Shamik Lahiri

শ্রমজীবীদের চিনতে হবে শত্রু, মিত্রকে নির্বাচনী কর্মশালায় শমীক লাহিড়ী

জেলা

অনিল কুণ্ডু : বারুইপুর

রাজ্যে বামপন্থীরা সরকারে আসলে শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রমকোড লাঘু করা হবে না। একদিকে রাস্তার লড়াই আর একদিকে আইনি লড়াই হবে। শনিবার বারুইপুরে একথা বলেন গণ আন্দোলনের নেতা শমীক লাহিড়ী। তিনি বলেন, বিজেপি নয়া ফ্যাসিবাদ। কেন। কেন্দ্রীয় সরকার পুঁজিপতিদের স্বার্থে শ্রমিক বিরোধী ৪টি শ্রমকোড, ৩টি কৃষি আইন করেছে। এ রাজ্যে বিজেপি লাঘু করবে। তৃণমূল লাঘু করবে। সারা দেশের ৩০ কোটি শ্রমজীবী মানুষ ৪টি শ্রমকোডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। রাজ্যের শ্রমজীবী মানুষকে চিনতে হবে শত্রু, মিত্রকে। শক্তি কি। নির্বাচনের প্রাক্কালে শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। লুটের রাজনীতিকে পরাস্ত করতে হবে। সিআইটিইউ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটি আয়োজিত বারুইপুরে নির্বাচনী কর্মশালায় এদিন বক্তব্য রাখেন তিনি। 
শমীক লাহিড়ী পুঁজিবাদের অবাধ লুটের প্রসঙ্গে বলেন, পৃথিবী জুড়ে অতি দক্ষিণ পন্থী শক্তির উত্থান, অবাধে লুট করছে পুঁজিবাদ। সাধারণ মানুষের হাতে টাকা নেই। বাজার নেই। উৎপাদন কমেছে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ধনীদের ১২ লক্ষ কোটি টাকা কর মকুব করেছে। ধনীদের কর ছাড় দিয়ে সাধারণ মানুষের উপর চাপিয়েছে। শ্রমিকের মজুরি কমাও, স্থায়ী শ্রমিক কমাও। এটাই নীতি। পুঁজিপতিরা রাষ্ট্র, অর্থ, বিচার ব্যবস্থা নিজেদের দখলে রাখতে চায়। লগ্নিপুঁজির জয়যাত্রার রাস্তায় সবচেয়ে বাধা কমিউনিস্টরা, বামপন্থীরা। আর সে কারণেই ২০১১ সালে রাজ্য বামপন্থীরা পরাস্ত হওয়ায় হিলারি ক্লিনটন মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। 
তিনি তৃণমূল,বিজেপি এই দুই শক্তিকে পরাস্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গরিব মানুষের অধিকার রক্ষায় শ্রমজীবী মানুষের কাছে বিকল্পের কথা তুলে ধরতে হবে। এসআইআর প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথম আদালতকে অফিসার নিয়োগ করে ভোটার তালিকা বের করতে হচ্ছে। জাত, ধর্ম, গরিব মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। কর্মশালায় এছাড়াও বক্তব্য রাখেন গণ আন্দোলনের নেতা রতন বাগচী, সিআইটিইউ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক দেবাশিস দে। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা সভাপতি দীপঙ্কর শীল। 
রতন বাগচী বলেন, শ্রমজীবী মানুষের লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তৃণমূল সরকারকে হটাতে হবে। সমস্ত শ্রমজীবী মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে। রাজ্যে তৃণমূল সরকার থাকলে শ্রমজীবী মানুষের কোন দাবি পূরণ হবে না। বামপন্থীরা ক্ষমতায় ফিরলে শ্রমিকের অধিকার রক্ষা করা যাবে। মানুষ মর্যাদা ফিরে পাবে। 
দেবাশিস দে বলেন, গত ১৫ বছরে রাজ্যে কোন কল কারখানা তৈরি হয়নি। যা ছিল বন্ধ হয়েছে। শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের টাকা তছরূপ হয়েছে। শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী শক্তিকে পরাস্ত করে বাম গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ বিকল্প সরকার গড়ে তুলতে হবে।

Comments :0

Login to leave a comment