West Bengal Assembly Election

মনোনয়ন বাতিল কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থ

রাজ্য জেলা

বাতিল হয়ে গেল কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অভিনব ভট্টাচার্যের মনোনয়নপত্র। প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদারের পুত্র অভিনব ভট্টাচার্য কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হন। প্রার্থী ঘোষণার আগের দিন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলের যোগদান করেন। পেশায় ঠিকাদার নাম ঘোষণার পর থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রচারে। পার্থী পদ পাওয়া থেকে, বিগত দু'বছর ধরে এই বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটা ক্লাব বারোয়ারি সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তার অর্থ ব্যায়ের কথা কারোর অজানা নয়। প্রার্থী হবার পর, পার্থী পদ পেতে মোটা টাকার লেনদেন হয়েছে বলেও সাধারণের আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু শেষ পর্যায়ে দেখা যায় সাংসদ তথা নদীয়া জেলার উত্তর সাংগঠনিক কেন্দ্রের সভানেত্রী মহুয়া মৈত্রের একান্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত,কৃষ্ণনগরেরই এক আইনজীবী সোমনাথ দত্ত কার্যত লুকোচুরির মধ্যে দিয়ে তাঁর মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। স্ক্রুটিনি শেষে আইনি জটের কারণকে প্রচারে এনে অভিনব ভট্টাচার্যের জায়গায় তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বার স্বীকৃতি পায় সোমনাথ দত্ত। সাধারণের মধ্যে হাজারও প্রশ্ন ইতোমধ্যেই কেন্দ্রজুড়ে গুঞ্জনে শোনা যাচ্ছে। আইনিজটের যে ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে, সে বিষয়ে অজ্ঞ থাকার থিওরি, এক কথায় অবিশ্বাসজনক বলেই সাধারণের অভিমত। অন্যদিকে গোপনে সোমনাথ দত্তের মনোনয়নপত্র দাখিল যে কাজও পূর্ব পরিকল্পিত ছাড়া কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সম্ভব নই। এমনকি নতুন প্রার্থীর নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই প্রায় সোমনাথ দত্তের নামে পোস্টার শাটার কাজ শুরু হয়ে গেছে গোটা কেন্দ্রে। প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক চরিত্রের তরুণ অভিনব ভট্টাচার্যের অর্থের সাথেই কি অনৈতিক ভূমিকা পালন করে, কৃষ্ণনগর বিধানসভা কেন্দ্রে বিগত লোকসভা নির্বাচনে পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি হারকে চ্যালেঞ্জ নিয়েই মহুয়া মৈত্র তাঁর ক্ষমতার ব্যবহার করলেন সুপরিকল্পিত ভাবে! উল্লেখ্য বিগত পৌরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্দল প্রার্থীর কাছে পরাজিত হওয়া এই সোমনাথ দত্তকে নিরব মহুয়া মৈত্র ব্যক্তিগত ঈর্ষা এবং আর্থিক লাভ লোকশনের খতিয়ান মেনেই সুপরিকল্পিতভাবে অভিনব ভট্টাচার্যের মতো অর্থবান মানুষকে আর্থিকভাবে ব্যবহার করে মানসিকভাবে হত্যা করলেন নাকি? শহর তথা গোটা বিধানসভা জুড়ে চলছে তারই জোর জল্পনা।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বিজেপির প্রার্থী নিয়েও দলীয় স্তরে কর্মী সমর্থক সংগঠকদের ক্ষোভের প্রতিফলনের একাধিক ঘটনা দেখা গেছে। প্রশ্ন উঠছে, বিজেপির সঙ্গে কোন গোপন আর্থিক বোঝাপড়ার খেসারথ দিতে হলো না তো, কোটি কোটি টাকা অর্থ ব্যায়ের পর প্রার্থী পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো।
বিজেপির প্রার্থীকে নিয়ে অভিনব ভট্টাচার্যের জয়ের প্রশ্নে যে আলোচনা উঠে এসেছিল জনমানুষের আলোচনায়, তাকে কেন্দ্র করেই কি বিজেপির সাথে আরও মোটা অংকের অর্থের লেনদেন সম্পন্ন হয়ে গেছে, প্রশ্ন উঠছে এমনও! তাঁর প্রার্থী পদ বাদ পড়ার বিষয়ে প্রশাসনিক সূত্রে যে খবর পাওয়া গেছে , তা হলো রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক চুক্তি থাকা সংক্রান্ত জটিলতায় জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৯-এ ধারার ভিত্তিতে রিটার্নিং অফিসার তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ বিষয়ে কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র জানান, “ নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই তাঁর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। সোমনাথ দত্তই এবার তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে ওই কেন্দ্র থেকে লড়বেন। তাঁর বক্তব্য অনেকটা পথ এগিয়ে দিয়েছেন অভিনব, বাকি পথ শেষ করবেন সোমনাথ।

Comments :0

Login to leave a comment