বিশ্বজিৎ রায়: গাড়ুলিয়া ও কাচড়াপাড়া
আরএসএস’র মতাদর্শকে বাস্তবায়িত করছে বিজেপি। তৃণমূল এই রাজ্যে বিজেপি’র পরিপুরক হিসাবে কাজ করছে। দেশ ও রাজ্যে এক ভয়াবহ দুঃশাসন এর রাজত্ব কায়েম করেছে এই দুই দল। বাংলা বাঁচাতে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এই দুই দলকেই পরাস্ত করতে হবে। বামপন্থীদের জয়কে সুনিশ্চিত করতে হবে। রবিবার নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী গার্গী চ্যাটার্জীর সমর্থনে গাড়ুলিয়া লেনিননগরে এক সভায় কথগুলি বলেন, পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য নিলোৎপল বসু। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্টি নেতা সুবীর মৌলিক। এই সভায় এছাড়াও বক্তব্য রাখেন নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী গার্গী চ্যাটার্জী।
নিলোৎপল বসু বলেন, তৃণমূল এই রাজ্যে দুঃশাসনের রাজত্ব কায়েম করেছে। চুরি, দুর্নীতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। শিক্ষা, সাস্থ্য, কর্মসংস্থান এই রাজ্যে নেই। টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রি হয়েছে। সেই দুর্নীতির টাকা তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীদের পকেটে ঢুকেছে। দুর্নীতির দায়ে তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীরা জেলে গেছে। এই রাজ্যের অবস্থা এইরকম ছিল না। বামফ্রন্ট ৩৪ বছর এই রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল। মানুষের স্বার্থে কাজ করেছে। তখন মহিলাদের নিরাপত্তা ছিল। যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য বামফ্রন্ট কাজ করেছিল। গত পনেরো বছরে তৃণমূল এই রাজ্যটাকে ধংসের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে। বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে ভাগ করতে চাইছে। এসআইআরের নামে মানুষকে হেনস্থা করা হয়েছে। এই দুই দলকেই নির্বাচনে পরাস্ত করতে হবে। বামপন্থীরাই এই বাংলাকে বাঁচাতে পারে।
সিপিআই(এম) উওর চব্বিশ পরগনা জেলা কমিটির সম্পাদক পলাশ দাস বলেন, বাংলার ঐতিহ্য সংস্কৃতি সম্প্রীতি নষ্ট করে দিচ্ছে তৃণমূল ও বিজেপি। এই বাংলায় কাজ না পেয়ে ভিন রাজ্যে কাজের জন্য যুবকরা চলে যাচ্ছে। শিক্ষা নেই, স্বাস্থ্য নেই, কর্মসংস্থান নেই। এই বাংলাকে বাঁচাতে বামপন্থীদের জয়কে সুনিশ্চিত করতে হবে।
মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বামপন্থীদের জয়কে সুনিশ্চিত করতে হবে। একথা বলেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কনিনিকা ঘোষ। বীজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী দেবাশীষ রক্ষিতের সমর্থনে কাচড়াপাড়া সুজাতা ফার্মেসির সামনে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি কাচড়াপাড়া আঞ্চলিক কমিটির উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। কনিনিকা ঘোষ বলেন, এই রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা বলে কিছু নেই। গত পনেরো বছর ধরে এই রাজ্যে একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। খুন হয়েছে। একটিরও বিচার পায় নি। এখানে নারী নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত তৃণমূলের লোকজন। শাসকদল এদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। সোদপুর নাটাগড় এ অভয়া হাসপাতালে ভেতরে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। একজন ডাক্তার হাসপাতালের ভেতরে নিরাপত্তা নেই। সেই ঘটনায় জড়িত তৃণমূলের লোকজন। তারও বিচার পায় নি। একই অবস্থা বি জে পি শাসিত রাজ্যে। সেখানে উন্নাও,হাথরসের ঘটনা ঘটেছে। সেই পরিবারগুলো বিচার পায় নি। তৃণমূল ও বিজেপি’র মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এবারের নির্বাচনে তৃণমূল ও বিজেপিকে পরাস্ত করতে হবে। মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বামপন্থীদের জয়কে সুনিশ্চিত করতে হবে। সভায় বক্তব্য রাখেন বীজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী দেবাশীষ রক্ষিত সহ মহিলা নেতৃবৃন্দ।
Comments :0