Trump

ইরানের চেকপোস্ট এড়াতে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর-এ জোর, ইরানকে ফের ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক

ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন পথ এড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিকাঠামোকে নতুন পথে নিয়ে যেতে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর বা ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর-এর পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাকে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের সঙ্গে বহুপাক্ষিক বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলিতে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর ইরানের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিকাঠামোকে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন পথ থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করেছে। তার কথায়, ‘‘এই কারণেই আমার প্রশাসন ভারত-মধ্যপ্রাচ্য অর্থনৈতিক করিডর এবং তেল পরিবহণের জন্য পাইপলাইন-সহ অন্যান্য পথকে জোরালোভাবে সমর্থন করে।’’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, গত এক দশক ধরে এই অঞ্চলে যে সমস্যাগুলি রয়েছে, সেগুলি কাটিয়ে ওঠার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলি।
ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর একটি বহুজাতিক বহুমাত্রিক যোগাযোগ ও পরিকাঠামো প্রকল্প। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে এই উদ্যোগের ঘোষণা করা হয়। ভারত, আমেরিকা, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই প্রকল্পের রূপরেখা নিয়ে একটি সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করেছিল।
প্রস্তাবিত করিডরের দুটি প্রধান অংশ রয়েছে। একটি পূর্ব দিকের রুট ভারতকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করবে। অন্যটি উপসাগরীয় অঞ্চলকে ইউরোপের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। রেল, সমুদ্রপথ, জ্বালানি এবং ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে একই পরিকাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় একটি রেলপথ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যা জাহাজ থেকে রেলে পণ্য পরিবহণের একটি আন্তঃসীমান্ত নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করবে। এর পাশাপাশি জ্বালানি ও ডিজিটাল সংযোগের জন্য কেবল এবং পরিষ্কার হাইড্রোজেন রফতানির জন্য পাইপলাইন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
অনেকের মতে, এই করিডর ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে পারে। ভারত ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহণের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে এই প্রকল্পকে চিনের Belt and Road Initiative এবং ইরান-নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের বিকল্প হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে মন্তব্যের পাশাপাশি ইরানকে ফের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদে তার আগের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে তিনি ইরানকে ‘ধ্বংস’ করার কথা বলেন।
ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকা ইরানকে আর্থিকভাবে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং তেহরান দ্রুত ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নেবে বলে তিনি আশা করছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন একটা সময় আসতে পারে যখন ইরানকে রাষ্ট্র হিসেবে টিকিয়ে রাখার সুযোগ আর থাকবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, গত বছর আমেরিকার ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর মাধ্যমে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তা পাহাড়সম ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছে।
একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে আর্থিক ও সামরিক চাপ বজায় রাখার বার্তা, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের জন্য বিকল্প পরিকাঠামোর পক্ষে অবস্থান ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে এই দুই দিকই স্পষ্ট হয়েছে। ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়িত হলে ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য ও জ্বালানি যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলি আশা করছে।

Comments :0

Login to leave a comment