Jyoti Basu

গণআন্দোলনের আইকন জ্যোতি বসু

উত্তর সম্পাদকীয়​

মহম্মদ সেলিম
শনিবার, ১৭ জানুয়ারি কমরেড জ্যোতি বসুর সপ্তদশ প্রয়াণ দিবস। আজকের দিনে যখন দক্ষিণপন্থীরা আমাদের ইতিহাসকে গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, আমাদের স্মৃতি থেকে ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল ধারাকে মুছে দিতে চাইছে, তখন মেহনতি মানুষের জন্য জ্যোতি বসুর উৎসর্গীকৃত সংগ্রামী জীবনকে স্মরণ করার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। আমরা কেউ ইতিহাসে ফিরে যাওয়ার জন্য কিংবা অতীতের খাঁচায় আটকে থাকার জন্য ইতিহাসের চর্চা করি না, বরং ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আজকের দিনে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার দিশা খুঁজে নিতে ইতিহাসের চর্চা করি, জ্যোতি বসুর মতো রাজনৈতিক জীবনকে স্মরণ করি। মোদী যেমন নিজেকে বিশ্বগুরু বলে প্রচার করেন, কিংবা মমতা ব্যানার্জি যেমন সততার প্রতীক বলে প্রচার করেন, জ্যোতি বসুর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অন্য ধারার। উগ্র দক্ষিণপন্থী শাসকরা এভাবেই অবতার সাজিয়ে কোথাও হাজির করছে ট্রাম্পকে, কোথাও মোদীকে, কোথাও মমতা ব্যানার্জিকে। এরা এমন ভাব করেন যেন ইতিহাসটা তাদের ক্ষমতায় আসা থেকেই শুরু। তাই তাঁরা পূর্ববর্তী ইতিহাসকে মুছে দিতে চান। এর জন্যই অতীত ঢাকতে কখনো নীল সাদা রঙের পোঁচ লাগান, অথবা নতুন কোনও কিছু সৃষ্টি না করে কেবল পূর্ববর্তী সৃষ্টির নাম/ফলক পরিবর্তন করেন। এরা কেউ গেম চেঞ্জার নয়, এরা কেবল নেম চেঞ্জার। জ্যোতি বসু ছিলেন প্রকৃত গেম চেঞ্জার। বাংলার মাটিতে জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে কীভাবে মতাদর্শের প্রয়োগে বুভুক্ষু দারিদ্রপীড়িত অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো হয়েছিল সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের সঠিক পথ নির্ধারণ করে নিতে হবে। সেই জন্যই আজকের দিনের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সামাজিক সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য তাঁকে স্মরণ করতে হয়।

প্রাক স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতা পরবর্তী গণআন্দোলনের যে ধারাবাহিকতা তার আইকন ছিলেন জ্যোতি বসু। এখনকার মতো প্রতিদিন দল বদলানো আর ঝান্ডা বদলানো নেতাদের মতো নয়। আদর্শে অবিচল থেকে লক্ষ্য অর্জনের জন্য রাজনীতিতে ধারাবাহিক কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ছিলেন তিনি। ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে, দেশভাগের সময়কালের সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলনে, যুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষের সময়ে তিনি মানুষের স্বার্থরক্ষায় নিবেদিত ছিলেন, স্বাধীনতার পরেও কৃষকের জমি, খাদ্য, শ্রমিকের অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে তিনি লড়েছেন, জেলে গিয়েছেন, কিন্তু পিছপা হননি। স্বাধীনতার অর্থ যে শুধুমাত্র ব্রিটিশ শাসনের পরিবর্তন নয় সে কথা বলেছিলেন এবং শোষণের অবসান, সমতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইতে তিনি সক্রিয় ছিলেন, সমাজ পরিবর্তনের পথে এগনোর লড়াইকে তিল তিল করে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। স্বাধীনতার আগে পার্টি যা যা বলেছিল, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, ক্ষুধার বিরুদ্ধে, দাঙ্গার বিরুদ্ধে, কালা কানুনের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে, সেই সব কথা তিনি বলেছিলেন আইনসভার ভিতরে এবং বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে। স্বাধীন ভারতে খণ্ডিত বাংলায় তিনি গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, বিরোধী দলনেতা হিসাবে পুলিশি জুলুমের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের পক্ষে, রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির দাবিতে সোচ্চার ছিলেন আবার উপ মুখ্যমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী হয়ে শ্রমিক কৃষক মেহনতি মানুষের সেই দাবিগুলি রূপায়ণ ও গণতন্ত্র  প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই কাজ করেছেন। রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিয়েছেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করেছেন। দেশভাগের ক্ষতের পরেও তিল তিল করে বাংলাকে গড়ে তুলেছিলেন, উদ্বাস্তুদের স্বার্থরক্ষায়, মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি রক্ষায়, মেহনতি মানুষের স্বার্থরক্ষায় লড়াই করেছেন। এটাই নীতিনিষ্ঠতা। এখন জ্যোতি বসুকে কেন্দ্র করে আমরা তাঁর রাজনীতি, আদর্শ, জীবনচর্যা নিয়ে চর্চা করছি। কারণ আজকের প্রেক্ষাপটে আমাদের পূর্বসূরিদের সেই লড়াই আজও জরুরি, উত্তরসূরি হিসাবে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সেই লড়াই আমাদেরই করতে হবে।

