নতুনপাতা
শারদ ১৪৩৩
ইচ্ছে
অশুভের বিসর্জন
মনীষ দেব
২১ অক্টোবর ২০২৬
৪র্থ বর্ষ
পুটে জানে না — আবাহন কী?— বিসর্জন কী?
পুটে ঠাকুর আসতেও দেখেনি — যেতেও দেখেনি।
ঠাকুরবাড়ির খড়ের গাদার খড় দিয়ে — রথের রশিতে টান পড়লে কাঠামোতে খড় বাধা হয়। তারপর তুষ মাটির একমেটে শেষে নদীর পলির দোমেটে শোকালে খড়ির প্রলেপ।
ঠাকুর আসে কই! ঠাকুরমশাই ঠাকুর গড়ে। নিবারণ বাঁড়ুয্যে তাতে প্রাণ দেয়।
জ্ঞাণ-গম্যিহীন পুটে খালে বিলে মাছ ধরে — পদ্মদিঘিতে পদ্ম তোলে — ধানের খেতে জন খাটে। ওর জীবনে পাঠশালা নেই, নামতা নেই, নেই কোনও ধারাপাত। ওর জীবনধারাই, ওর ধারাপাত।
এহেনও পুটে, নিবারণ বাঁড়ুয্যেকে সুধায়
— পণ্ডিতমশাই তুমি দুগ্গা মায়ের প্রাণ দাও?
বাঁড়ুয্যে সুধায়
— কেন, তোর বিশ্বাস হয় না পুটে?
— হয়তো। তবে তুমি অসুরকেও প্রাণ' দাও?
— দেই তো, না দিলে অসুর বধ হবে কী করে?
অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে পুটে।
বাঁমুজেজ বলে শোন পুটে
— মানুষই প্রতিমা গড়ে, মানুষই অসুর নির্মাণ করে, আবার মানুষই অসুর বধ করে। বিসর্জনও দেয়। অত ভাবিসনা পুটে, সব বিসর্জন হবে, যা দেখছিস সব বিসর্জন হবে।
অশুভের তো বিসর্জনই হয়।
Comments :0