দীর্ঘ আন্দোলনের পর অবশেষে হতে চলেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিসি ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন। শুক্রবারই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আইসিসি ছাত্র নির্বাচনের নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএফআই এই নির্বাচনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালাচ্ছিল। অবশেষে তাদের দাবিকে মান্যতা দিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ওই নির্দেশিকাতেই বলা হয়েছে, ২৪ মার্চ হতে চলেছে আইসিসির নির্বাচন। স্নাতক এবং স্নাতোকত্তোর দিবা বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের ১২ টা থেকে দুপুর ২ টো পর্যন্ত এবং সান্ধ্য বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের সন্ধ্যা ৬ টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে। আর্টস, সাইন্স এবং ইঞ্জিনিয়াররিং তিনটি ফ্যাকাল্টি থেকেই ছাত্র প্রতিনিধিরা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। যে প্রতিনিধিরা নির্বাচনে দাঁড়াবেন তাঁদের জন্য ২ মার্চ থেকে ১০ মার্চ সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৪ টা দেওয়া হবে নমিনেশন ফর্ম। ২৫ মার্চ হবে এই নির্বাচনের ফলপ্রকাশ।
এই বিষয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএফআই নেতা শুভদীপ ব্যানার্জি বলেন, "এসএফআই দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাম্পাসে সুরক্ষিত পরিবেশ তৈরির দাবি জানিয়েছি। পাশাপাশি, ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক নির্যাতনের স্বীকার যাতে না হতে হয় তাই জন্য 'জিএসক্যাস' গঠন করারও দাবি জানানো হয়। কিন্তু দেখা যায় 'জিএসক্যাস' গঠন এখনও সুপ্রিমকোর্টের আইন স্বীকৃত নয়, ফলত এটা করতে হলে আমাদের ক্যাম্পাসের লড়াইয়ের পাশাপাশি আইনি লড়াইও লড়তে হবে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে যত দিন না এই লড়াই করে আমরা জয়লাভ করছি ততদিন ক্যাম্পাস ছাত্রছাত্রীদের জন্য অসুরক্ষিত থাকছে। ফলে ক্যাম্পাসের মধ্যে অপরাধীরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারে। তাই আমাদের মনে হয়েছে আইসিসি অর্থাৎ ইন্টারনাল কমপ্লেন কমিটিতে যদি নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি থাকে তাহলে ছাত্রছাত্রীদের অসুবিধার বিষয়গুলি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে খুব সহজে পৌঁছে দেওয়া যাবে। তাই আমরা ২০২৪সাল থেকে লাগাতার এই নির্বাচনের জন্য আন্দোলন চালিয়েছি, অবশেষে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাতে মান্যতা দিয়ে নির্বাচনের নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।"
শনিবার অল বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (ABUTA) যাদবপুর বিধ্যবিদ্যালয় শাখা এই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে "অবলুপ্ত এবং আইনত অযোগ্য" বলে এই আইসিসি নির্বাচন বাতিল করার দাবি তুলেছে। যদিও এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
Comments :0