জ্যোতি বসুরা যখন খাদ্য আন্দোলন সংগঠিত করেছিলেন তখন তার জন্য ফরওয়ার্ড লিঙ্কেজ ও ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন। বামপন্থীরা গণবণ্টন ব্যবস্থা, রেশনের পাশাপাশি কৃষকের হাতে জমি, সেচ, উন্নত বীজের জন্য লড়াই করেছিল। আজ খাদ্য নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি প্রচার করা হয় একদিকে আর অন্যদিকে মানুষের মুখের গ্রাস ও হাতের কাজ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। খাদ্যের অধিকার কেড়ে আদানি-আম্বানিদের হাতে গণবণ্টন ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হচ্ছে। কৃষকের সর্বনাশ করে ঋণের জালে জড়ানো হচ্ছে, সহায়ক মূল্য না দিয়ে নীল সাদা রং করে কিষান মান্ডি/ কিষান মান্ডি ক্রেডিট কার্ড দেখানো হচ্ছে। জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে বামফ্রন্ট সরকার অপারেশন বর্গা করেছিল, ভূমিসংস্কার করেছিল। এখন উল্টোটাই হচ্ছে। বামপন্থীরা শিক্ষকদের নিয়ে আন্দোলন করেছিল, শিক্ষার অধিকার, শিক্ষার প্রসার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্ত শাসনের জন্য লড়েছিল। এখন শিক্ষায় গণতান্ত্রিকীকরণ তছনছ করে কেবল দুর্নীতির আখড়া বানানো হচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মাধ্যমে শিক্ষার বেসরকারিকরণের পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে।

