ক্রমাগত গাছ কাটার ফলে কমছে বৃষ্টিপাত, আর অবৈধভাবে বালি ও পাথর পাচারের কারণে পাহাড়ি নদীগুলি তাদের স্বাভাবিক গতিপথ ছেড়ে জঙ্গলের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। বারবার বন্যার কবলে পড়ছে বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণ। এমনই একাধিক উদ্বেগজনক সতর্কবার্তা উঠে এল জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন মাদারিহাটে অনুষ্ঠিত তিন দিনের নেচার ক্যাম্প থেকে।
জলপাইগুড়ি আনন্দ চন্দ্র কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে নেচার অ্যান্ড ট্রেকার্স’ ক্লাব অব জলপাইগুড়ির উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রকৃতি পাঠ শিবির শুক্রবার শেষ হয়। শিবিরে কলেজের ইকো ক্লাবের ৫০ জন ছাত্রছাত্রী, চার জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ক্লাবের আট জন ‘রিসোর্স পারসন‘ অংশগ্রহণ করেন।
এই নেচার ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারীরা মাদারিহাট সংলগ্ন জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে প্রত্যক্ষভাবে জানার সুযোগ পান। প্রকৃতি সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয় নানা আলোচনার মাধ্যমে। পাশাপাশি জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় নেচার ট্রেইল, স্থানীয় জনজাতিদের জীবনযাপন পর্যবেক্ষণ, স্টার ওয়াচিং, বার্ড ওয়াচিং, ফ্লোরা-ফনা স্টাডি এবং পলিউশন কন্ট্রোল সংক্রান্ত প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। প্রকৃতি বিষয়ক তথ্যচিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি জিপ লাইনের মতো এডভেঞ্চার অ্যাক্টিভিটিতেও অংশ নেন ছাত্রছাত্রীরা। শিবির শেষে জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় গারবেজ ক্লিনিং কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন তাঁরা।
ক্যাম্পে সাম্প্রতিক ডুয়ার্সের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জলদাপাড়ার বিভিন্ন এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে বন্যা নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের সতর্কতা ও পরিকল্পনা জরুরি, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। অবৈধ খনন ও বন উজাড় বন্ধ না হলে আগামী দিনে ডুয়ার্স অঞ্চলে আরও বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞরা।
কলেজের অধ্যক্ষ দেবাশিস দাস জানান, রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সহযোগিতায় ভবিষ্যতেও নেচার অ্যান্ড ট্রেকার্স’ ক্লাব অব জলপাইগুড়ির সঙ্গে যৌথভাবে এই ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানো হবে।
ক্লাবের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ভাস্কর দাস বলেন, প্রকৃতির মাঝে হাতে-কলমে যে শিক্ষা ছাত্রছাত্রীরা পায়, তা শুধু পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ায় না, তাদের ব্যক্তিত্ব বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এই উদ্যোগের জন্য তিনি আনন্দ চন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানান।
Madarihat Nature Park
মুনাফার লোভেই বিপর্যয়, জানছে মাদারিহাটে প্রকৃতির পাঠরত ছাত্রছাত্রীরা
×
Comments :0