কার্ল মার্কসের মূর্তিতে হামলা চালালো হিন্দুত্ববাদীরা। রবিবার মেদিনীপুর শহরে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় মানুষের প্রতিবাদে পিছু হটেও সেই মূর্তির ফলকে কালো কাপড় ঢাকা দিয়ে লাগানো হলো হিন্দু সুরক্ষা সমিতির ব্যানার।
মেদিনীপুর শহরের স্টেশন রোডে জলট্যাঙ্কি মোড়ে কার্ল মার্কসের ১৭৫ তম জন্মবর্ষে ১৯৮৩ সালে এই মূর্তি স্থাপিত হয়। উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী ও কমিউনিস্ট আন্দোলনের নেতা হরকিষাণ সিং সুরজিৎ, স্বাধীনতা সংগ্রামী সুকুমার সেনগুপ্ত। সেই ফলক কালো কাপড়ে ঢাকা দিয়ে গেল আরএসএস’র বাহিনী। এরই পাশাপাশি কার্ল মার্কসের মূর্তির একটি ভাঙা অংশও নজরে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই ইতিহাস বিকৃতি ও ঐতিহ্য ধ্বংস করা শুরু হয়েছে বলে বক্তব্য সাধারণ মানুষের। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মূর্তি ভাঙার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এবার মেদিনীপুরে হামলা কার্ল মার্কসের মূর্তিতে হামলার ঘটনা ঘটল। এমন ঘটনাকে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে বাম দলগুলি প্রতিবাদ সোচ্চার হয়ে ওঠে।
প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়ে শহরের মীরবাজারে সিপিআই(এম) দপ্তরে রবিবার বামপন্থী দলগুলির পক্ষ থেকে এক সাংবাদিক বৈঠক হয়। সভায় সিপিআই(এম) পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক বিজয় পাল বলেন, আগামী ৬ অক্টোবর জেলা শহর মেদিনীপুরে বামদলগুলির যৌথ বিক্ষোভ সভা হবে, অভিযান হবে এস পি দপ্তরে। তার আগেই বিজেপি’র মদতপুষ্ট ও তৃণমূল থেকে স্থানান্তরিত হওয়া লুটেরা বাহিনী এমন সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইছি। ওই দিন আমাদের কর্মসূচি বানচাল করতে এমন পদক্ষেপ।
বিজয় পাল বলেন, ওরা ইতিহাস বিকৃত করতে উঠে পড়ে লেগেছে। কার্ল মার্কস, লেনিনকে বিদেশি বলে তাঁদের মূর্তিতে আক্রমণ করলেও এর আগে রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগর, নেতাজী, নজরুল এমন মনীষীদের মূর্তি ভাঙা হয়েছে। এমনকি জাতির জনক গান্ধীজীর মূর্তিও ভেঙেছে।
তিনি বলেন, ১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহকে বিশ্বে সর্বপ্রথম ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা বলে আখ্যা দিয়েছিলেন কার্ল মার্কস। ওরা জানে না ঔপনিবেশিক শাসনকালে এশিয়া, আফ্রিকার দেশে দেশে স্বাধীনতার বার্তা দিয়েছিলেন লেনিন। আরএসএস ব্রিটিশের দালাল ছিল। স্বাধীনতা আন্দোলনে পিছন থেকে ছুরি মেরেছিল। এখন ওরা কর্পোরেট ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দালালি করে। ওরা যুক্তির ধার ধারে না, জুলুম করে গরিব মানুষের ওপর। এরা কর্পোরেট পুষ্ট সাম্প্রদায়িক শক্তি- এটাই ওদের চরিত্র।
Comments :0