যারা কোনোদিন স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেনি, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আদিবাসী বিদ্রোহ থেকে কৃষকদের বিদ্রোহগুলিকে স্বীকারই করেনি, আজকে তারাই দেশের শাসন ক্ষমতায় বসে দেশবাসীকে দেশপ্রেম শেখাতে নেমেছে। দেশের বৈচিত্র ও সংবিধানকে অস্বীকার করে কে কী খাবে, কী পরবে, কোন ভাষায় কথা বলবে, সবকিছুর ফরমান জারি করছে। এরা শুধু সংখ্যালঘু বিদ্বেষ ছড়িয়ে বাবরি মসজিদই ভাঙেনি, মণিপুর থেকে ভীমা কোরেগাঁও সর্বত্র দলিত আদিবাসীদের ওপর রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিপীড়ন চালাচ্ছে, গণহত্যা ঘটাচ্ছে। হাথরস থেকে উন্নাও নারী নির্যাতন, খুন ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত থাকছে না, ধর্ষকদের মহিমান্বিতও করছে। গুড়গাঁও থেকে ওডিশা পরিযায়ী শ্রমিকদের মব লিঞ্চিং করছে। গ্রাহাম স্টেইনস থেকে মহম্মদ আকলাখ, হরগোবিন্দ দাসরা কেউই রেহাই পান না এই সাম্প্রদায়িক মৌলবাদীদের জান্তব রাজনীতি থেকে। জ্যোতি বসু সেই দূরদর্শী রাজনীতিবিদ ছিলেন যিনি এই বিপদ অনেক আগেই বুঝেছিলেন এবং গোটা দেশে সবার প্রথম হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক বিজেপি’কে ‘অসভ্য, বর্বর’ বলেছিলেন। আগে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে এই বর্বরতা দেখা যাচ্ছিল, কিন্তু বাংলায় নবজাগরণের ধারা এবং তার উত্তরসূরি বামপন্থী আন্দোলনের শক্তিশালী ধারায় তারা পা রাখতে পারছিল না। সেই জন্যই নাগপুর থেকে পরিকল্পনা করে আরএসএস এরাজ্যে তৃণমূল দলটার সৃষ্টি করে। জ্যোতি বসু যাদের ‘অসভ্য বর্বর’ বলেছিলেন, মমতা ব্যানার্জি তাদেরকেই ‘দেশপ্রেমিক’ এবং ‘ন্যাচারাল অ্যালি’ বলে সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন। বিনিময়ে আরএসএস তাঁকে ‘দুর্গা’ সম্বোধন করে দশ হাতে দশ অস্ত্র সাজিয়ে দিয়েছিল বামেদের নিকেশ করতে। উগ্র দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িক সব শক্তি এবং উগ্র বামপন্থীদের সাহায্য নিয়ে মমতা ব্যানার্জি ‘লাল হটাও’ প্রচার করেছিলেন। পরিণতি কী হয়েছে? এখন এরাজ্যেও সেই অসভ্যতা, বর্বরতার ছবি দেখা যাচ্ছে যার সম্পর্কে জ্যোতি বসু সতর্ক করেছিলেন। নবজাগরণের প্রাণকেন্দ্র কলকাতার বুকে চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধর করা হচ্ছে! মন্দির মসজিদ নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। জ্যোতি বসু নিজে ধর্মবিশ্বাসী না হলেও কখনোই ধর্ম বিরোধী ছিলেন না, তাঁর পরিবারে পুজো আচ্চার বিশ্বাসও ছিল। কিন্তু ধর্মকে রাজনীতিতে টেনে আনার বিপদ তিনি জানতেন। সেই জন্যই বলেছিলেন, ‘তৃণমূলের সবচেয়ে বড় অপরাধ ওরা এরাজ্যে বিজেপি’কে নিয়ে এসেছে।’ আজ গোটা রাজ্যের মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতায় তা বুঝতে পারছেন।

জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে বাংলায় গণতন্ত্র প্রসারের দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপগুলি নেওয়া হয়েছিল। এরাজ্যের সরকারে আসীন হওয়ার একবছরের মধ্যে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা করা হয়েছিল সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে। প্রশাসক চাপিয়ে পরিচালনার বদলে সর্বজনীন ভোটাধিকার দিয়ে পৌর নির্বাচন করা হয়েছিল। জমি বাড়ি সম্পত্তি কোনোকিছুই বাধ্যতামূলক ছিল না ভোটাধিকারের জন্য। দেশের মধ্যে প্রথম পশ্চিমবঙ্গেই ১৮ বছর বয়সে ভোটাধিকার দিয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় সমবায় পরিচালনায় নির্বাচিত কমিটির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে বাংলার বুকে গণতন্ত্র প্রসারের এই উদ্যোগের বৈশিষ্ট্যই ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক, যাদের মতদানের অধিকার ছিল না তাঁদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল মত প্রকাশের অধিকার দিয়ে।

