শুক্রবার রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে নীতীশ কুমারের শপথ গ্রহণের পর বিহারের রাজনৈতিক মহলে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। এনডিএ’র অন্দরে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে জল্পনা।
বিজেপির অন্দরে মূলত দুটি নাম সবচেয়ে বেশি চর্চায় রয়েছে। রাজ্যের বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই। জোটের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী রণকৌশল বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে সম্রাট চৌধুরি এগিয়ে আছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, নিত্যানন্দ রাই সাংগঠনিক গভীরতা এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নৈকট্যের কারণে তাকে নিয়েও চলছে জল্পনা।
বিহার বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি হিসেবে তার নীচতলার সাথে যোগাযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বর্তমান দায়িত্ব তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও মজবুত করেছে।
রাইয়ের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হলো তার যাদব পরিচয়। যাদব সম্প্রদায় আরজেডি-র ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত। রাইকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরে বিজেপি আরজেডি-র এই মজবুত দুর্গে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করতে পারে, যা বিহারের নির্বাচনী সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।
রাইয়ের সামনে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় কাটানোর ফলে সম্রাট চৌধুরীর তুলনায় রাজ্য প্রশাসনে তার অভিজ্ঞতা কিছুটা কম। একটি রাজ্য সরকার চালানোর জন্য স্থানীয় স্তরে যে ধারাবাহিক সংযোগ প্রয়োজন, সেখানে তিনি কিছুটা পিছিয়ে। এছাড়া, বিহারে বিজেপির মূল রণকৌশল এতদিন ছিল মূলত 'অ-যাদব ওবিসি' ভোট একত্রিত করা। একজন যাদব নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসালে দলের দীর্ঘদিনের সেই কৌশলে বদল আসবে, যা দলের অন্দরে বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
রাইকে যাদব মুখ হিসেবে তুলে ধরলে তা বিজেপির জন্য দীর্ঘমেয়াদী লাভ আনতে পারে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিহারের প্রায় ১৪ শতাংশ যাদব ভোটের দখল নেওয়া বিজেপির অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে। পাশাপাশি, এর প্রভাব পড়তে পারে প্রতিবেশী উত্তরপ্রদেশেও, যেখানে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের মূল শক্তি হলো এই যাদব ভোটব্যাঙ্ক।
Bihar
বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে? সম্রাট চৌধুরী নাকি নিত্যানন্দ রাই?
×
Comments :0