Bandhan festival

খনি অঞ্চলে জৌলুস হারাচ্ছে বাঁদনা পরব

জেলা

বাঁদনা পরবে কয়লাঞ্চলে আদিবাসী পাড়ায় আদিবাসী নৃত্য চলছে।

মলয়কান্তি মণ্ডল, রানিগঞ্জ


কয়লাঞ্চলের আদিবাসীদের বাঁদনা পরবের চিরাচরিত উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়েছে। আদিবাসী বাড়ির ছেলেরা পরবের দিনে ঘরে নেই। নরেশ হেমব্রম, অবিনাশ মুরমু, সামেল মুর্মু, বদি হাঁসদারা ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে এখন পরিযায়ী শ্রমিক। যোগাড়ের কাজ করে। সুদূর ব্যাঙ্গালোর থেকে বাঁদনা পরবে বাড়ি ফিরতে পারেনি। কয়লাখনি এলাকার বেশিরভাগ আদিবাসী মানুষের হাতে কাজ নেই। ১০০ দিনের কাজ বন্ধ। সংসারে অভাব-অনটন। নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর অবস্থা। দিনমজুরির কাজও জুটছে না। যারা পরের জমিতে নিজের গতর খাটিয়ে অল্প চাষাবাদ করেছিলেন চাষের খরচ বেড়ে যাওয়াই লাভ হয়নি। কপালে চিন্তার ভাঁজ। রেশনের অন্তোদ্যয় অন্ন জোজনার পরিবার পিছু ২১ কেজি চাল এখন কমে ১৫ কেজি হয়েছে। আটা ও গমের পরিমাণ বাড়লেও তা না নিয়ে কয়লাঞ্চলের আদিবাসীরা চাল নিতে চাইলেও পাচ্ছেন না। সারা বছর চলবে  কী করে ? এই দুশ্চিন্তার মধ্যেই রয়েছেন তাঁরা। তাই এবার কয়লাঞ্চলের অধিকাংশ আদিবাসী পাড়ায় যেন হারিয়ে গিয়েছে বাঁদনা পরবের জৌলুস। কয়লাঞ্চলের মানুষের মনের বিষাদ ও জীবন যন্ত্রণার মাঝেও শুরু হয়েছে মিলনের উৎসব 'বাঁদনা পরব'।

চেলোদ আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা রেবু মুর্মু জানান, ‘‘রাঢ বাংলা ও সাঁওতাল পরগণার নিজস্ব এক লৌকিক উৎসব হল বাঁদনা পরব। যা বাংলা তথা দেশের ঐতিহ্যবাহী এবং প্রাচীনতম সংস্কৃতির নির্দশন। এর মধ্যে গ্রাম্য জীবনবাংলার ছবি ফুটে ওঠে। আদিবাসী ভাষায় এটি 'সহরায়' উৎসব নামে পরিচিত। কয়লাঞ্চলের দামোদর ও অজয় নদীর পাড়ের বিস্তৃর্ণ এলাকায় চাষাবাদ হত। মূলত শস্য তোলার পরই শস্য বন্দনার উৎসব হিসেবে পালিত হত। টুসু পুজো, টুসু গান, ঝুমুর গান, আদিবাসী নৃত্য ছিল উৎসবের মূল আকর্ষণ। সারা গ্রাম মেতে উঠতো। এখন অবশ্য সেসবে ভাটা পড়েছে।"
লক্ষ্মীরাম হাঁসদার কথায় যে কয়লাঞ্চলের আদিবাসীদের এই পরবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে চাষাবাদ ও পঞ্চায়েতের ১০০ দিনের কাজ ও দিনমজুরি। তাই নিয়মরক্ষার আচার - অনুষ্ঠানটুকু হচ্ছে। আনন্দ উৎসবে খামতি রয়েছে । সিপিআই(এম) পরিচালিত আমরাসোতা পঞ্চায়েত প্রধান সঞ্জয় হেমব্রম জানান আদিবাসী পাড়াগুলিকে আলো, গেট তৈরি করে সাজিয়ে তোলার ব্যবস্থা করেছে পঞ্চায়েত। অনেকগুলি পঞ্চায়েতে সে কাজও হয়নি। কর্পোরেশন এলাকার আদিবাসী পাড়া মহল্লাগুলিতে একছটাকও সরকারি সাহায্য নেই। আদিবাসীদের আক্ষেপ, রাজ্য সরকার অন্যান্য উৎসবে ক্লাবগুলিকে লক্ষ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করলেও আদিবাদীদের বঞ্চনা করছে।
বামফ্রন্ট সরকার গ্রামের গরিব মানুষের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করেছিল। তৃণমূলের শাসনকালে জামুড়িয়া ও মঙ্গলপুর শিল্পতালুকে স্থানীয় বেকারদের কাজ দিচ্ছে না। বাঁশড়ার ইসিএলের খোলামুখ খনিতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৩০ জন আদিবাসী যুবক কাজ হারিয়েছে। আদিবাসীদের ২৩ একর জমি অধিগ্রহণ করলেও তার ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়নি। তৃণমূল সরকারের আমলে আদিবাসীদের জল জমি জঙ্গলের অধিকার বিপন্ন। রুটিরুজি আক্রান্ত। এই আর্থিক অনটনের মধ্যেও নিজস্ব আচার অনুষ্ঠান, জীবনযাপন, ভাষা, সংস্কৃতি ধরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে আদিবাসীরা।  

 

Comments :0

Login to leave a comment