হোটেলের ঠিক বাইরেই দাঁড়িয়ে ব্রাজিলের টিম বাস। সেখানেই সেলেকাও সাপোর্ট স্টাফদের অবাধ যাতায়াত। আর হোটেলের লনে তখন হুড়োহুড়ি সই শিকারিদের। হাতে ব্রাজিলের জার্সি। এদিক-ওদিক ছুটছেন তাঁরা। খুঁজছেন একজনকেই—নেইমার-উত্তর যুগে সেলেকাওদের পোস্টার বয় ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তাঁকে না পেয়ে হতাশ কচিকাঁচারা। ঘণ্টা দু’য়েক পর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যুবভারতীতেও। সাংবাদিক থেকে চিত্রগ্রাহক—সবার মুখে এক প্রশ্ন, কোথায় ভিনি?
দুলকি চালে এন্ড্রিকের পাশে হেঁটে টিম হাডলে এলেন ভিনিসিয়াস। ঠিক তখনই একটা বল এগিয়ে এল তাঁর দিকে। প্রথম স্পর্শেই বলটাকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করলেন, যেন জুতোর সঙ্গে আঠার মতো লেগে গেল। কয়েক বার জাগলিং করে স্পাইকের নিচে বলটা রেখে দিলেন। হাডলে তখন সহকারী কোচের ‘ভোকাল টনিক’। মগ্ন হয়ে তাঁর কথা শুনলেন ভিনি, এন্ড্রিক, মারকুইনহোসরা।
শারীরিক কসরত শেষে মেজাজ হালকা করতে মজার খেলায় মাতল সেলেকাও শিবির। মুহূর্তেই হাসির ফোয়ারা। ভিনিদের হাসির শব্দ বোধহয় স্টাডেলের সামনেও শোনা যাচ্ছিল। তারপরই বোঝাপড়া বাড়াতে পাসিং অনুশীলন। প্রায় দেড় ঘণ্টার প্রস্তুতি শেষে বাসে উঠলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আন্সেলত্তি। কলকাতায় পা রেখেই যে অভ্যর্থনা পেয়েছেন, তাতে মুগ্ধ ভিনিসিয়াস। ঘনিষ্ঠমহলে ভিনি জানিয়েছেন, শনিবার যুবভারতীর গ্যালারিকে নিজেদের ফুটবলে মাতিয়ে দিতে চান। কোচই তাঁকে শুরু থেকে খেলাবেন? নেইমারের অনুপস্থিতিতিতে ভিনিকেই তো দেখতে আসবেন ফুটবলপ্রেমীরা! অথচ, ম্যাচের আগের দিন, স্টেডিয়ামের সামনে ব্রাজিল দলকে ঘিরে দর্শকদের কোনওরকম উন্মাদনা চোখে পড়ল না!
দিন কয়েক আগেই ভারতের ফুটবল সংস্কৃতি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন আন্সেলত্তি। কলকাতায় এসেও সেই প্রসঙ্গ উঠল। তবে ভারতীয় দলের খেলার ধরন সম্পর্কে যথেষ্ট খোঁজখবর নিয়েই যে মাঠে নামছেন, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। ভারতীয় দলের আক্রমণভাগ নিয়ে আন্সেলত্তি বলেন, ‘‘ভারত অতীতে ভালো ফুটবলার এবং ভালো দল উপহার দিয়েছে। আক্রমণে ওদের গতি রয়েছে। অবশ্যই আমরা ভারতীয় দলকে সম্মান করি। আমাদের নিজেদেরও কিছু গুণ ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে আমরা এখন শুরুতেই রয়েছি। তাই নিজেদের আরও উন্নত করতে হবে। প্রতিপক্ষকে আমরা যথেষ্ট সম্মান করি।’’
ভারতে এসে অভ্যর্থনা নিয়েও খুশি ব্রাজিল কোচ। বললেন, ‘‘এই সুন্দর দেশে এসে আমরা খুবই খুশি। এখানে যে অভ্যর্থনা আমরা পেয়েছি, তার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আশা করি, আমরা একটি দুর্দান্ত ম্যাচ উপহার দিতে পারব।’’
২০০২-এর পর বিশ্বকাপ জেতেনি ব্রাজিল। মাঝে কেটে গিয়েছে ২৪ বছর। পরের বিশ্বকাপে সেই হারানো গৌরব ফেরানোর চ্যালেঞ্জই এখন আন্সেলত্তির সামনে। বললেন, ‘‘এটা ঠিক যে ২০০২ সালেই শেষ বার ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতেছিল। আমাদের সময়ে প্রতিযোগিতাটা খুব সহজ ছিল না। তবে আমার মনে হয়, ২০২৬ সালে অতীতে যে সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব হয়নি, সেগুলো সমাধান করার সুযোগ রয়েছে। বিশ্বকাপ কখনও সহজ নয়, বরং অত্যন্ত কঠিন। ফুটবল অনেক বদলে গিয়েছে এবং অন্য দলগুলিও অনেক উন্নতি করেছে।’’
রাফিনহার চোটে নেতৃত্বের ব্যাটন মারকুইনহোসের কাঁধেই। কোচের আগেই সাংবাদিক বৈঠকে এসে ব্রাজিলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার বললেন ভারতের ব্রাজিল-উন্মাদনার কথা। সমর্থকদের ভালবাসায় মুগ্ধ তিনি। তাঁর মতে, মাঠে ভালো পারফরম্যান্সই সমর্থকদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ। ব্যাখ্যা করে মারকুইনহোস বললেন, ‘‘সমর্থকদের এই ভালোবাসা আমাদের নতুন শক্তি ও অনুপ্রেরণা দেয়।’’ বিশ্বকাপের হতাশাজনক ফল নিয়েও অতীতে আটকে থাকতে চান না তিনি। আত্মবিশ্বাস ফেরানো, ভালো ফুটবল খেলা এবং জয়—এখন সেটাই লক্ষ্য। প্রতিটি অনুশীলন, প্রতিটি ম্যাচ নিজেদের নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ। ব্রাজিলকে তার প্রাপ্য জায়গায় ফেরাতে আরও কঠোর পরিশ্রমের বার্তাই দিয়ে গেলেন দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ফুটবলার।
Brazil India Friendly
যুবভারতীতে ভিনি-ঝলক, ভারতকে সমীহ আন্সেলত্তির
×
Comments :0