উত্তর কলকাতার চোরবাগান দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ভিড়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো এবং মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়ছে বলে ঘোষণা করার অভিযোগে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ। এই ঘটনায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯। পুলিশের দাবি, পুজোর প্রথম দিন সন্ধ্যায় ওই ঘোষণার জেরে দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর পরেই হুড়োহুড়ি ও পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম সঞ্জীব রাহা ও কুশল মজুমদার। বৃহস্পতিবার নদিয়া জেলা থেকে সঞ্জীবকে আটক করার পর গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে, শুক্রবার গিরিশ পার্ক এলাকা থেকে কুশলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার সময় দু’জনই চোরবাগান দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ঘোষণা করছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তাদের শনাক্ত করা হয়।
পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে দু’জনকে মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়ছে বলে ঘোষণা করতে এবং দর্শনার্থীদের দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা বলতে শোনা গিয়েছে। ওই ঘোষণার ফলে দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বেরোনোর পথের দিকে হুড়োহুড়ি শুরু হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান তদন্তকারীদের। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, তা এখনও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের আরও দাবি, সঞ্জীব রাহা চোরবাগান দুর্গাপুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। সঞ্জীব ও কুশল, দু’জনেই কলকাতার অমর বসু সরণির বাসিন্দা। তাদের বাড়ি পুজোমণ্ডপ থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ১৭ অক্টোবরের ঘটনার পর থেকেই সঞ্জীব পলাতক ছিলেন এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। তদন্তকারীরা তাকে খুঁজে বের করতে আটটি সন্দেহভাজন মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে এগোন। পুলিশের দাবি, পরিবারের সদস্য ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তিনি বিভিন্ন নম্বর ব্যবহার করছিলেন। সেই সূত্র ধরেই তার অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।
সঞ্জীব রাহার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার তাকে আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, কুশল মজুমদারকে গ্রেপ্তারের পর কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তরে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রয়োজনে দু’জনকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
চোরবাগান পদপিষ্টের ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে রাজ্য সরকার ছ’সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে। কলকাতা হাইকোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত, ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোনও গাফিলতি ছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখবে সিট।
Chorbagan Stampede
চোরবাগান পুজোর পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ২, ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯
×
Comments :0