হিন্দমোটরে ছাত্রীর দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা সামনে এসেছে। পুলিশ ধামাচাপা দেওয়ার কাজই করছে। গোটা বাংলার মানুষ জহ্লাদদের পাল্লায় পড়েছে।
শনিবার হিন্দমোটর প্রসঙ্গে এই প্রতিক্রিয়া সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর। তিনি বলেন রাজ্যজুড়ে মানুষ প্রতিবাদ করবেন।
গত শুক্রবারে ঘটনা সামনে আসার পরই বিক্ষোভে নামেন এলাকার ছাত্র-যুব-মহিলারা। শনিবারও হয়েছে বিক্ষোভ।
চক্রবর্তী বলেন, কার্যত তুলে নিয়ে গিয়ে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় মানুষ এবং বামপন্থী ছাত্র যুব ও মহিলা সংগঠন দোষীদের শাস্তির দাবিতে থানা ঘেরাও করেছে। পুলিশের ভূমিকা আগে কিছুই ছিল না। শেষমেষ পুলিশ বাধ্য হয়েছে একজনকে গ্রেপ্তার করতে। বাকিদের এখনো ধরেনি কারণ সে স্থানীয় তৃণমূলের নেতা। পুলিশ ধামাচাপা দেওয়ার কাজই করছে। গোটা বাংলার মানুষ জহ্লাদদের পাল্লায় পড়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, গোটা রাজ্যজুড়ে মানুষের প্রতিবাদ করবেই। তৃণমূল বিজেপি যতই নাটকবাজি করুক। বিপন্ন মানুষের পাশে বামপন্থীরাই রয়েছে। এরপরও যদি পুলিশ যথাসাধ্য ব্যবস্থা না নেয় দোষীদের যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেয় তাহলে আন্দোলনের তীব্রতা বাড়বে।
সংবাদমাধ্যম এদিন প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সপর নিয়ে প্রশ্ন করে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরে আসছেন সভা করতে। এই সিঙ্গুরের মাটিতেই শিল্প করতে বামফ্রন্ট সরকারকে বাধা দিয়েছিল তৃণমূল আর সেই তৃণমূলের তৎকালীন সঙ্গী হয়েছিল বিজেপির নেতারা। সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী এলে তার উচিত সেই ধর্ণার সময়ের রাজনাথ সিং ও মমতা ব্যানার্জির ছবিটা পোস্টার করে ছাপিয়ে নিয়ে আসা। বাংলা শিল্প ধ্বংস করার পিছনে মমতা ব্যানার্জির পাশাপাশি তৎকালীন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সমানভাবে দায়ী।
তিনি বলেছেন, আসলে এখান থেকে শিল্প তুলে নিয়ে গিয়ে গুজরাটে মোদিকে উপহার হিসেবে শিল্প তুলে দিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। রাজ্যের যুবকদের স্বপ্নকে ধ্বংস করে মোদীজি কে উপহার পাঠিয়েছিলেন। বাংলাকে ধ্বংস করার নায়িকা যদি মমতা ব্যানার্জি হন তাহলে নায়ক রাজনাথ সিং সহ বিজেপির সব নেতারা।
উন্নয়নের পাঁচালী প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে সুজন চক্রবর্তী বলেন, আসলে সাধারণ মানুষ স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছেন না কী উন্নয়ন হয়েছে। ওই কারণেই পাঁচালী করে প্রচার করতে হচ্ছে। উন্নয়নের কাজ করতে পারেননি বলেই উন্নয়নের পাঁচালী গেয়ে ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এদিন পানিহাটি আগরপাড়া অঞ্চলে ইউসিআরসি’র রাজ্য সম্মেলনে যোগ দিতে যান চক্রবর্তী। কামারহাটি শিল্পাঞ্চলেই পরপর পাঁচটিরও বেশি জুট মিল বন্ধ হয়েছে। কয়েকদিন আগেই প্রবর্তক জুট মিলও বন্ধ হয়েছে। রাস্তায় নেমেছে সিআইটিইউ। এই প্রসঙ্গে চক্রবর্তীর এদিন বলেন, "এই ঘটনায় সরকারের কোন হেলদোল নেই। স্থানীয় বিধায়ক, সাংসদ চুপ হয়ে রয়েছেন। শ্রমিকদের দাবিদাওয়াকে সামনে রেখে লড়াই করে যাচ্ছে সিআইটিইউ। জুট মিল বন্ধে বিধায়ক সাংসদদের পাওয়া না গেলে ভোটের সময় মানুষও এদের সমর্থন করবেন না।
আইপ্যাকের দপ্তরে ইডি তদন্ত সংক্রান্ত এক প্রশ্নে তিনি বলেন, এর আগে চিটফান্ডের কেলেঙ্কারির প্রায় ১৪ বছর হয়ে গেল, নারদ কান্ডের দশ বছর হয়ে গিয়েছে, কিছুই হয়নি। গরু চুরি কয়লা চুরি পাথর চুরি চাকরি চুরি সহ একাধিক দুর্নীতির ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থান কোন বিশেষ হেলদোল নেই। প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসে শুধু ভাষণ দিচ্ছেন যে 'দেখে নেব' 'জেলে পুরে দেব'। যতই ভাষণ দিক পরিষ্কারভাবেই বোঝা যাচ্ছে মোদী এবং দিদি সেটিং করে দু’জনে দু’জনকে বাঁচিয়ে রেখেই চলছেন।
Comments :0