West Bengal Budget 2026

যুবসাথী প্রকল্পে ভরসা নেই, ভিন রাজ্যের অভিমুখী পুরুলিয়ার যৌবন

জেলা

পুরুলিয়া থেকে ভিন রাজ্যে রওনা দিল পরিযায়ী শ্রমিকের দল।

মুখ্যমন্ত্রীর বাংলার যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণার পরের দিনই পুরুলিয়া থেকে কয়েক হাজার যুবক কাজের জন্য রওনা দিলেন দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন জায়গায়। তাদের পরিষ্কার বক্তব্য যুবসাথী প্রকল্পের উপর কোন ভরসা নেই। গোটাটাই ভাঁওতা। তাঁরা এই ভাতার রাজনীতি চান না। তাঁরা চান এই রাজ্যে স্থায়ী কাজ। আর সেটা এ রাজ্যে পেলে তাদেরকে আর পরিবার পরিজনকে ছেড়ে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে চলে যেতে হবে না। জানিয়ে গেল এই সরকারের ওপর তাদের আর কোনো ভরসা নেই।
২৪ ঘন্টা আগে রাজ্য বাজেটে বেকার যুবকদের নতুন প্রকল্প যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বেকার যুবক যুবতীরা পাঁচ বছর ধরে মাসিক ১ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন এটাই ঘোষণা করা হয়েছে রাজ্য বাজেটে। সেই প্রকল্পের ওপর সামান্যতম কোন ভরসা নেই। আর ভরসা নেই বলেই শুক্রবার পুরুলিয়া থেকে রওনা দেওয়া ভেল্লুপুরম এক্সপ্রেস ট্রেনে দেখা গেল পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিড়। কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে তাঁরা রওনা দিচ্ছেন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। সংসারের দায়িত্ব পালনের জন্য কাজের খোঁজে জেলা ছাড়ছেন হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক। কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউ বা সাধারণ শ্রমিক হিসেবে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। তাদের অভিযোগ এই জেলায় কোনো কাজ নেই। অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে তাঁরা জানালেন ভাতা দিয়ে সংসার চলে না। ব্যাঙ্গালোরের কাজ করতে যাওয়া প্রিয়রঞ্জন সিং সর্দার জানিয়েছেন, স্ত্রী, এক ছেলে এবং এক মেয়েকে নিয়ে তাঁরা ব্যাঙ্গালোরে যাচ্ছেন। তাঁর কথা এই সরকার কিচ্ছু দেবে না। এই সরকার দুর্ভিক্ষের সরকার। ১ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে খাওয়া হবে না ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা করাতে পারবো। তার দাবি এবার পরিবর্তন চাই। এখানে কাজ চাই। শিল্প চাই। আবার বিশাখাপত্তনমের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া পরিযায়ী শ্রমিক সুখদেব মাহাতোর বক্তব্য গত ১৫-১৬ বছর ধরে তিনি ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাচ্ছেন। তাঁর কাছে এটা ভাতা নয় - এটা ভাঁওতা। মানুষকে বোকা বানানো হচ্ছে। এই সরকারের ওপর ভরসা নেই। এখানে কাজ নেই। কিন্তু নেতাদের পকেটে টাকা ঢুকছে। আবার চেন্নাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া পরিযায়ী শ্রমিক সন্তোষ সিং’র বক্তব্য এখানে কাজ থাকলে বাইরে কেন যাব। এই জেলা থেকে এত লোক বাইরে চলে যাচ্ছে কিন্তু সে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কোন চিন্তা নেই। এসব ওনার গায়ে লাগে না। এখানে কাজ থাকলে বাবা-মা ভাই-বোন স্ত্রী সন্তানদের ছেড়ে কেউ কি আর বাইরে যেত। ওদের প্রত্যেকের কাছে যুবসাথী প্রকল্পটা গোটাটাই ভাঁওতা। সকলেরই দাবি এই জেলাতেই শিল্প হোক। এই জেলাতেই স্থায়ী কাজের ব্যবস্থা করা হোক।

Comments :0

Login to leave a comment