লড়াইয়ের ঐতিহ্য নিয়েই ৯০ বছরে পা দিয়েছে সারা ভারত কৃষকসভা। অতীতের মতো আজও কৃষকসভার লড়াইয়ের অন্যতম উপাদান সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা।
সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা প্রকাশ কারাত।
সারা ভারত কৃষকসভা দেশজুড়ে সংগঠনের ৯০ বর্ষপূর্তি পালন করছে। কারাতকে এই সংগঠনের ঐতিহ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন, ‘‘কৃষকদের মূল স্বার্থগুলি সুরক্ষিত করার পক্ষে লড়াই জারি রেখেছে এই সংগঠন।’’
নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রে দ্বিতীয়বার সরকারের এসে তিন কৃষি বিল পাশ করে কেন্দ্র। তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে বছরভর চলে লড়াই। দিল্লির সেই লড়াইয়ের সংবাদ আবিশ্ব ছড়িয়েছিল। গড়ে উঠেছিল শতাধিক কৃষক ও খেতমজুর সংগঠনের মঞ্চ সংযুক্তি কিসান মোর্চা। সারা ভারত কৃষক সভা এই পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
কারাত বলেছেন, ‘‘কর্পোরেটের স্বার্থ কৃষিতে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিদেশি কর্পোরেটের স্বার্থ অনুযায়ী দেশের কৃষি ক্ষেত্রকে খুলে দিতে চাপ বাড়ছে। যার অন্যতম উদাহরণ ভারত-মার্কিণ বাণিজ্য সমঝোতা। এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে গুরুতর বিপদের মুখে পড়বেন ভারতের কৃষকরা। তার বিরুদ্ধে লড়াই জারি রেখেছে কৃষকসভা।’’
ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সমঝোতার যে কাঠামো প্রকাশিত হয়েছে তাতেই ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। দেশের কৃষি এবং ডেয়ারি ক্ষেত্রকে আমেরিকার বহুজাতিকের জন্য খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সরাসরি।
কারাত বলেছেন, ‘‘লড়াইয়ের হাত ধরেই ৯০ বছরে দেশের অন্যতম বৃহত্তম কৃষক সংগঠন হিসেবে গড়ে উঠেছে সারা ভারত কৃষক সভা।’’ তিনি বলেছেন, ‘‘স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় কৃষকসভার নেতৃত্বে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কৃষকরা সমবেত হয়েছিলেন। সাম্রাজ্যবাদ এবং সামন্ততন্ত্র- দুয়ের বিরুদ্ধেই লড়াই করেছে সংগঠিত কৃষক আন্দোলন। স্বাধীনতার পর ধারাবাহিকভাবে কৃষকসভা লড়াই করেছে জমি, ভূমি সংস্কার, ফসলের ন্যায্য দামের মতো দাবিতে।’’
Comments :0