখনও তিনিই সবচেয়ে বড় ভরসা।
চার বছর আগে কাতারে বিশ্বকাপ জয় ছিল এক স্বপ্নপূরণ। কিন্তু অনেকেরই ধারণা ছিল, সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করা কঠিন হবে। বাস্তবে স্ক্যালোনি প্রমাণ করলেন, এটি কোন একদিনের বিস্ময় নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ফল।
অভিজ্ঞ মেসিকে ঘিরে তিনি তৈরি করেছেন তরুণ ও পরিণত ফুটবলারদের এক ভারসাম্যপূর্ণ দল। এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, হুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্তিনেজ কিংবা এমিলিয়ানো মার্তিনেজ প্রত্যেকে নিজেদের ভূমিকা নিখুঁতভাবে পালন করেছেন। ব্যক্তিনির্ভরতার বদলে দলগত ফুটবলই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।
৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসির জন্য এই বিশ্বকাপকে অনেকেই শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে দেখছেন। পুরো টুর্নামেন্টে কখনও গোল করে, কখনও অ্যাসিস্ট করে, আবার কখনও শুধু খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করে দলকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালেও দুইটি অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের অ্যাসিস্টের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছেন।
যদি সত্যিই এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ হয়, তবে আরেকটি শিরোপা জিতে বিদায় নেওয়ার সুযোগ এখন তার সামনে।
২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর এবারও ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। ফলে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতার বিরল কীর্তি গড়ার সুযোগ এসেছে তাদের সামনে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যে কীর্তি অধরাই ছিল, সেটিই এখন হাতছানি দিচ্ছে আলবিসেলেস্তেদের।
ফাইনালে প্রতিপক্ষ স্পেন। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা দুই দলের লড়াই শুধু একটি ট্রফির জন্য নয়, এটি হবে আধুনিক ফুটবলের দুই সেরা দর্শনের সংঘর্ষও।
আর্জেন্টিনার সামনে তাই আর মাত্র একটি ধাপ। সেই ধাপ পেরোতে পারলেই টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি। আর যদি তা হয়, তবে ২০২২ থেকে ২০২৬—এই চার বছরের সময়কালকে নিঃসন্দেহে বিশ্ব ফুটবলে ‘আর্জেন্টিনার যুগ’ বলেই মনে রাখবে ফুটবল ইতিহাস।

Comments :0

Login to leave a comment