মার্কিন মদতে তেহরান সহ ইরানের একাধিক জায়গায় হামলা শুরু করেছে ইজরায়েল। শনিবার সকালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে ইরানের রাজধানী তেহরান। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের সামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে একটি প্রতিরোধমূলক সামরিক অভিযান শুরু করেছে তারা। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই’র দপ্তরের খুব কাছেই আছড়ে পড়েছে ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র।
রয়টার্স জানিয়েছে, ৮৬ বছর বয়সী খামেনেই হামলার সময় তেহরানে ছিলেন না। তাকে একটি গোপন ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তেহরানের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শহরের আকাশ ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি ভবন এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় সংলগ্ন এলাকাগুলো থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এই হামলার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, ‘ইজরায়েল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের হুমকির মোকাবিলা করতেই এই আগাম হামলা চালানো হয়েছে।’
এই হামলা হঠাৎ করে হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও ইজরায়েল-আমেরিকা অক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। বিশেষ করে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সংঘাত চরম পর্যায়ে পৌঁছায়।
হামলার ঠিক আগের দিনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, তিনি ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিতে মোটেও সন্তুষ্ট নন। সামরিক পদক্ষেপ বা ‘শাসক পরিবর্তনের’ সম্ভাবনা যে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, পরমাণু চুক্তিতে আসার জন্য ইরানকে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই সময়সীমা পার হওয়ার আগেই এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটল।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা চললেও কোন রফাসূত্র মেলেনি। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সমান্তরালে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের রণতরী এবং বিমানবাহী জাহাজ মোতায়েন করে সামরিক শক্তি বাড়িয়েই চলেছিল।
IRAN ISRAEL CONFLICT
তেহরানে ইজরায়েলি বিমান হামলা: নিরাপদ স্থানে সরানো হলো খামেনেইকে, যুদ্ধের মুখে মধ্যপ্রাচ্য
×
Comments :0