Nababarsho

‘কাটাবি কাল বসে কি?’

রাজ্য

আব্দুল কাফি

নতুন শ্রম কোড চালু হবে কয়েক দিন বাদে। শ্রমিকের এতদিনের অর্জিত অধিকারগুলি দুমড়ে-মুচড়ে নষ্ট করে দেওয়া হবে— অনেক আপত্তি সত্ত্বেও দেশের সংসদ বানিয়ে ফেলেছে আইন। পূর্বতন শ্রম-আইনের ২৯টি সূত্রে শ্রমিক-স্বার্থ খানিকটা রক্ষা করার কথা তবু ছিল; কৌশলে সেগুলিকে পালটে, কিছু বাদ দিয়ে এবং নতুন ধারা যুক্ত করে মোট চারটি কোড বা শৃঙ্খলা তৈরি করা হয়েছে। অবশ্য দেশ জোড়া শ্রমিক আন্দোলনের চাপে আইন পাশ করেও তা প্রয়োগ করার তারিখ বারবার পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র। শোনা যাচ্ছে, এবারের বৈশাখেই সেই নতুন আইন দেশের সমস্ত শ্রমিকের উপর প্রয়োগ করা হবে। এবারের বৈশাখ তাই দেশের শ্রমজীবী অংশের কাছে আরও কিছু অনিশ্চিত দহনদিন আসতে চলেছে। গত বারের তুলনায় আরও কিছু বেশি পুড়বে শ্রমিক। সমাধান তো দূরের কথা, নতুন সঙ্কট এসেছে ঘনিয়ে।
নিজের শরীরের গনগনে আঁচ বয়ে নিয়ে যাচ্ছে ইটভাটার শ্রমিক, দূর পাল্লার ট্রেনে চড়ে বসা নবীন কিশোর— বহু দূরের রাজ্যে চলেছে কাজের সন্ধানে, নববর্ষের উৎসবে ঠাঁই মেলেনি তার, দামি রেস্তোরাঁ থেকে শহরের উচ্চ কিংবা মধ্যবিত্তের জন্য ছুটি-মেদুর দুপুর-বেলার ভোজ বয়ে নিয়ে যাচ্ছে সে— পায়ের তলায় রাস্তার পিচ গলে গেছে প্রায়, সেখান থেকে উপচে পড়ছে গরম— গ্রীষ্মের মনমাতানো আমের গন্ধে আবিষ্ট হওয়ার ফুরসত নেই তার… অপরের নববর্ষ উদ্‌যাপনে যেন বাধা না পড়ে, যেন কোনোভাবেই দেরি না হয়ে যায়— এই-ই শুধু মনে রাখতে হয় তাকে। এমন দিনে তারে বলা কি যায়, আজ নববর্ষ। আজ বৈশাখের প্রথম দিবস। আহা, এমন ঊর্ধশ্বাস ছুটে চলায় কোনও পেনশন নেই, গ্র্যাচুইটি নেই, ইউনিয়নের অধিকার নেই— শুধু আছে ছাঁটাই-হুমকি, রেটিং আর স্কোর— তিন কিংবা চারতলায় উঠে সুসজ্জিত বাতানুকূল পরিসরে মালাইকারি কিংবা চিতল মাছের স্পেশাল প্যাকেট চালান করে দিয়ে শুধু মিষ্টি হেসে বলা যায়, একটু ভালো রেটিং দেবেন স্যর... আজ নববর্ষ কিনা... সেই মোলায়েম আঁধার-নিবাসী ব্যক্তিটিকে এর বেশি লজ্জায় ফেলা যায় কি? নাহ্‌...
আচ্ছা, সব ক্ষেত্রে এমন গরিব-বড়লোক নিয়ে আসা কেন? বচ্ছরকার দিনে একটু ছাড় দিতে পারেন না? আজ উৎসব, আজ হালখাতা, আজকের দিনে একটু স্মৃতিকাতরভাবে শৈশবে ফিরে যাবার দিন। ছোটবেলায় কীভাবে বাবার হাত ধরে পাড়ার দোকানে গিয়ে দাঁড়াতাম, চারিদিকে সকলেই সকলকে আড়চোখে না-দেখে একেবার সোজাসুজি সহাস্য সম্বোধনে খাতির করছে, রঙিন কাগজ কেটে সাজানো হয়েছে দোকান, আজ থেকে নতুন হিসাব-খাতা, মিষ্টির প্যাকেট তুলে দিচ্ছে হাতে, সঙ্গে নতুন ক্যালেন্ডার, চারিদিকে পুষ্পবৃষ্টি, এইসব স্মরণের দিন। একটি দৌড়ের পর্ব সমাপ্ত হলো, একটু জিরোনো এখন, তার পর পুনরায় ছুটে যেতে হবে—                                        আশপাশের মানুষজন— আত্মীয় নয় শুধু, যাকে চিনি না, আগে দেখাও হয়তো হয়নি কখনো, তার দিকে তাকিয়ে বলে নিতে হবে, শুভ হোক, নতুন আসুক জীবনে। এই যে আমি আপনার ভালো চাইছি, আমার অন্য কোনও স্বার্থ নেই, আমার কোনও বৈষয়িক লাভ নেই এতে। শুধু ভালো চাইছি বলেই আমার কিছু আহ্লাদ জমা হচ্ছে।
