পূর্ব মেদিনীপুর জেলার শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে দীর্ঘদিন ধরে কাঁথি পৌরসভা শাসনের ছিলেন অধিকারী পরিবার। পিতা পুত্র সকলেই সময়ে সময়ে কাঁথি পৌরসভা কাউন্সিলর চেয়ারম্যান ছিলেন। গত পৌরসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বিভিন্ন ওয়ার্ডে ছাপ্পা বুথ দখল বাইর থেকে দুষ্কৃতীদের আনিয়ে পৌরো বোর্ড দখল করেছে। সেই সময় সিপিআই(এম) প্রার্থী এবং পোলিং এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেয়া এবং তাদের উপর আক্রমণ চালিয়েছিল তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। নেতৃত্বে ছিল বর্তমান পৌরসভার চেয়ারম্যান অখিলপুত্র সুপ্রকাশ গিরি। তৎকালীন সময়ে একের পর এক বুথে বাইক বাহিনী ছাপ্পা মারে। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ - ৭ টা বাইক বাহিনী ছাপ্পা মারতে গেলেই এলাকার মহিলারা বঁটি ,কাটারি নিয়ে দুষ্কৃতীদের তাড়া করলে বাইক ফেলে প্রাণ ভরে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। সেই সময় পুলিশ বাইকগুলো উদ্ধার করলেও এখনও পর্যন্ত তার কোন কিনারা করতে পারেনি। বিগত পৌর নির্বাচনে কাঁথি পুরসভার ২১ টি ওয়ার্ডে একজন নির্দল প্রার্থী জিতে ছিলেন। পরে তিনি তৃণমূলে যোগদান করেন। ১৭ জন কাউন্সিলর এক প্রকার ছাপ্পর জোরে নির্বাচিত হয়েছিলেন। রাজ্যে পালা বদলের পর এরূপ অভিযোগ এখন কাঁথি শহরের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। ১৭ ,১৮ নম্বর সহ তিনটি ওয়ার্ডে ওই সময় বিজেপি কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পরবর্তীকালে একটি বিদ্যালয়ের সামাজিক অনুষ্ঠানে শিশির অধিকারীর উপস্থিত ছিলেন। ওই বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে তৎকালীন তৃণমূল কাউন্সিলর সুবল মান্না অনুষ্ঠানের সভামঞ্চে গুরুদেব বলে সম্ভাষণ করে শিশির অধিকারী কে প্রণাম করার অপরাধে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। সুবল মান্নার চেয়ারম্যান পদ যায়। পরবর্তীকালে সুবল মান্না বিজেপিতে যোগদান করেন।
বর্তমানে কাঁথি পৌরসভার ১৩ জন তৃণমূল কাউন্সিলর কাঁথি মহাকুমার শাসকের কাছে তাদের পদত্যাগ পত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে সূত্রে জানা গেছে।
কাঁথি পৌরসভা বিজেপি নেতৃত্ব ও কাউন্সিলর সুশীল দাস জানান, বিজেপির তরফ থেকে কাউকেই পদত্যাগ করার চাপ সৃষ্টি বা ভয়-ভীতি দেখানো হয়নি। বরং পৌরসভা চালানোর ক্ষেত্রে কোন যোগ্যতাই তৃণমূল বোর্ডের নেই। কাঁথি শহরে গুঞ্জন অতিরিক্ত দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে আগেভাগে কাউন্সিলাররা পদত্যাগ করে নিজেদের পিঠ বাঁচাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের বর্তমান সমস্যা কাঁথি পৌরসভাতে চেয়ারম্যান সহ কোন কাউন্সিলর না যাওয়াতে সাধারণের পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেছে।
Kanthi Municipality
কাঁথি পৌরসভায় পদত্যাগের হিড়িক
×
Comments :0