SFI DYFI

মেদিনীপুরের দাসপুরে উত্তরাধিকার পদযাত্রা ছাত্র-যুবদের

জেলা

ঐতিহাসিক ১২ জানুয়ারী এই তারিখে ১৯৩৩ সালে ফাঁসির মঞ্চে শহিদ হয়েছিলেন দাসপুরের গোকুলনগরের বিপ্লবী প্রদ্যোত ভট্টাচার্য। তার ঠিক এক বছর পরে এই তারিখে শহিদের মৃত্যু হয় মাস্টারদা সূর্য সেন ও তারকেশ্বর দস্তিদার। এমন ঐতিহাসিক দিনে তারুণ্যের জোয়ারে পশ্চিম মেদিনীপুরে দাসপুরের শহীদ বিপ্লবী প্রদ্যুৎ ভট্টাচার্যের জন্মভিটা গোকুলনগর থেকে বিপ্লবী প্রভাংশু শেখর পালের জন্মভুমি খাঞ্জাপুর পর্যন্ত দীর্ঘ  ১৯ কিমি পথে উত্তরাধিকার পদযাত্রা এবং বিকালে সমাবেশ সংগঠিত হলো ছাত্র-যুবদের। গ্রামের মেঠো ও সংকীর্ণ পথে যৌবনের ঢল, যাত্রাপথে একাধিক মোড়ে দাসপুরের ১৫ জন শহিদের তোরণ সহ ১০৩ জন স্বাধীনতা সংগ্রামীর ব্রিটিশের জেল খানায় অত্যাচারের কাহিনীর ইতিহাস তুলে ধরে পথ যাত্রীদের সম্বর্ধনাতে মানুষের ঢল প্রকৃত স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার শপথে। পদযাত্রা শেষে খাঞ্জাপুরে হয় সমাবেশ।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এসএফআই সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদক ধ্রুৱজ্যোতি সাহা। এসএফআই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক রনিত বেরা, ডিওয়াইএফআই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক সুমিত অধিকারী। উত্তরাধিকার যাত্রা সহ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এসএফআই রাজ্য সভাপতি প্রনয় কার্য্যী, ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য সপ্তর্ষি দেব সহ নেতৃবৃন্দ। পদযাত্রায় সামিল হোন জেলার প্রাক্তন ছাত্র-যুব সংগঠেন জেলা নেতৃবৃন্দ।  

সেই সমাবেশে বক্তব্য রাখেগে গিয়ে এসএফআই'র সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলন ও দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলা যে ভাবে ব্রিটিশকে ভূগিয়েছে এখন সেই ব্রিটিশের দালালি করা বর্তমানে সাম্রাজ্যবাদের দোষর ও কর্পোরেটের দালাল বিজেপি এবং তার সহকারী ও অনুগত শক্তি তৃণমূলকেও বাংলার মানুষ এবার ভূগিয়ে ছাড়বে। মুখে দেশভক্ত আর কাজে দেশের সম্পদ লুঠেরাদের সপে দেওয়ার দালালি করা আরএসএস-বিজেপি আর তাদের নীতিকে কার্যকর করা তৃণমূল কংগ্রেস, আমাদের দেশপ্রেম শিখাবে সেই পাঠশালার ছাত্র আমরা নই। আমাদের লক্ষ্য পথ রয়েছে ভগত সিং, ক্ষুদিরাম বোস, মাস্টারদা সূর্য সেন, তারকেশ্বর দস্তিদার সহ এমন শতশত স্বাধীনতা সংগ্রামী শহিদদের আত্মত্যাগের ও শোষন বৈষম্য বঞ্চনা হীন সমাজ গড়ার স্বপ্নের স্বাধীন ভারত বর্ষের।  রয়েছে স্বাধীনতা আন্দোলনের বীর যোদ্ধা ও মেদিনীপুর মাটির লড়াইয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বাহি শহিদ বিপ্লবী ও শতশত স্বাধীনতা সংগ্রামীর আত্মত্যাগের অনুপ্রেরণা।
সৃজন বলেন,  বিজেপি আরএসএস এর কাছে বাংলা সব থেকে বড় সমস্যা। বিজেপি আরএসএস যেভাবে দেশটাকে পিছনের দিকে নিয়ে যেতে চায় বাংলা সব সময় তার উল্টো পথে হেঁটেছে। 
স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যখন তিহার জেলে ইলেক্ট্রক শক সহকারে অত্যাচার চলছে তখন বিজেপির বীরপুরুষ সাভারকার ৫ বার মুচলেখা দিয়ে ব্রিটিশের দালালি করার পথ বেছে নিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের পিছনে ছুরি মেরেছে। গান্ধী হত্যাকারী নাথুরাম গডসে ওদের ভগবান ওদের কাছে তাই আমরা দেশদ্রোহী।  এই ভাবে কড়া ভাষায় সমালোচনা করলেন আর এস এস বিজেপির ধর্মীয় জিগিরে দাঙ্গা লাগানো ও বিভাজনের রাজনীতিতে রুটি রুজির সংকোটকে আড়াল করার কর্মসূচীকে।

সমাবেশে ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদক ধ্রুপজ্যোতি সাহা তার বক্তব্যে তুলে ধরে বলেন, “দাসপুরের যে মাটি প্রদ্যুৎ ভট্টাচার্য, প্রভাংশু শেখর পাল, মৃগেন ভট্টাচার্য, মোহিনী মন্ডল, ক্ষুদিরামের মাটি, সেই মাটিকে বার বার অপমান করেছে বিজেপি আরএসএস। বাংলাকে বাঁচানোর এই লড়াই শুধু এসএফআই, ডিওয়াইএফআই এক লড়তে পারবে না, এর জন্য সর্বস্তরের আপামর বাঙালিকে এই লড়াইয়ে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য সামিল হওয়ার আহ্বান জানান। যে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আজ গোটা পৃথিবীটাকে দখল করার চেষ্টা করছে, সেই লড়াই বাঙালি ও দেশের মানুষকে লড়তে হচ্ছে। কারণ এই পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ভারতটাকেও দখল করার চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধেই বামপন্থীদের প্রতিনিয়ত লড়াই। এ লড়াই দেশ শিক্ষা সংবিধান ইতিহাস বাঁচানোর লড়াই। কিন্তু বিজেপি আরএসএসের এই চক্রান্ত কোনও দিন সফল হবে না যতদিন দেশের মাটিতে এসএফআই- ডিওয়াইএফআই রয়েছে।”
 

Comments :0

Login to leave a comment