তৃণমূল সরকার রাজ্যের সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে শেষ করে দিতে চাইছে, আমরা সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে। সল্টলেকে আন-এইডেড মাদ্রাসা ঐক্য মঞ্চের অবস্থানে গিয়ে এমনই বললো সিপিআই(এম) নেতৃত্ব। ২৩৫ আন-এইডেড মাদ্রাসাকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি সহ একাধিক দাবিকে সামনে রেখে ৭৩ দিন ধরে সিটি সেন্টার ১ এর সামনে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন মাদ্রাসা শিক্ষকরা।
এদিন তাদের সেই অবস্থান বিক্ষোভে যান সিপিআই(এম) নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি, শতরূপ ঘোষ এবং কলতান দাশগুপ্ত। দীর্ঘ সময় তাদের সাথে কথাও বলেন তারা। মীনাক্ষী বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে মাদ্রাসা ঐক্য মঞ্চের এই আন্দোলন চলছে। আট বছর পার হয়ে গেলো এখনও দাবি মানা হলো না। এই আন্দোলনের পাশে আমরা প্রথম থেকে ছিলাম পরেও থাকবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই লড়াই রাজ্যের সরকারি শিক্ষা কাঠামোকে বাঁচানোর। ওরা সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে শেষ করে দিতে চাইছে। এটাই ওদের লক্ষ। রাজ্যের ছেলে মেয়েরা উচ্চ-মাধ্যমিক পাশ করে অন্য রাজ্যের চলে যাচ্ছে। আবার অনেকে লেখা পড়া ছেড়ে কাজে ঢুকে পড়ছে পরিযায়ী শ্রমিক হচ্ছে। এই চিত্র আমাদের রাজ্যে ছিল না।’ রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে সিপিআই(এম)’এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বলেন, ‘উন্নয়নের পাঁচালী পড়ছে বলছে চাকরি দিয়েছে। মিথ্যা কথা বলছে। তার প্রমান রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চাকরি প্রার্থীদের আন্দোলন।’
হুগলীর জাভেদ মিয়াদাদ একজন আন-এইডেড মাদ্রাসার শিক্ষক। তার কথায়, আন-এইডেড মাদ্রাসার পড়ুয়া থেকে শিক্ষক কেউ কোন সরকারি সুযোগ সুবিধা পায় না। মিড-ডে-মিল নেই। শিক্ষকদের বেতন সামান্য। তিনি বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন দামনোর জন্য হঠাৎ করে এই ২৩৫টি মাদ্রাসায় নজরদারি করছে সরকার। বলছে সব তথ্য, কাগজ খতিয়ে দেখবে। আমাদের হেনস্তা করা হচ্ছে। চাপ দেওয়া হচ্ছে আন্দোলন তুলে নেওয়ার জন্য।’ তার কথায় মাদ্রাসা বোর্ড এবং সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের দারস্থ হলে তারা দাবি মানার মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কোন লিখিত প্রতিশ্রুতি নেই। আন্দোলনকারিদের কথায় সরকারের কাছ থেকে লিখিত প্রতিশ্রুতি না পাওয়া পর্যন্ত তারা কোন ভাবেই তাদের এই আন্দোলন তুলে নেবে না।
সিপিআই(এম) নেতা শতরূপ ঘোষ বলেন, ‘তৃণমূল সরকারের আমলে লেখা পড়া কথাই একটা অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর মাধ্যমিক এবং উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। যারা লুঠ করছে তারা আনন্দে রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল বলছে মাদ্রাসায় সন্ত্রাসবাদী তৈরি হয়। ওরা জানে না রাজা রাম মোহন রায়, গুরচাঁদ ঠাকুর এনারা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন।’
কলতান দাশগুপ্ত বলেন, ‘বামফ্রন্ট সরকারের আমলে তৈরি হওয়া মাদ্রাসা, প্রাইমারি স্কুল সব শেষ করে দিচ্ছে রাজ্যের সরকার। আমাদের লড়াই বাংলা বাঁচানোর। বাংলা বাঁচাতে হলে শিক্ষাকে বাঁচাতে হবে। বিজেপি এবং তৃণমূল আসলে মানুষের যুক্তি বোধকে আটকাতে চায়। তাই তাদের আক্রমণ শিক্ষার ওপর।’
Comments :0