Assembly election 2026

রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের আগে হোটেলে বহিরাগতদের থাকার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা নির্বাচন কমিশনের

রাজ্য

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার আগে নতুন নির্দেশিকা জারি করলো নির্বাচন কমিশন। কমিশন রাজ্যের হোটেল গুলিকে নির্দেশ দিয়েছে, প্রাক-নির্বাচন পর্বে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা নন, এমন কোনও ব্যক্তিকে যেন হোটেলে থাকার জায়গা দেওয়া না হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে এবং বুধবার ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।
দীঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর এবং মন্দারমণির মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে এই নির্দেশিকা অত্যন্ত কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেবলমাত্র সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দারাই হোটেলে থাকতে পারবেন।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক এবং জেলা নির্বাচন আধিকারিক নিরঞ্জন কুমার এই পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই পর্যটন কেন্দ্রগুলি রামনগর বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে পড়ে।
তার কথায়, ‘এই বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা ছাড়া অন্য কোনও বহিরাগতকে কোনও হোটেলে থাকতে দেওয়া হবে না।’ 
জলপাইগুড়ি জেলাতেও পুলিশ জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ১২৬ নম্বর ধারা এবং নির্বাচন কমিশনের ৭২ ঘণ্টার স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP)-এর উল্লেখ করে হোটেলগুলিকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠিয়েছে। ওই নোটিশে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে ভোটগ্রহণের ঠিক আগের ৪৮ ঘণ্টায় কোনও বহিরাগত হোটেলে থাকতে পারবেন না।
কমিশনের এই সিদ্ধান্তে হোটেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। 'গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন' এই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে চিফ ইলেক্টোরাল অফিসারের কাছে চিঠি দিয়েছে।
আদর্শ আচরণবিধি (MCC) এবং নির্বাচনের সময় বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার কথা ঊউল্লেখ করে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সমস্যার কথাও কমিশনের কাছে জানানো হয়েছে।
আদর্শ আচরণবিধির (MCC) অধীনে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকায় মূলত ভোটগ্রহণের আগের ৪৮ ঘণ্টায় নির্বাচনী এলাকার বাইরে থেকে আসা রাজনৈতিক নেতা এবং দলীয় কর্মীদের উপস্থিতির ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। প্রচার শেষ হওয়ার পর ভোটারদের প্রভাবিত করা রুখতে এবং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই নিয়ম বলে দাবি কমিশনের।
এই নির্দেশিকা বাস্তবায়নের জন্য জেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে প্রচারের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর বহিরাগত রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এলাকা ছেড়ে চলে যান। বহিরাগতদের শনাক্ত করতে কমিউনিটি হল, লজ এবং গেস্টহাউসগুলিতে তল্লাশি চালানো হয়।
ভোটের আগে রাজ্যে আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন। আবগারি দোকান খোলা রাখার ক্ষেত্রে ৪৮ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞাকে বাড়িয়ে ৯৬ ঘণ্টা করা হয়েছে, যা রবিবার থেকেই কার্যকর হয়ে গিয়েছে।
২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণের আগের দু'দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত মোটরবাইক চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কেবল জরুরি চিকিৎসাজনিত বা পারিবারিক প্রয়োজন ছাড়া বাইক চালানো যাবে না। স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, কোনও বাইক ‌র্যা লি করা যাবে না।

Comments :0

Login to leave a comment