Polit Bureau Women Reservation

মহিলা সংরক্ষণ চালুর সদিচ্ছা নেই কেন্দ্রের, নতুন সংশোধনীতে খেদ পলিট ব্যুরোর

জাতীয়

মহিলা সংরক্ষণের নামে ডাকা হচ্ছে সংসদের অধিবেশন। আসন বাড়ানোর জন্য সংশোধনী পাশ করাতে চাইছে সরকার। এই প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রেখে বিষয়টি নিয়ে সব রাজনৈতিক দল এবং রাজ্যগুলির সঙ্গে মতবিনিময় করা হোক আগে।
মহিলা সংরক্ষণ আইনের সংশোধনী সংক্রান্ত প্রস্তাবে এই দাবি তুলেছে সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো।
আগামী ১৬-১৮ এপ্রিল বাজেট অধিবেশনেরই বিশেষ পর্ব ডেকে ‘নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম’ আইনে সংশোধনী পাশ করাতে চাইছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। সরকারি ভাষ্যে বলা হয়েছে, যাতে এই আইন প্রয়োগ সুবিধাজনক হয় তার জন্য নেওয়া হয়েছে সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের উদ্যোগ।
পাঁচ রাজ্যে ভোট প্রক্রিয়ার মাঝেই শুরু হয় এই আলোচনা। তার মধ্যে তিন রাজ্যে ভোট হলেও পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাডুতে বাকি রয়েছে। 
পলিট ব্যুরো বলেছে, সিপিআই(এম) সংসদ ও বিধানসভায় এক তৃতীয়াংশ আসনে  মহিলাদের সংরষণ বাধ্যতামূলক করার আইন পাশে দায়বদ্ধ। সে কারণে ২০২৩ সালে, এই বিলের সঙ্গে জনগণনা এবং ডিলিমিটেশনকে জুড়ে দেওয়া নিয়ে আপত্তি থাকলেও, বিলটি সমর্থন করা হয়। সংবিধানের ১০৮ তম সংশোধনীতে এক তৃতীয়াংশ সংরক্ষণের বিলও সমর্থন করা হয়। কিন্তু তখনই আমরা বলেছিলাম যে জনগণনা এবং ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে বিলটিকে জুড়ে দিলে ২০২৪ বা ২০২৯’র নির্বাচনে তা প্রয়োগ করা যাবে না। 
পলিট ব্যুরো বলেছে, দু’বছর বাদে দেখা গেল ডিলিমিটেশন কমিশন গঠন না করে বা জনগণনা শুরু না করে নতুন প্রস্তাব এনেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। কারও সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি। বিরোধী দলগুলি বারবার সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি জানালেও তা শোনা হয়নি। রাজ্যে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মাঝে সংকীর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। তা অত্যন্ত আপত্তিকর এবং একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। 
পলিট ব্যুরো বলেছে, সরকারি প্রস্তাবেই মহিলা সংরক্ষণের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে সংসদের আসন বাড়ানোর লক্ষ্য। ২০১১-র জনগণনার ভিত্তিতে সংসদে ও বিধানসভায় আসন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা নিয়ে তাড়াহুড়ো করে এগনো যায় না। রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি। 
পলিট ব্যুরো বলেছে, সিপিআই(এম)’র দাবি বিশদে আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত সংসদের আসন বাড়ানোর প্রস্তাব স্থগিত রাখা হোক। ২০২৯’র লোকসভা নির্বাচনেই মহিলা সংরক্ষণ চালু করা সম্ভব। কেবল জনগণনা এবং ডিলিমিটেশনকে বাদ দিতে হবে একটি সংশোধনী পাশ করিয়ে। কিন্তু পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে মোদী সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা নেই।

Comments :0

Login to leave a comment