রোজ কেন এমন হয় না? রোজ কেন চাইতে পারি না অন্যের ভালো? কেন সকলেই সকলের ভালো চাইতে পারে না? অন্তত আজকের দিনে? এই নববর্ষের শুভ মুহূর্তটিতে? আসলে, শোষকের নববর্ষ নেই— অপরের ভালো চাওয়া নেই তার। অন্যের শ্রম হাপিস করা লক্ষ্য যার, শ্রম লুট না করে যে টিকতেই পারে না, সে কী করে অকারণ ‘ভালো হোক’ চাইবে? সে জন্ম থেকেই পরজীবী। অপরের বেদনা সম্ভারেই তার ঐশ্বর্য প্রথমে জমে ওঠে, তারপর পচে ওঠে। নববর্ষ উদ্‌যাপনের আয়োজন যদি সে করেও কখনও, সে কেবল ভান, সে আসলে মন ভোলানোর কারসাজি।
শোষকের যাবতীয় আয়োজন ফুৎকারে নস্যাৎ করে দিই। এই দ্যাখো তুড়ি মেরে আজ আমরা উড়িয়ে দিয়েছি দুশ্চিন্তা, পরাজয়-সম্ভাবনা। এই দ্যাখো, দু’-তিনটে সিঁড়ি এক সঙ্গে লাফিয়ে পার হচ্ছি, গান গাইছি শিস দিয়ে কিংবা গুনগুন করে। এই দ্যাখো আমাদের গায়ে নতুন জামা নেই, ভাতঘুম নেই, আমাদের কাজে কোনও হাল-খাতাও নেই। কিন্তু তবু আমাদের খুশি কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারে না। প্রভাতী শোভাযাত্রায় চেনা-অচেনা বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটবো আজ, যেখানে খুশি থামবো, যতদূর ইচ্ছে যাবো, বাংলার পুরানো নানা আমোদের, উল্লাসের, নৃত্যগীতের কথা স্মরণ করব, গান ধরব হেঁড়ে গলায়, সুর তেমন নেই তো কী, আমার পাশের জন ভরাট করে নেবে আমার অক্ষমতা, সুরে-বেসুরে মিলেমিশে কেবল চিৎকার করে জানিয়ে দেব, আমরা যাইনি মরে আজও... মারীতে, যুদ্ধে, গণহত্যায়, আদালতকে সাক্ষী রেখে তালিকা থেকে আমাদের নাম কেটে উড়িয়ে দেওয়ার পরেও আমাদের ফুর্তি দমেনি। উদ্বেগ আছে বৈকি, বেদনা ও পীড়নের ক্ষতচিহ্ন আছে তো শরীরে, শিরায়-উপশিরায় প্রবাহিত বেদনা আমাদের নিত্যসঙ্গী ঠিকই, কিন্তু তবুও আমাদের শরীরে হৃদয়ে আজ নববর্ষ আসবে। আমাদের সেই শোভাযাত্রায় থাকবে আমাদেরই সংস্কৃতির নানা চিহ্ন, আমাদের পায়ে থাকবে ভোটার তালিকা থেকে অন্যায়ভাবে ছেঁটে ফেলা মানুষের ক্ষোভ এবং আর্তনাদ, সংকল্প আর প্রতিজ্ঞা। আমাদের উৎসবে মিশে থাকবে স্মরণ আর অপেক্ষা। আমরা গত কালটিকে চিহ্নিত করেছি সংক্রান্তি হিসাবে— চৈত্র মাসের সমাপ্তি।
আহা শোষকের ভারী দুঃখ। আমার শরীরে, মনে শোষণ-যোগ্য কিছু না-ই থাকে, তাহলে বেকার হয়ে পড়বে তুমি শোষক, শুষে নেওয়ার জন্য কিছু তো চাই তোমার ... আমাদের প্রাণশক্তি, আমাদের সৃষ্ট সম্পদ, আহ্লাদ, স্ফূর্তি, সঞ্চয়— সমস্ত শুষে নিতে চাও বলেই তো শোষক বলেছি তোমাকে। অস্বীকৃতি আর তাচ্ছিল্যে আমাদের সরিয়ে দিয়েছ, তাতে বিষণ্ণ লাগে বৈকি। কিন্তু তাতে কী? নববর্ষ এসেছে আজ, বিষণ্ণতা ও ক্লান্তি পেরিয়ে আজ আমরা পা রাখব উল্লাসে।


