India U-19 WC

বৈভব ঝড়ে উড়ে গেল ইংল্যান্ড হারারেতে বিশ্বজয় আয়ুশদের

খেলা

ভারতীয় ক্রিকেটের লোকগাথায় জায়গা করে নিল বৈভব সূর্যবংশীর ১৭৫। কপিল দেব ৪৩ বছর আগে জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে ১৭৫ করে বদলে দিয়েছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের গতিপথ। এবার ১৪ বছর ৩১৬ দিন বয়সের কিশোর বৈভবের ১৭৫ দেখিয়ে দিল ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের ফলাফল স্থির হয়েগিয়েছিল প্রথম ২৫ ওভারেই। হারারেকে ব্যাটিংয়ের আগুনে ঝলসে দিলেন বৈভব। তাঁর ব্যাটিং বৈভবে ইংল্যান্ডের বোলারদের অসহায় লাগছিল, এমনটা বলাও অনেক সাধারণ।
একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছেন বৈভব। বিশ্বকাপের ফাইনাল বিহারের এই কিশোরের কাছে রেকর্ড ভাঙ্গার মঞ্চ হয়ে ওঠে। তিনিই প্রথম অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্লে-অফ ম্যাচে ১৫০’র বেশি রান করলেন। ফাইনালেও এটি সর্বাধিক। আগের রেকর্ড  ছিল উন্মুক্ত চাঁদের অপরাজিত ১১১। অম্বাতি রায়ুডুর অপরাজিত ১৭৭’র পরেই বৈভবের ইনিংসটি সেরা ভারতের পক্ষে। তিনি এখন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে শতরান করা সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার। ১৫ বছরের আগে যুব একদিনের ক্রিকেটে শতরান করেছেন মাত্র দু’জন। বৈভব ৪টি ও নাজমুল হোসেন শান্ত ১টি। মাত্র ৫৫ বলে শতরানটি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে দ্বিতীয় দ্রুততম শতরান। ১৫০ রানে পৌঁছতে তিনি ৭১টি বল খেলেন। 
বৈভবের ব্যাটিং দর্শকে পরিণত করে ইংল্যান্ডের বোলারদের। ১৫টি চার ও ১৫টি ছয় মারেন তিনি। কেরিয়ারে যুব একদিনের ২৫টি ম্যাচে ১১০টি ছয় মেরেছেন। শুধু এই প্রতিযোগিতাতেই মেরেছেন ৩০টি। তাঁর ধারে কাছে কেউই নেই।পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর মোট রান ৪৩৯। কটি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আসরে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ। গণশক্তির বিশেষ সংবাদদাতাকে  ম্যাচের বৈভব বলেন, ‘এই বিশ্বকাপে আমি রান পাচ্ছিলাম। কিন্তু যেভাবে খেলতে চাইছিলাম, সেভাবে হচ্ছিল না। সেমিফাইনালে সেই টাচটা ফিরে পেলেও, বড় রান হয়নি। ৬৮ রানে আউট হয়ে গিয়েছিলাম। ফাইনালে আমার লম্বা ইনিংস খেলার লক্ষ্য ছিল। সেটাই করতে পেরে, দলকে জেতাতে পেরে, আমি খুব খুশি।’ সূত্র মারফত আরও জানা গিয়েছে, ফাইনালের আগেই ছোটবেলার কোচ মনীশ ওঝার সঙ্গে কথোপকথন হয় বৈভবের। শৈশবের কোচ বৈভবকে পরামর্শ দেন, বাড়তি চাপ না নিয়ে নিজের ন্যাচরাল গেম খেলো। তাতেই সাফল্য আসবে। অতিরিক্ত কিছু করার দরকার নেই। মণীশের ভোকাল টনিক বাড়তি দিয়েছিল বৈভবকে। মণীশ বৈভবকে বলেন, ‘এতদিন তুই যা যা প্রতিযোগিতায় খেলেছি, সবজায়গায় তোর শতরান রয়েছে। কিন্তু অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে এখনও অবধি শতরান পাসনি। ফাইনালে তোর সামনে বড় সুযোগ, শতরান করে দলকে জেতা।’  
