প্রকাশ্যে জলাশয় ভরাট, বেআইনি বহুতল নির্মাণের প্রতিবাদ জানিয়েও কোনও সুরাহা পাননি বাঁকড়ার বাসিন্দারা। বারে বারে শাসক দলের স্থানীয় বিধায়ক থেকে শুরু করে বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীর কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও সদুত্তর মেলেনি স্থানীয়দের। নির্বাচনী প্রচারে শাসক দলের প্রার্থী এলাকায় এলে তাঁকে প্রশ্ন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার সদুত্তর না দিয়ে তিনি জানেন না বলে দায়ভার ঝেড়ে ফেলেন প্রার্থী। তাই গত মঙ্গলবার এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে সিপিআই(এম) প্রার্থী দুলু দাসকে পেয়ে নিজেদের ক্ষোভের কথা জানান স্থানীয়রা। তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেন বাম প্রার্থী।
ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রের বাঁকড়া ১, বাঁকুড়া ২ ও বাঁকড়া ৩ পঞ্চায়েত এলাকায় বসবাসকারী মানুষজন মূলত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধী দলের কোনও প্রার্থীদের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতে মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেসের মদতপুষ্ট দুস্কৃতীরা। বিরোধী শূণ্য পঞ্চায়েত গড়ে নিজেদের ইচ্ছামত তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত পরিচালিত করতে থাকে তৃণমূল কংগ্রেস। বাঁকড়া ৩ পঞ্চায়েত অফিসে ঢুকে প্রধানকে গুলি করতে দেখা যায় তৃণমূল কংগ্রেসের অপর গোষ্ঠীর লোকজনদের। বাঁকুড়া খান পাড়া থেকে কবর পাড়া পর্যন্ত দীর্ঘ একটি জলাশয় প্রকাশ্যে ভরাট হতে দেখেন স্থানীয়রা। অভিযোগ জানান হয় স্থানীয় বাঁকড়া ১ ও বাঁকড়া ২ পঞ্চায়েতের প্রধান, ডোমজুড় বিধানসভার বিধায়ক থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে। এলাকার লোকজন বারেবারে স্থানীয় বিধায়ককে জলাশয় ভরাট বন্ধ করার জন্য আবেদন জানান। স্থানীয়দের অভিযোগ তাদের আবেদনে কর্ণপাত করেননি বিধায়ক। অভিযোগ জানানো হলেও জলাশয় ভরাট হতেই থাকে। জলাশয় ভরাটের কথা স্বীকার করে বাঁকড়া ১ ও বাঁকড়া ২ পঞ্চায়েতের প্রধান জানান সরকারি নিয়ম না মেনে প্রকাশ্যে জলাশয় ভরাট করা হয়েছে। পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়ে জলাশয় ভরাট বন্ধ করার আবেদন জানানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ বর্তমানে ডোমজুড় কেন্দ্রে শাসক দলের প্রার্থী জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ। জলাশয় ভরাটের সমস্ত বিষয়ে তিনি জানতেন। শুধুমাত্র কাটমানি ও সিন্ডিকেটের জন্য তিনি কোনও ব্যবস্থা নেননি। বাধ্য হয়ে জলাশয় ভরাট আটকাতে রাস্তায় নেমে আন্দোলনে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাধ্য হয়ে জলাশয় ভরাটের কাজ বন্ধ করা হয়। নির্বাচনের পর আবার যদি জলাশয় ভরাটের কাজ শুরু হয় সেই ভেবেই আতঙ্কিত বাঁকড়াবাসী।
ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে নিশ্চিন্দা, দুর্গাপুর অভয়নগর ১ ও ২, বালি, সাঁপুইপাড়া, চক পাড়া আনন্দনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষের মূল সমস্যা নিকাশি ও পানীয় জল। তৃণমূল কংগ্রেস জোর করে মানুষের মতামতকে অগ্রাহ্য করে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে পঞ্চায়েত দখল করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান গত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে শাসক দলের পক্ষ থেকে সমস্যা সমাধানের জন্য মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সাংসদ, বিধায়ক থেকে শুরু করে শাসক দলের পঞ্চায়েত সদস্যরা স্থানীয় মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেন নি বরং স্থানীয় পঞ্চায়েতের সহযোগিতায় এলাকায় বেআইনি বহুতল নির্মাণ বেড়েছে। ফলে নতুন করে আরো গভীর হয়েছে নিকাশির সমস্যা। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার জমা জল মানুষের বসবাসের ঘরে ঠুকে যাচ্ছে। সমস্যা সমাধানে কোনও উদ্যোগ নেই স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে বিধায়কের। এবার জবাব নেবার পালা বলে জানান স্থানীয়রা। শাসক দলের প্রার্থীর কাছে জবাব চাইছেন বাসিন্দারা। নির্বাচনী প্রচারে এলাকায় গেলে সিপিআই(এম) প্রার্থী দুলু দাসকে নিজেদের ক্ষোভের কথা বলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের পাশে থাকার বার্তা দেন বাম প্রার্থী।
Comments :0