এই বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সম্প্রীতি, তার ইতিহাস বোধ থেকে বাংলার যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারের শপথ নিচ্ছি।
বুধবার, বাংলা নবর্বষের শুভেচ্ছা জানিয়ে এ কথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, বাংলার সংস্কৃতি-শিক্ষাকে বাঁচাতে আমাদের আরও বেশি প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
এদিন কলকাতায় মুজফ্ফর আহম্দ ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন সেলিম। তিনি বলেছেন, বিধানসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমাদের কর্মীরা ধাপে ধাপে প্রচার সংগঠিত করেছেন। মাঠে ময়দানে চা-বাগানে, কলে কারখানায় তাঁরা যাচ্ছেন। কাজ, শিল্প, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, পথঘাট, নদী, সড়ক, সেতু, জলাশয় রক্ষার জন্য লড়াই করছেন তাঁরা।
সেলিম বলেন, নদী থেকে অবৈধ বালি খননে কেবল মৎস্যজীবীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, মাছও ধ্বংস হচ্ছে। বাংলার বীজ বৈচিত্র বাঁচিয়ে রাখার শপথ নিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, এরা আমাদের দেশে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র তৈরি করতে চায়। তিনি বলেন, এখানে এমন ব্যবস্থা হচ্ছে যে ভোট হবে বা ভোট গ্রহণ হবে। কিন্তু ভোটার তালিকা তৈরি থেকে ভোট প্রক্রিয়া, সবটাই জালিয়াতি আর চাতুরির মাধ্যমে পরিচালিত হবে। সেখানে নির্দিষ্ট ভাষা, ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র তৈরির প্রয়াস স্পষ্ট।
সেলিম বলেন, বিশ্বায়নে আমরা দেখেছি নিজস্ব ভাষা, জীবনশৈলী, সংস্কৃতি প্রতিদিন লুপ্ত হচ্ছে। আজকে ভারতে আরএসএস পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারের প্রয়াসই হচ্ছে হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তান ভাবধারাকে গড়ে তোলার জন্য ধর্মাশ্রিত রাজনীতিকে ব্যবহার করে ভাষারও সর্বনাশ করা হচ্ছে।
সেলিম বলেন, আমাদের খাদ্যাভ্যাস, মিলনধর্মী সংস্কৃতিকেও ধ্বংস করতে উদ্যত হয়েছে। বিজেপি’র দ্বিচারিতায় ধিক্কার জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটের বাজারে তামাশা করার জন্য হাতে মাছ নিয়ে ঘুরছে। যারা মাছ খাওয়া বন্ধ করতে চায়, গুজরাটে নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি সাংসদ পরেশ রাওয়াল বক্তৃতা করেছিলেন যে বাড়ির পাশে মাছ ভাজার গন্ধ কী সহ্য করা যায়? তার মানে বাঙালিদের যাতে ঘর ভাড়া দেওয়া না হয়। এখন চাপে পড়ে পশ্চিমবঙ্গে বাজার থেকে মাছ কিনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এরা গোমাংস বা গোরু পাচারকারী বলে সংখ্যালঘুদের খুন করে। আবার তারাই গোয়া বা মেঘালয়ে উন্নতমানের গোমাংস খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটে প্রচার চালায়।
সেলিম মনে করিয়েছেন যে গোমাংস রপ্তানিকারীরাই বিজেপি’র জন্য সবচেয়ে বেশি নির্বাচনী বন্ড কিনেছে। দেশে মাংস রপ্তানি বেড়েছে। অথচ দেশের কোনও মানুষ সস্তায় প্রোটিন কিনে খেলে তা বন্ধ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পয়লা বৈশাখ হালখাতা করি। এই দুই শব্দের মধ্যেই সমন্বয় ধরা পড়ে। ফারসি শব্দ ‘পহেলা‘, ‘তারিখ‘ ভাষায় মিশে গিয়েছে। মিশ্র সংস্কৃতি উদাহরণ। বঙ্গাব্দ নিয়ে আমাদের গর্ব আছে। বাংলা মাসের কোন তারিখ বলতে হয়। আরএসএস প্রথম দিন থেকে কাল্পনিক হিন্দুবর্ষ বলে মনে করে, সেভাবেই চালু করতে চায়। এখন ভোট আছে বলে বাঙালিয়ানা দেখাচ্ছে। সেলিম, বাংলাকে বাঁচাতে বাংলার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার শপথ আমাদের নিতে হবে। আমাদের শান্তির জন্য, সমৃদ্ধির জন্য উন্নয়নের জন্য। শপথ হোক ১৪৩৩ সন বাংলার পুনরুজ্জীবনের জন্য বামপন্থার পুনরুত্থান যাতে ঘটাতে পারি।
তিনি বলেন, উত্তর প্রদেশের নয়ডায় ন্যূনতম বেতনের জন্য শ্রমিকরা যখন আন্দোলন করে তখন তাদের ওপর নির্মম প্রহার নামিয়ে আনা হচ্ছে। শ্রমিকদের ওপর ধরপাকড় করতে হচ্ছে। আর উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এরাজ্যে এসে বক্তৃতা করছেন।
সেলিম বলেন, বুলডোজার রাজনীতিতে প্রথমে প্রতিবাদীদের ঘরবাড়ি ভাঙা হয়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্যে। এখন গুজরাটে মল তৈরির জন্য ছোট ছোট দোকানঘর ভাঙা হচ্ছে। যারা মনে করেছিলেন যে বুলডোজার চালানো হচ্ছে কোনও একটি সম্প্রদায়ের ওপর এখন দেখছেন সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার ওপরও চলছে বুলডোজার। তিনি বলেন, মমতা ব্যানার্জির জন্য এরাজ্যে বিজেপি ছড়াতে পেরেছে। সেখান থেকে তাদের উৎখাত করা হোক। আর যিনি ডেকে নিয়ে এসেছেন তাঁর উৎখাতের মধ্যে দিয়েই বাংলাকে বাঁচানো যাবে। তাঁকে মসনদ থেকে হটিয়ে বাংলাকে বাঁচানোর শপথ আমদৃর নিতে হবে। না হলে বাংলা বাঁচবে না। বাংলা না বাঁচলে দেশও বাঁচবে না।
এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ভোট নষ্ট’ বলে কিছু হয় না। প্রতিটি ভোটই মূল্যবান, তা যাকেই সমর্থন জানান। প্রতিটি ভোটেরই সমান মূল্য। এই প্রচার বামপন্থীদের বিরুদ্ধে করছে তৃণমুল এবং বিজেপি। তারা দুই শক্তি মিলে আছে বামপন্থীদের বিরুদ্ধে। এ থেকে বোঝা যায় যে এই দুই শক্তিই বামপন্থীদের ভয় পাচ্ছে।
Comments :0