রাজস্থানের সালুম্বার জেলায় এনসেফালাইটিসে আক্রান্ত হয়ে পরপর মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে স্বাস্থ্য দফতর এবং জেলা প্রশাসনের তরফে আক্রান্ত গ্রাম ও সংলগ্ন অঞ্চলে সতর্কতা জারি করেছে।
গত কয়েকদিনে সালুম্বারের লাসাদিয়া ব্লকের ঘাটা এবং লালপুরা গ্রামে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মৃত শিশুদের প্রত্যেকের মধ্যেই বমি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, প্রচণ্ড জ্বর এবং অসংলগ্ন আচরণের মতো উপসর্গ দেখা গিয়েছিল।
মৃত দীপক ও লক্ষ্মণের কাকা নানুরাম জানান, গত ৩১ মার্চ রাতে দীপকের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। পরিবার তাকে প্রথমে ধরিয়াওয়াদের একটি হেলথ সেন্টারে এবং পরে প্রতাপগড়ে নিয়ে যায়। এরপর উদয়পুরে নিয়ে যাওয়ার পথে ১ এপ্রিল দীপকের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, ৫ এপ্রিল লক্ষ্মণের প্রচণ্ড জ্বর ও বমি শুরু হলে তাকেও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় এবং পরে সে মারা যায়। সীমার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। কাজলের বাবা প্রকাশ মীনা এবং রাহুলের বাবা লক্ষ্মণ জানিয়েছেন, ৫ এপ্রিল সকালে তাদের সন্তানদেরও প্রচণ্ড জ্বর ও বমি শুরু হয়। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘোরার পর সেদিন বিকেলের মধ্যেই তাদের মৃত্যু হয়।
সালুম্বারের জেলাশাসক মহম্মদ জুনায়েদ জানিয়েছেন, উপসর্গগুলি কোনও ধরনের এনসেফালাইটিসের দিকেই ইঙ্গিত করছে। উদয়পুর মেডিক্যাল কলেজের প্রতিনিধি দলের মতে, এটি ভাইরাল এনসেফালাইটিসের ঘটনা হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এটি 'চান্দিপুরা' ভাইরাসের কোনও ভ্যারিয়েন্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজিতে (NIV) নমুনা পাঠানো হয়েছে, সেখান থেকে চূড়ান্ত রিপোর্ট এলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, শহর থেকে গ্রামগুলি অনেকটা দূরে হওয়ায় কিছু পরিবার হাতুড়ে ডাক্তারের দ্বারস্থ হয়েছিল, যার ফলে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না মেলায় পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করে। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত না হওয়ায় এলাকায় চরম আতঙ্ক রয়েছে।
মানুষের ভয় দূর করতে এবং আরও মৃত্যু ঠেকাতে সালুম্বার জেলা প্রশাসন গত তিনদিন ধরে গ্রামগুলিতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।
Rajasthan
রাজস্থানের সালুম্বারে এনসেফালাইটিসে ৫ শিশুর মৃত্যু
×
Comments :0