প্রথম ২৫ ওভারে ২ উইকেটে ২৫০ তোলে ভারত।  পরের ২৫ ওভারে ৭ উইকেটে ওঠে ১৬১। বৈভবের ক্রিজে থাকা না থাকার মধ্যে এটাই ছিল পার্থক্য। ভারতের শুরুটা ছিল সতর্ক।  ক্রিজে সেট হয়েই ছয়-চারের ঝলকানিতে স্টেডিয়াম জুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। অ্যারন জর্জ দ্রুত আউট হওয়ার পর আয়ুষ মাত্রে (৫৩) বৈভবের সঙ্গী হন। দু’জনে মিলে ইংল্যান্ডের মনোবল ভেঙে চুরমার করে দেন। দ্বিতীয় উইকেটে ৯০ বলে ১৪২ রানের সেই জুটি ছিল ধ্বংসযজ্ঞের নমুনা।
এর পর তৃতীয় উইকেটেও আসে আরেকটি ধ্বংসাত্মক জুটি। মাত্র ৩৯ বলে ৮৯ রানের সেই জুটি ইংল্যান্ডকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। দ্বিশতরান  তখন তার নাগালের মধ্যেই। কে বলতে পারে টিকে থাকলে তিনশোও হয়ত সম্ভব ছিল।  শেষ পর্যন্ত বৈভব আউট হন ৮০ বলে ১৭৫ রানে।  এরপর ইংল্যান্ড সামান্য হলেও ম্যাচে লড়াই করে,
বিহান মালহোত্রা (৩০) ও অভিজ্ঞান কুণ্ডুর (৪০)  ক্যামিও ভারতকে ৩০০ পেরিয়ে নিয়ে যায়। এরপর বেদান্ত ত্রিবেদী (অপরাজিত ৩৭) ইনিংসের দৌলতে ভারত তোলে ৯ উইকেটে ৪১১।  অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্লে-অফ ম্যাচে ৩৫০-এর বেশি রান করা প্রথম দল ভারত। ফাইনালে এর আগে সর্বোচ্চ দলগত রান ছিল ২০২৪ সালে ভারতের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ২৫৩/৭। এটি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতের তৃতীয় ৪০০-এর বেশি দলগত স্কোর। অন্য কোনো দলের এমন স্কোর একটির বেশি নেই।
এই বিশাল স্কোর তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড প্রথম দু’টি ওভার মেডেন দেয়। এরপর ধীরে সুস্থে রান তোলা শুরু করে। জোসেফ মুর (১৭) ফিরে যাওয়ার পর বেন ডকিন্স (৬৬) ও বেন মায়েস (৪৫) মাত্র ৪২ বলে ৭৪ রান যোগ করেন। একসময় ৩ উইকেটে ১৭২ রান তুলে ফেলে ইংল্যান্ড। কিন্তু পরের ৮ বলে  ৫ রান যোগ করার ফাঁকে তারা হারায় ৪টি উইকেট।
সেই সময় ভারতীয় সমর্থকরা ভাবছেন দ্রুত ম্যাচ শেষ হবে। এমন অবস্থায় ব্যাট হাতে রুখে দাঁড়ান কালেব ফ্যালকনার। তাঁর ৬৭ বলে ১১৫ ইংল্যান্ডকে ৩০০’র গন্ডি টপিকয়ে দেয়। শেষ ৩ উইকেটে ইংল্যান্ড ১৮.২ ওভারে ১৩৪ রান যোগ করেন। শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন ফ্যালকনারই। কণিষ্ক চৌহানের বলে সামনে ঝাঁপিয়ে প্রায় মাটি থেকে বল তুলে নেন খিলান প্যাটেল। 
ভারত এই নিয়ে ছ’বার বিশ্বজয়ী হলো। আয়ুশ নাম লেখালেন মহম্মদ কাইফ, বিরাট কোহলি, উন্মুক্ত চাঁদ, পৃথ্বী শাহ, যশ ধুলের সঙ্গে।

Comments :0

Login to leave a comment