বাংলায় নববর্ষ উদ্‌যাপনের কতরকম রীতি আছে... শহুরে এবং নিশ্চিন্ত চাকরি জীবনে নববর্ষ পালনের পদ্ধতির সঙ্গে বাংলারই কুরমি সমাজের উদ্‌যাপন কি মিলবে? কিংবা রাজবংশী মহল্লার সঙ্গে কি মিলবে সুন্দরবনের কোনও দ্বীপবাসী মানুষের নববর্ষ? সবগুলিই প্রাণশক্তিতে ভরপুর, সবগুলিতেই নতুন কালের জন্য উৎসাহ এবং প্রস্তুতি। কিন্তু আবাহনের তরিকা আলাদা। অনুষ্ঠান পৃথক। অঞ্চল, গোষ্ঠী, পরম্পরা অনুযায়ী— সাধ্য এবং সক্ষমতা অনুযায়ী কত বিচিত্র ধরনে মানুষ মনে রাখতে চান এই দিন। নিজেদের মনে করিয়ে দিতে চান, শত কাজের ভিড়ে যেন আমাদের অপেক্ষা না ফুরোয়, হাজার বিষণ্ণতায়, অজস্র অসহায়তার মাঝখানে যে নবীনের আগমন-ক্ষণটিকে সাজিয়ে তুলতে ভুলে না যাই আমরা। শুরুর দিকে এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যে কৃষিজীবনের স্পষ্ট যোগাযোগ ছিল তা বোঝাই যায়। শুধু বাংলাতেই নয়, বাংলার বাইরেও— দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য নানা দেশেও এর রকমফের দেখতে পাওয়া যায়। দিনের কিছু ফেরফের আছে ঠিকই, কিন্তু প্রায় সব ক্ষেত্রেই লক্ষ করা যায় চাষবাসের সংযোগসূত্র। এই যেমন পাঞ্জাবের অনুষ্ঠানের নামও বৈশাখী— বসন্ত শেষে ফসল তোলার দিন। ফসল তোলা এবং নতুন চাষের প্রস্তুতিপর্বে কিছু আহ্লাদ গড়ে তোলা— এই ছিল বর্ষবরণের প্রাথমিক শর্ত। এমনকি ইরানের বহু পুরাতন নওরোজ— কিংবা নতুন দিনের উৎসবেও সেই ইশারা ছিল। আজকের নববর্ষ এক হিসাবে কৃষি সভ্যতার দান।
ফসল তোলার সঙ্গে আজ আর সম্পর্ক নেই যাঁদের, কিংবা ফসল-সংলগ্ন নয় যাঁদের দৈনন্দিন জীবন, তাঁদেরও স্মৃতিতে ধরা থাকে প্রাক্তন জীবনের সেই ফসলের সুবাস, তার সঙ্গে জুড়ে থাকা পরিতৃপ্তি ও পূর্ণতার অনুভূতি। কৃষিজীবন থেকে দূরে চলে এলেও অনেক মানুষ সেই পুরাতন কৃষিজীবনের দিনকাল স্মরণে রাখেন। তার সঙ্গে জুড়ে দেন বর্তমান লড়াইগুলি। নতুন আবাদের প্রস্তুতি আর পুরানো ক্লান্তি-মোচনের এই পরম্পরা চারিয়ে গিয়েছে অন্য নানা পেশার মানুষের মধ্যেও। এমনকি সুনির্দিষ্ট পেশা নেই যাঁদের, নিছক মজুর কিংবা শাদা-কলারের মজুর যাঁরা, তাঁরাও বছরে এক বার অন্তত নবীনকে আবাহনের সূত্রে পরস্পরের সঙ্গে ভাব ও প্রীতিবিমিময়ের একটি অজুহাত খুঁজে নেন।
আজ, নববর্ষের দিন, তাই একা থাকার দিন নয়। পয়লা বৈশাখ যেন আমাদের কারো জীবনে একলা বৈশাখ না হয়ে থাকে। একাকী হবে না মেলা। ওই ওদেরকেও ডাকো। ওই যে লোকটা সাঁকো পেরিয়ে চলে যাচ্ছে বিষণ্ণতার দিকে, ওকে ডেকে নাও সাথে। ওর শরীর ও মনের ক্ষতচিহ্নগুলিতে কিছু আদর দাও, ওরও শরীরে আছ ফসলের স্মৃতি, তা ওকে বোঝাও। আজ একটু অবসর, আজ হুল্লোড়। এসো আজ বন্ধুরা তরজায় মাতি, আলাপে সঙ্গীতে সহমর্মিতায় গড়ি সহযোগ। ছোট-বড় দোকানে আজ লাল