North Bengal

শীতের আমেজে বোরলী মাছে চাহিদা উত্তরবঙ্গে

রাজ্য জেলা

দীপশুভ্র সান্যাল

ইংরেজি নববর্ষের শুরুতেই উত্তরবঙ্গের মাছের বাজারে চড়েছে পারদ। শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি শহরের অভিজাত বাজার থেকে শুরু করে সীমান্তবর্তী হাট— সর্বত্রই তিস্তার জনপ্রিয় নদিয়ালি মাছ বোরলীর দাপট। কেজি প্রতি হাজার থেকে ১৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে দাম। ডুয়ার্সের গরুমারা, জালদাপাড়া, চাপরামারি, লাটাগুড়ি, মূর্তি, রাজাভাতখাওয়া, সামসিং–সুনতালেখোলা, বক্সা ও জলঢাকা— এই সব পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে শীতের মরশুমে ভিড় বাড়তেই বোরলী ও বোয়াল মাছের চাহিদা তুঙ্গে। পর্যটকদের জন্য হোটেল–রিসর্ট গুলিতে নদিয়ালি মাছের বিশেষ পদ থাকায় বাজারেও তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে।
এই চড়া দামের মধ্যেই স্বস্তির ছবি ধরা পড়ছে জলপাইগুড়ির তিস্তা–করলা সংযোগ মোহনায়। পর্যটকদের মানচিত্রে প্রায় অচেনা এই এলাকাতেই এখন ভরপুর মাছের দেখা মিলছে। শীতের শেষে জলস্তর কমতেই ভোরের আলো ফোটার আগেই জাল কাঁধে নিয়ে তিস্তায় নামছেন জেলেরা। বোরলী ও বোয়ালের পাশাপাশি ধরা পড়ছে পাবে, খলিশা, টেংরা, গাঙমাগুর, চেং, আইড় ও কাতলা জাতীয় নানা নদিয়ালি মাছ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিস্তা নদীর বাহির চর, পদমতি, বোয়ালমারী, ময়নাগুড়ির ঘুঘুডাঙ্গা এলাকা, রাজগঞ্জ ব্লকের বিভিন্ন চর, মালবাজার সংলগ্ন তিস্তা ঘাট, ক্রান্তি ও তিস্তা ব্যারাজ সংলগ্ন অঞ্চলে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বোয়াল ও বোরলী মাছ পাওয়া যাচ্ছে। বোয়ালমারী প্রধান পাড়া বাজারে তিস্তার টাটকা বোয়াল মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি প্রায় ৪০০ টাকায়।
বোরলী মাছ শুধু স্বাদের জন্য নয়, আবেগের কারণেও বাঙালির কাছে বিশেষ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর প্রিয় মাছ হিসেবেও বোরলীর আলাদা পরিচিতি রয়েছে। পর্যটকদের কাছেও তিস্তার বোরলী এখন বড় আকর্ষণ।
বাহির চর পদমতি এলাকার মৎস্য বিক্রেতা রুহিদা জানান, বর্তমানে তিস্তা নদীতে যথেষ্ট বোয়াল মাছ মিলছে এবং মাছগুলি খুবই টাটকা। তবে জেলেদের কথায়, সিকিমের ভয়াবহ বন্যার সময় বিষক্রিয়ায় তিস্তার অধিকাংশ মাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই ধাক্কা পুরোপুরি কাটেনি। তবু এবছর মোটামুটি ভালোই মাছ মিলছে।
শীতের কুয়াশা, ঠান্ডা হাওয়া আর জাল ফেলার শব্দে তিস্তা যেন আবার প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। বোয়াল–বোরলী ফিরতেই মৎস্যজীবীদের মুখে হাসি, আর মাছে-ভাতে বাঙালি পর্যটক থেকে স্থানীয় মানুষের থালায় ফিরছে নদীর স্বাদ।

Comments :0

Login to leave a comment