Sonia Gandhi

মহিলা সংরক্ষণ নয়, সংসদের বিশেষ অধিবেশনের মূল লক্ষ্য ‘ডিলিমিটেশন’: সোনিয়া গান্ধী

জাতীয়

১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ডাকা সংসদের বিশেষ অধিবেশনের নেপথ্যে কেন্দ্রের আসল উদ্দেশ্য মহিলা সংরক্ষণ নয়, বরং ডিলিমিটেশন বা লোকসভা কেন্দ্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণ। হিন্দু পত্রিকায় লেখা উত্তর সম্পাদকীয় কলমে এমনই দাবি করেছেন সোনিয়া গান্ধী। সরকারের এই সম্ভাব্য ডিলিমিটেশন প্রস্তাবকে তিনি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং সংবিধানের ওপর আঘাত বলে চিহ্নিত করেছেন।
সম্প্রতি নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম (মহিলা সংরক্ষণ আইন)-এর সংশোধনী নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তৎপরতার মাঝেই এই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সোনিয়া। ২০২৩ সালে পাশ হওয়া এই বিলে আইনসভায় মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। সরকার এখন চাইছে এই বিলটি ২০২৭ সালের জনগণনার সঙ্গে যুক্ত না রেখে, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতেই কার্যকর করতে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই যেন এই সংরক্ষণ বলবৎ করতে চাইছে কেন্দ্র। এই মর্মে বিরোধী দলগুলির সমর্থন চেয়ে চিঠিও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সোনিয়া গান্ধীর অভিযোগ, লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানোর জন্য যে ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তাতে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ন্যায্যতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। এটি কেবল জনসংখ্যার গাণিতিক হিসেব হতে পারে না।
তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী মহিলা সংরক্ষণের বিষয়টিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মূলত জাতিভিত্তিক জনগণনাকে (Caste Census) বিলম্বিত করতে চাইছেন। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, পুদুচেরি এবং তামিলনাড়ুর আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টাও করছেন তিনি।
রাজ্যসভার এই বর্ষীয়ান সাংসদ প্রশ্ন তুলেছেন, প্রচারের চূড়ান্ত মুহূর্তে এই বিশেষ অধিবেশন ডাকার ক্ষেত্রে সরকারের এত অস্বাভাবিক তাড়া কেন? তার মতে, বিরোধীদের কোণঠাসা করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। 
উল্লেখ্য ১৬-১৮ এপ্রিলের বিশেষ অধিবেশনের কোনও সুস্পষ্ট অ্যাজেন্ডা বা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এখনও সাংসদদের দেওয়া হয়নি। বিরোধী দলগুলি পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের পর ২৯ এপ্রিল সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি জানালেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
মহিলা সংরক্ষণ আইনে এসসি (SC) এবং এসটি (ST)-দের জন্য কোটার ভিতরে কোটার সংস্থান থাকলেও, বিরোধীদের দাবি মেনে ওবিসি মহিলাদের জন্যও একই সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
২০২১ সালের জনগণনার বিলম্বের জেরে জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ব্যাহত হয়েছে। সরকার জাতিভিত্তিক গণনা আটকাতেই এখন নতুন অজুহাত খাড়া করছে বলে তার দাবি।
সোনিয়া স্মরণ করিয়ে দেন, বিরোধীরা যখন ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই মহিলা সংরক্ষণ চালুর দাবি করেছিল, তখন সরকার তা খারিজ করে দেয়। এখন হঠাৎ করে ২০২৯ সালের আগে তা চালুর জন্য এত তাড়া কেন?
তার মতে, এর জন্য এত তাড়াহুড়োর কোনও প্রয়োজন ছিল না। সরকার চাইলে আরও আলোচনা করে মধ্য-জুলাইয়ে শুরু হতে চলা বাদল অধিবেশনে এই সাংবিধানিক সংশোধনী আনতে পারত। বর্তমান পদ্ধতিকে অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ এবং অগণতান্ত্রিক বলে উল্লেখ করে কংগ্রেস নেত্রী ফের জোর দিয়েছেন যে, মহিলা সংরক্ষণ নয়, ডিলিমিটেশনই এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় এবং উদ্বেগজনক বিষয়।

Comments :0

Login to leave a comment