কাপড়ে মোরা নতুন খাতা খোলার দিন শুধু নয়, পুরানো সম্পর্কের হালখাতা শুরু করার সময়ও আজ এসেছে। বৈশাখ এসেছে, আজ আমরা ঘরে থাকি কী করে? কালবৈশাখী দরজায় ধাক্কা দিলে কি আর বসে বসে কাল কাটানো যায়? আজ সেজে উঠতে হবে— যার যা আছে তা দিয়েই সাজিয়ে তুলতে হবে উঠোন, যার কিছু নেই, তার কাছে পৌঁছাতে হবে এই বেলা। তাদের গৃহকেও সাজিয়ে তুলতে হবে তারপর। আমাদের সবাইকে সঙ্গে নাও তুমি বৈশাখ, আমাদের নিয়ে চলো উৎসবে, যৌথতায়। একশো বছরেরও বেশি আগে রবীন্দ্রনাথ একটি নিবন্ধে যেমন লিখেছিলেন, আমরা সবাই মিলে বলব সেই কথাটিই, “এ শান্তির নববর্ষ নয়। সম্বৎসরের ছিন্নভিন্ন বর্ম খুলে ফেলে দিয়ে আজ আবার নূতন বর্ম পরবার জন্যে এসেছি। আবার ছুটতে হবে।”
এক চৈত্র অবসানে কি আমাদের সব ব্যথা ফুরোয়? ঝেড়ে ফেলা গেল সব অবসন্নতা? না, তা যায় না। ব্যথাকে আমরা একটু স্থগিত রাখছি কেবল। বলছি, কিছুক্ষণ অপেক্ষা করো দরজার পাশে। নানা ধরনের ভেদাভেদ আমাদের মধ্যে বুনে দেওয়ার কাজ চলছে রোজ। ধর্ম-জাত বর্ণ— এইসব হরেক কিসিমের ভেদরেখা ও তফাত-কৌশল প্রয়োগ করে এমনকি উৎসবেও গণ্ডি কেটে দেওয়ার ছক তৈরি হয়েছে। কীভাবে পালিত হবে উৎসব— কোনও ধর্মীয় রীতি থাকবে কিংবা থাকবে না তা নিয়ে কিছু শোরগোল পাকিয়ে তুলেছে একদল লোক। ওরা উৎসবের শত্রু। তবে আজ ওদের সঙ্গেও ঝগড়া করব না। কেউ ঘর নিকিয়ে, আলপনা এঁকে দেবেন উঠোনে, কেউ পুজো দেবেন প্রিয় দেবতাকে, কেউ আবার সেসব কিছুই না করে বেরিয়ে পড়বেন গানের দল নিয়ে, দুপুর মাতিয়ে ঘুরে বেড়াবেন এপাড়া-ওপাড়া। কেউ আবার বহুদিন দেখা-না-হওয়া বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে ছুটবেন— কেউ আয়োজন করবেন ভুরিভোজ। কেউ মেতে উঠবেন নতুন নাটকের রিহার্সালে। অনেকে আবার এসব কিছুই না করে স্রেফ প্রস্তুতি নেবেন আগামী কাল থেকে ভেদপন্থার বিরুদ্ধে কীভাবে শুরু করবেন নতুন কোন যুদ্ধ— নতুন শ্রমকডের মতো রাক্ষুসে আইনের বিরুদ্ধে ঢাল তলোয়ারহীন শ্রমিকের লড়াই কোন দিকে যাবে তা নিয়ে সলা করতে বসবেন আজই। এঁরা সবাই আমাদের লোক, আপন জন। এঁরা উৎসবের সূত্রে আমাদের সাথি। এঁরা ছারাও আরও অনেক লোক নববর্ষে শুধু প্রহর গুনে চলবেন ঝড়ের। সব জীর্ণতা যে উড়িয়ে নিয়ে যাবে অক্লেশে। বহুকাল ধরেই আমাদের কবিতা ও গানে নতুনের চিহ্ন হিসাবে এসেছে ঝড়ের কথা। বাংলার ঋতুচক্রে চিরকাল আছে যে বৈশাখী ঝড়, সে আমাদের উৎসবের সাথি। তুচ্ছতাকে, ক্ষুদ্রতাকে উড়িয়ে দেওয়ার জন্য, পুরাতন আবর্জনা সাফ করার জন্য তাকে প্রয়োজন। আসুক সে।
নতুন বছর শুরু। শুভারম্ভ নতুন লড়াই। এবারের বৈশাখ যেন মৌনী তাপসের মতো চুপ করে না থাকে। এবারের বৈশাখ যেন হয়ে ওঠে রুদ্রবীণার বাদক।

Comments :0

Login to leave a comment