Jal Swapna Prakalpa

সাত বছর অতিক্রান্ত, এখন মরীচিকা বিন্নাগুড়ির ‘জল স্বপ্ন' প্রকল্প

জেলা

রাজ্যে ঘটা করে শাসকদলের 'জল স্বপ্ন' প্রকল্পের প্রচার চললেও বাস্তবের রুক্ষ মাটিতে দাঁড়িয়ে জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাট ব্লকের বিন্নাগুড়ি। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া প্রায় ১৮ কোটি টাকার পানীয় জল প্রকল্প সাত বছর পার করলেও আজও অধরা। প্রশাসনের ঢিলেমি, পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি আর টালবাহানায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বাড়ছে। অবিলম্বে কাজ শেষ করার দাবিতে সরব হয়েছে সিপিআই(এম) বানারহাট এরিয়া কমিটি।
বিন্নাগুড়ি এলাকা ও সংলগ্ন চারটি চা বাগানের লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে প্রায় ১৭ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিল জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর। লক্ষ্য ছিল বিশাল রিজার্ভার তৈরি করে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পরিশ্রুত জল পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা দেখে এলাকার মানুষ একে 'জল স্বপ্ন' নয়, বরং 'জল ছলনা' হিসেবেই দেখছেন। 
বিন্নাগুড়ি হাটখোলা, তেলিপাড়া, ডিএস কলোনি এবং হলদিবাড়ি চা বাগান এলাকায় পাইপলাইনের কাজ অর্ধেকও শেষ হয়নি। রাস্তা খুঁড়ে রাখা হলেও জল আসেনি। যেখানে নামমাত্র সংযোগ দেওয়া হয়েছে, সেখানেও জলের চাপ নেই। সুতোর মতো সরু ধারায় জল পড়ায় মানুষের পানীয় জল নিয়ে হাহাকার কমছে না। 
২০১৯ থেকে ২০২৬— সাত বছর কেটে গেলেও কাজ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। ঢিমেতালে কাজ চলায় প্রকল্পের খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও আকাশছোঁয়া হয়েছে।
এই দীর্ঘসূত্রিতা ও প্রশাসনিক অপদার্থতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সিপিআই(এম) স্থানীয় নেতৃত্ব মনোরঞ্জন সরকার সাফ জানিয়েছেন, "তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত এবং রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতার মাসুল গুনছে সাধারণ মানুষ। ১৮ কোটি টাকার প্রকল্প কার্যত দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং কোনো তদারকি নেই।"
সিপিআই(এম)'র ​জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির সদস্য দীপক কুন্ডু আরও যোগ করে বলেন, "সাধারণ মানুষের করের টাকা এভাবে লুটেপুটে খাওয়া হচ্ছে অথচ বিন্নাগুড়ির চা শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ এক ফোঁটা জলের জন্য লড়াই করছেন। আমরা দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে এই প্রকল্পের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শেষ করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে সিপিআই(এম)।"
প্রকল্পের এই বেহাল দশা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে, বর্তমান পঞ্চায়েত প্রধান সমস্ত দায় ঝেড়ে ফেলে আগের বোর্ডের ওপর দোষ চাপিয়েছেন। তবে গত কয়েক বছরে কেন কাজ এগোল না, তার কোনো সদুত্তর তাঁর কাছে নেই। বানারহাট ব্লকের এক আধিকারিক সেই চেনা আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে জানিয়েছেন যে তাঁরা বিষয়টি দেখছেন।
কিন্তু প্রশাসনের এই 'দেখছি-দেখব' মনোভাবে অতিষ্ঠ বিন্নাগুড়িবাসী। পানীয় জলের সংকট নিয়ে ইতিপূর্বে বহুবার বিক্ষোভ হয়েছে। নেতা-মন্ত্রীরা বারবার পরিদর্শন ও প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। জনগণের প্রশ্ন, ১৮ কোটির এই প্রকল্প কি শেষ পর্যন্ত বিন্নাগুড়ির মানুষের কাছে কেবল এক 'মরীচিকা' হয়েই থেকে যাবে? লড়াইয়ের প্রস্তুতি এখন বিন্নাগুড়ির অলিতে-গলিতে।

Comments :0

Login to leave a comment