কিন্তু এখন উগ্র দক্ষিণপন্থীরা ক্ষমতায় বসেই সেই অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। এরাজ্যে তৃণমূল ভোটদান কেন্দ্র থেকে গণনা কেন্দ্রে ভোট লুট করেছে দুষ্কৃতীবাহিনী এবং দলদাস পুলিশ প্রশাসনের সাহায্যে। বিজেপি নিয়ে এসেছে আরও বিপদ, তারা ভোটার তালিকাতেই অধিকার লুট করে নেওয়ার থাবা বসিয়েছে দলদাস বানানো নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর ভোটার তালিকার সংশোধনের প্রয়োজন হয়, মৃত মানুষদের ও স্থানান্তরিতদের নাম বাদ দিতে হয় এবং নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। কিন্তু এসআইআর’র নামে আরএসএস বিজেপি’র পরিকল্পনামতো নির্বাচন কমিশন বিয়োজনমূলক পদক্ষেপ কার্যকর করছে। তৃণমূল যে মৃত ও ভুয়ো ভোটারদের নাম তালিকায় রাখতে চেয়েছিল তাদের বাদ দেওয়ার বদলে এলাকা এবং জনগোষ্ঠীর নির্দিষ্ট অংশকে বাছাই করে করে কমিশন নাম বাদ দিতে উঠেপড়ে লেগেছে। সেই জন্যই লক্ষ লক্ষ মানুষকে শুনানির নোটিস দিচ্ছে। এমনভাবে নথি চাইছে যা সমাজের প্রান্তিক অংশ, গরিব, আদিবাসী, পরিযায়ী, উদ্বাস্তু, মহিলাদের পক্ষে দাখিল করাই সমস্যার। এই অংশই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এসআইআর’এ। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ সংবিধান বিরোধী, প্রাপ্তবয়স্কদের সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে গণতন্ত্রের ধারণার পরিপন্থী। আরএসএস-বিজেপি এসআইআর’এর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে নির্বাচনে যে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চেয়েছে কমিশন সেই কাজ রূপায়ণ করতে নেমেছে সাংবিধানিক দায়িত্ব সরিয়ে রেখে।

এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্রের প্রসারে অবদান রাখা জ্যোতি বসুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করতে হলে এসআইআর শুনানির নামে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হয়রানির বিরুদ্ধে শপথ নিতে হবে। আরএসএস বিজেপি এবং এই সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিষ বৃক্ষকে এরাজ্যে ডেকে আনা তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শপথ নিতে হবে। শনিবার এলাকায় এলাকায় পাড়ার বিশিষ্ট মানুষজন, মাস্টারমশাই, প্রবীণ মানুষ, গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল আন্দোলনে অবদান রয়েছে এমন মানুষজন এই কঠিন সময়ে দেশ ও রাজ্য রক্ষা করার শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।

বাংলায় বৌদ্ধিক চর্চা ও মুক্তচিন্তার যে ধারা ছিল মুখ্যমন্ত্রী হয়েই সবার মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগানোর কথা বলে মমতা ব্যানার্জি তাতে আঘাত করেছেন। শুধু বামপন্থী নয়, সব বিরোধী সমালোচক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। আর সেই সুযোগেই বাংলার মাটিতে সাম্প্রদায়িকতার চাষ করেছে আরএসএস। এই আক্রমণ শুধু রাজনৈতিক নয়, সমাজের সবক্ষেত্রে বহুমাত্রিক। তাই মোকাবিলাও করতে হবে বহুমাত্রিকভাবে। এর জন্যই জ্যোতি বসু সমাজ চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে, তার হার্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার অর্থাৎ ইট সিমেন্ট কাঠ লোহার পরিকাঠামো গড়ে উঠছে জ্যোতি বসু নগরে, দ্বিতল থেকে তা ত্রিতল হচ্ছে। তার সঙ্গে সঙ্গে সফট ইনফ্রাস্ট্রাকচার অর্থাৎ জ্ঞান ও দক্ষতা নির্মাণের কাজও চলছে। সমাজের প্রয়োজনের দিকে তাকিয়ে সেমিনার ও গবেষণামূলক কর্মসূচি, মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে স্থায়ী স্বাস্থ্যশিবির ইত্যাদির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসা বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদেরও সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। জ্যোতি বসুর অবদানকে স্মরণে রেখে বহু মানুষের দেওয়া আর্থিক ও বৌদ্ধিক রসদ নিয়েই আজকের দিনের সংগ্রামে রসদ জোগানোর ভূমিকা পালন করবে জ্যোতি বসুর নামাঙ্কিত কেন্দ্র। জ্যোতি বসুর প্রয়াণ দিবসে তাঁর অবদানকে স্মরণ করতে হবে বহুমাত্রিকভাবে আজকের দিনের সঙ্কটের মোকাবিলার উদ্দেশ্য নিয়েই।

Comments :0

Login to leave a comment