assembly 2026 jhargram

'কাজ না দিয়ে কেবল অনুদান দিয়ে স্বনির্ভর করা যায় না' ঝাড়গ্রামে শ্রীদীপ ভট্টাচার্য

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম কেন্দ্রে সিপিআইএম প্রার্থী ডা পুলিন বিহারী বাস্কে-এর সমর্থনে বালিগেড়িয়াতে প্রচার মিছিল এ শ্রীদীপ ভট্টাচার্য সহ নেতৃত্ব|

মূল্য বৃদ্ধির বাজারে, কর্মসংস্থান না করে কেবল মাত্র অনুদান দিয়ে স্বনির্ভর করা যায় না। চাই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উন্নতিসাধনে সমবায়, বনাঞ্চলের ল্যাম্পস গুলির উন্নতি সাধন। পাশাপাশি বনাধিকার আইন কার্যকর করা। বনভূমির রসদের উপর গ্রামের মানুষের আইনি অধিকার। এর জন্য বাম শক্তির উত্থান ঘটাতে হবে। এমন আহ্বান জানালেন পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য শ্রীদীপ ভট্টাচার্য। ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম কেন্দ্রে সিপিআই(এম) প্রার্থী ডা.পুলিন বিহারী বাস্কে-এর সমর্থনে সকালে বালিগেড়িয়াতে এবং বিকালে আমর্দা বাজারে দুই প্রচার মিছিল সহ সভা হয়। দুই সভাতে বক্তব্য রাখা সহ মিছিলে অংশগ্রহন করেন শ্রীদীপ ভট্টাচার্য সহ ওড়িস্যা রাজ্যের ময়ূরভঞ্জ জেলার পার্টির জেলা সম্পাদক মূত্যুঞ্জয় বেহেরা এবং ঝাড়খন্ড রাজ্যের সিংভূম জেলার পার্টির সম্পাদক স্বপন মাহাত সহ পার্টির ঝাড়গ্রাম জেলা সম্পাদক প্রদীপ সরকার প্রমুখ।

শ্রীদীপ ভট্টাচার্য বলেন, দুই দক্ষিনপন্থী শক্তি কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও রাজ্যের তৃণমূল সরকার কর্পোরেট বেনিয়া পুঁজিপতিদের স্বার্থ রক্ষার দালালি যেমন করছে তেমনি এরাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস জঙ্গলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে একদিকে জঙ্গলমহলের গরীব মানুষের রুটি রুজির সংকট নামিয়ে এনেছেন। আর এই লুঠের রাজত্ব চালাতে বিভাজনের রাজনীতিতে ধর্মীয় ও জাতি সত্তার নামে জঙ্গলমহলের আদিবাসী ও ভূমিজ সহ নানান জনজাতির মধ্যে গোষ্ঠীর রাজনীতির আমদানি করা হয়েছে। এতে রুটি রুজির সংকটের মূল দাবী আড়াল করা হয়েছে যেমন, তেমনি বনভূমির ভেষজ তুলসি, বাসব, সিঙ্কোনা ও বনজ কেন্দুপাতা, বাবুইঘাস ফড়েদের মাধ্যমে লুঠের স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলা হয়েছে। এবিষয়ে জনজাতির মধ্যে তুলে ধরে মানুষকে রুটি রুজির সংকট মোকাবিলার দাবীতে সামিল করতে হবে।
প্রদীপ সরকার বলেন, বনভূমি লুঠের পাশাপাশি সুবর্ণরেখা ও কাঁসাই নদীর বালি লুঠের কারণে ভাঙনে জেলার দেড় হাজারের অধিক মৌজা আজ ক্ষতিগ্রস্ত। পানীয় জলের তীব্র সংকট  জলের স্তর প্রতিবছর নেমে যাওয়ার কারনে। অবিলম্বে ভষরাঘাটে ব্যারেজ তৈরী না হলে অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার ২২ টি ব্লক শুকিয়ে বিপর্যয় নামিয়ে আনবে। জঙ্গলের অধিকার কেড়ে নেওয়া সহ লুঠের কারনে খাদ্য রসদে সংকোট আজ বনভূমিতে। গত তিন বছর একশ দিনের কাজ নেই। কাজের আকালে মাত্র ৭ টি ব্লক নিয়ে গঠিত ঝাড়গ্রাম জেলায় ৩৩ হাজার অধিক পরিযায়ী  শ্রমিকের গড় হয়েছে। বামফ্রন্ট আমলের বনাধিকার গ্রাম রক্ষ্মী বাহিনীর অস্তিত্ব নষ্ট করে তাদের বঞ্চিত করা  চলছে। এর প্রতিকারে বনাধিকার আইন ২০০৬ লাগু করার দাবিতে সরব হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রার্থী পুলিন বিহারী বাস্কে বলেন, গরীব মানুষের পাট্টা বর্গা জমি নকল দলিলে লুঠ করেছে তৃণমূল ও বিজেপি দুই দলের জমি হাঙরের সিন্ডিকেট বাহিনী। এরাই বালি জঙ্গল লুঠ করে সেই টাকায় প্রয়োজন মতো লোকসভা ও বিধানসভা ভোটে দুই শাসকের হয়ে ভোট পরিচালনা করে। বনআইন আজ ২০ বছর কেন লাগু করা হলো না তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারই দায়ী। অপরদিকে বনভূমিতে বসবাসকারী লোধা শবর সহ আদিবাসী জনজাতির জমির পাট্টা না পাওয়ায় সরকারি আবাস যোজনা, কৃষি বীমা, কৃষক বন্ধু প্রভৃতি যোজনা থেকে তারা আজও বঞ্চিত। এর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই আরও শক্তিশালী করতে বামপ্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানান। দুটি সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্টি নেতা প্রসান্ত দাস।

Comments :0

Login to leave a comment